| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী…’ a – বাঙালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময় বিশ্বব্যাপী মূল্যবোধের অবক্ষয়, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, হতাশা ও হাহাকারে উপমহাদেশ ছিল নানা অভিঘাতে বিপর্যস্ত ও রূপান্তরিত। এমনই এক পরিবেশে কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) তাঁর ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতায় বিনির্মাণ করলেন শাশ্বত কল্যাণ ও সাম্যবাদের মহাকাব্যিক এক আশাবাদী জগৎ। তিনি কলম তুলে নিলেন শোষণ-বঞ্চনাহীন, শ্রেণিবৈষম্যহীন, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক এক জগৎ সৃষ্টি করতে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সাম্যের গান গাইলেন। এক সময় তিনি হয়ে উঠলেন ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি-গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকার আদায়ের কলমসৈনিক। শোষণ, বঞ্চনা ও সকল প্রকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর বিদ্রোহ আজও আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো- ধর্ম ও সত্য।
সাহিত্যের উদ্দেশ্য থেকে যারা দূরে সরে গেছেন তাদের উদ্দেশ্য করে লেখক প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
প্রাবন্ধিকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো- সত্য ও ধর্মের পথে থাকা। সত্য ও ধর্ম সাহিত্যে অনিবার্যরূপে থাকতে হবে। যারা সাহিত্যে অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ বিষয়, পরনিন্দা বা পরপীড়ন ও স্বার্থের বিষয় নিয়ে আসেন তারা সত্য ও ধর্ম থেকে বিচ্যুত। সত্য ও ধর্ম ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী ধারণকে লেখক মহাপাপ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
উদ্দীপকে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যসাধনা 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধের সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে মানুষের মঙ্গল সাধনের বৈশিষ্ট্যটির প্রতিফলন ঘটেছে।
মানুষই সাহিত্যচর্চার মূল উপাদান। সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ কীভাবে সম্ভব তা একজন সাহিত্যিকের চিন্তার অন্যতম বিষয়। মানুষের কল্যাণ না হলে সাহিত্যচর্চা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
উদ্দীপকের কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর রচনায় বিনির্মাণ করেন শাশ্বত কল্যাণ ও সাম্যবাদের এক মহাকাব্যিক জগৎ। তিনি তাঁর লেখায় তুলে আনেন শোষণ-বঞ্চনাহীন, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক এক জগৎ। তিনি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জন্য কলম ধরেন। মূলত সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তিনি মানুষের কল্যাণচিন্তা করেছেন। আলোচ্য প্রবন্ধেও প্রাবন্ধিক এমন কথাই বলেছেন। প্রাবন্ধিক বলেন, লিখে দেশের বা মানুষ জাতির যদি মঙ্গল সাধন করা সম্ভব হয় তবেই লেখা উচিত। কারণ যে সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের কোনো মঙ্গল সাধন হয় না সেই সাহিত্য মহৎ সাহিত্য হতে পারে না। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যসাধনা আলোচ্য প্রবন্ধের সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে মানুষের মঙ্গল সাধনের বৈশিষ্ট্যটির প্রতিফলন ঘটেছে।
হ্যাঁ, বাংলার নতুন লেখকদের প্রতি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নিবেদন উদ্দীপকে যথার্থভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
সাহিত্য মানুষের কথা বলে। সাহিত্যের মাধ্যমে একটি জাতির স্বরূপ উন্মোচন করা সম্ভব। কারণ একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার চিত্র সাহিত্যের মাধ্যমে ফুটে ওঠে।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বব্যাপী মূল্যবোধের অবক্ষয়, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, হতাশা ও হাহাকারে উপমহাদেশ ছিল নানা অভিঘাতে বিপর্যন্ত। ঠিক এ সময়ে কাজী নজরুল ইসলাম ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতায় নির্মাণ করেন শাশ্বত কল্যাণ ও সাম্যবাদের মহাকাব্যিক জগৎ। তিনি লেখার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক এক জগৎ সৃষ্টি করেন। সাহিত্যের মাধ্যমে মূলত তিনি মানুষের কল্যাণের কথাই বলতে চেয়েছেন। সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ সাধনের বিষয়টি আলোচ্য প্রবন্ধেও প্রকাশিত হয়েছে।
আলোচ্য প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকও চেয়েছেন নতুন লেখকরা সাহিত্যের মধ্য দিয়ে মানুষ ও মানুষের কল্যাণের কথা বলবে।। আলোচ্য প্রবন্ধে লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নতুন লেখকদের প্রতি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম একটি পরামর্শ হলো- সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে যদি মানবজাতির মঙ্গল করা যায় তবেই সাহিত্যচর্চা করা উচিত। উদ্দীপকেও সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের মঙ্গল সাধনার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, বাংলার নতুন লেখকদের প্রতি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যয়ের নিবেদন উদ্দীপকে যথার্থভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।