| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে…’ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ২০২৪ – আল, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র (এইচএসসি)

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নগর ভবনে বৃক্ষমেলা হয়। জনাব শহিদ উক্ত মেলা থেকে দুই হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ ক্রয় করে রাস্তার দুই পাশে সেগুলো রোপণ করেন। অন্যদিকে, তার বন্ধু জনাব জাহিদ চিকন চালের সাথে মোটা চাল মিশিয়ে বিক্রি করে অধিক মুনাফা অর্জন করেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
যিনি হাদিস বর্ণনা করেন তাঁকে রাবী বলা হয়।
সাদকায়ে জারিয়াহ বলতে এমন দান খয়রাতকে, বোঝায় যার সওয়াব মৃত্যুর পরও পাওয়া যায়।
সাদকায়ে জারিয়াহ আরবি শব্দ। সাদকা শব্দের অর্থ দান করা এবং জারিয়াহ শব্দের অর্থ প্রবাহমান, সদাস্থায়ী প্রভৃতি। পরিভাষায় সাদকায়ে জারিয়াহ হলো এমন দান যার কার্যকারিতা কখনো শেষ হবে না বরং তা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ পৃথিবী যতদিন থাকবে ততদিন পর্যন্ত সাদকাকারী এর সওয়াব পেতেই থাকবে।
জনাব শহিদের কাজে পাঠ্যবইয়ের বৃক্ষরোপণ সম্পর্কিত হাদিসের শিক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে।
মানুষের জীবনযাত্রায় সবুজ বৃক্ষ ও ফসলের অবদান অপরিসীম। বৃক্ষরোপণ বা ফসল ফলানোর মাধ্যমে শুধু মানুষই নয় বরং পশুপাখি এবং অন্যান্য প্রাণীরাও উপকৃত হয়। এজন্য মহানবি (স) বৃক্ষরোপণ ও ফসল ফলানোকে সাদকা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। যেমন মহানবি (স) ইরশাদ করেছেন, 'কোনো একজন মুসলিম যদি একটি গাছ লাগায় বা ফসল উৎপাদন করে; পরে তা থেকে যদি কোনো মানুষ কিংবা কোনো পশু বা পাখি আহার করে, তবে তা অবশ্যই সে ব্যক্তির জন্য সাদকা হবে' (বুখারি ও মুসলিম)। শহিদের কাজে এরই প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব শহিদ প্রতিবছর বৃক্ষমেলা থেকে দুই হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ ক্রয় করে রাস্তার দুই পাশে রোপণ করেন। জনাব শহিদের এ কাজ নিঃসন্দেহে একটি জনকল্যাণমূলক কাজ। তিনি একাজের মাধ্যমে সাদকা করার সওয়াব অর্জন করবেন। আর তিনি এ মহৎ কাজের শিক্ষা লাভ করেছেন রাসুলল্লাহ (স)-এর বৃক্ষরোপণ সম্পর্কিত হাদিস থেকে। সুতরাং বলা যায় যে, জনাব শহিদের কাজে পাঠ্যবইয়ের বৃক্ষরোপণ সম্পর্কিত হাদিসের শিক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে।
জনাব জাহিদের কাজে প্রতারণার মত গর্হিত অপরাধ প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রতারণা মিথ্যারই এক বিশেষ রূপ। এর অর্থ ঠকানো, ফাঁকি দেওয়া, ধোকা দেওয়া, বিশ্বাস ভঙ্গ করা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, প্ৰকৃত অবস্থা গোপন রেখে ফাঁকি বা ধোঁকার ওপর ভিত্তি করে নিজ স্বার্থ হাসিল করাকে প্রতারণা বলা হয়। প্রতারণা নানাভাবে হতে পারে। যথা- ওজনে কম দেওয়া, জাল মুদ্রা চালিয়ে দেওয়া, পণ্য দ্রব্যের দোষ গোপন করা, ভেজাল মেশানো, ফলে ও মাছে রাসায়নিক দ্রব্য দেওয়া ইত্যাদি। আর জনাব জাহিদের চিকন চালের সাথে মোটা চাল মেশানোর কাজটি প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব জাহিদ চিকন চালের সাথে মোটা চাল মিশিয়ে অধিক মুনাফা অর্জন করেন। অর্থাৎ তিনি প্রতারণার মাধ্যমে অধিক অর্থ উপার্জন করেন। প্রতারণার কারণে জনাব জাহিদকে পরকালে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। কেননা প্রতারণা অত্যন্ত গর্হিত ও ঘৃণিত কাজ। যে প্রতারণা করে সে প্রকৃত মুমিন নয়। প্রতারণাকারী দুনিয়াতেও ঘৃণিত, লজ্জিত ও অপদস্থ হয়। আর আখিরাতে তার জন্য রয়েছে দুর্ভোগ ও ধ্বংস। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, 'ধ্বংস তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়' (সুরা মুতাফ্ফিফীন : ১)। প্রতারণার ব্যাপারে হুশিয়ারি করে মহানবি (স) বলেছেন, যে প্রতারণা করে সে আমার দলভুক্ত নয় (মুসলিম)। অর্থাৎ প্রতারণাকারীকে ইহকালে লাঞ্ছনা, অপমান আর পরকালে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।