| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘প্রশান্ত মহাসাগরে এশিয়া…’ হলিক্রস কলেজ ২০২৫ – শিল্প, ভূগোল, ভূগোল ২য় পত্র (এইচএসসি)

প্রশান্ত মহাসাগরে এশিয়া মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত চারটি বৃহৎ দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত এই দেশের প্রধান শিল্প গড়ে ওঠেছে তুলাকে কেন্দ্র করে। অপরদিকে উত্তর আমেরিকার অন্তর্গত ৫০টি অঙ্গরাজ্যবিশিষ্ট একটি দেশে গড়ে ওঠেছে সময়োপযোগী অন্য একটি শিল্প যার কাঁচামাল লৌহ আকরিক। দুটি শিল্পই দুটো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
কোনো একটি শিল্পের অধিক সংখ্যক কারখানা বা প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট দেশে বা অঞ্চলে গড়ে ওঠা বা কেন্দ্রীভূত হওয়াকে শিল্পের কেন্দ্রীয়করণ বা শিল্পের স্থানীয়করণ বলে।
শিল্প একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। শিল্পের বিকাশের জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য, বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। সরকার ঋণ, ভর্তুকি ও কর ছাড়ের মাধ্যমে নতুন শিল্প গড়ে তুলতে পারে। এছাড়াও শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতপূর্ণ দেশটি হলো জাপান। এদেশে প্রধান শিল্প হিসেবে গড়ে উঠেছে কার্পাস বয়ন শিল্প। উক্ত শিল্পের উৎপাদন ও বণ্টন নিচে আলোচনা করা হলো:
কাপাস বয়ন শিল্পে জাপান বর্তমান বিশ্বে অন্যতম। উন্নত কারিগরি জ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যা জাপানকে কার্পাস বয়ন শিল্পে সমৃদ্ধ করেছে। ১৮৬০ সালের জাপানের কাগোসিমাতে সর্বপ্রথম কার্পাস বয়ন শিল্প স্থাপিত হয়। বর্তমানে জাপান বিশ্বের পঞ্চম কার্পাস বস্তু উৎপাদনকারী দেশ হলেও রপ্তানিতে প্রথম।
| সাল | উৎপাদন (কোটি বর্গমিটারে) |
| ১৯৯৫ | ৮৫.৫ |
| ১৯৯৬ | ৭৬.৩ |
| ১৯৯৭ | ৭৬.৩ |
| ১৯৯৮ | ৯১.২০ |
জাপানের কার্পাস উৎপাদন
উৎস: UNO মাসিক পরিসংখ্যান বুলেটিন- জুলাই ২০০০
জাপানের কার্পাস বয়ন শিল্প দেশের সব জায়গায় গড়ে উঠে নি। জাপানের হনসু দ্বীপ অঞ্চল ও কিউসু দ্বীপ অঞ্চল এলাকায় এ শিল্প সমৃদ্ধি লাভ করেছে।
উদ্দীপকে দ্বিতীয় দেশ বলতে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানো হয়েছে। উক্ত দেশের লৌহ ও ইস্পাত শিল্প গড়ে উঠার কারণগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:
কাঁচামাল: প্রকৃতি হতে আহরিত কাঁচামালের রূপান্তরই শিল্প উৎপাদনের মূলকথা। লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের জন্য কাঁচামাল হিসেবে আকরিক লৌহ ব্যবহার করা হয়। যেমন- যুক্তরাষ্ট্রের পিটস্বার্গ অঞ্চল, সুপিরিয়র হ্রদ অঞ্চল এবং মধ্য আটলান্টিক অঞ্চলে স্থানীয় লৌহ আকরিক পাওয়া যায় বলে এসকল অঞ্চলে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প গড়ে উঠেছে।
শক্তিসম্পদ: শিল্প গড়ে ওঠার জন্য শক্তিসম্পদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিল্প চালনা করার জন্য শক্তি প্রয়োজন। তাই যুক্তরাষ্ট্রের লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে অ্যাপালেশিয়ানের উৎকৃষ্ট কয়লা ব্যবহার করে শিল্পের চাহিদা অনেকাংশে মিটিয়ে থাকে। এছাড়া কিছু কয়লা আমদানি করে থাকে।
পরিবহন ব্যবস্থা: যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঞ্চলে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প গড়ে উঠেছে সেখানে সমুদ্রপথ ও স্থলপথে সহজেই কাঁচামাল, শক্তিসম্পদ ও শিল্পে উৎপাদিত পণ্য আনা-নেওয়া করা যায়। যেমন-যুক্তরাষ্ট্রের হ্রদ অঞ্চলের লৌহ ও শিল্পের কথা বলা যায়। জাহাজে পিটস্বার্গ অঞ্চলে লৌহ আকরিক নিয়ে গিয়ে ফেরার পথে কয়লা হ্রদ অঞ্চলের শিল্পের জন্য নিয়ে আসে। এতে পরিবহন খরচ অনেকটা কম হয়।
দক্ষ ও সুলভ শ্রমিক: শিল্পের জন্য দক্ষ ও সুলভ শ্রমিক অপরিহার্য। যেমন- যুক্তরাষ্ট্রের পিটস্বার্গ অঞ্চলে সুলভ ও দক্ষ শ্রমিক পাওয়া যায় বলে এ অঞ্চলে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প গড়ে উঠেছে।
সুতরাং বলা যায় যে, উপরোল্লিখিত কারণগুলোর আলোকে যুক্তরাষ্ট্রে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পকেন্দ্রগুলো গড়ে উঠেছে। এছাড়া যেসব অঞ্চল নাতিশীতোষ্ণ সেসব অঞ্চলে শিল্পগুলো গড়ে উঠেছে।