| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘”প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২২ – পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (১৯৪৭, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

“প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলো এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করেই ছাড়বো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের ১৬৭ টি এবং প্রাদেশিক পরিষদের ২৯৮ টি আসন লাভ করে।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬ দফা দাবি পেশ করেন। পূর্ব পাকিস্তানের ৬ দফা ভিত্তিক আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগরতলা মামলা দায়ের করেন। তারপর ছাত্র সমাজ পাকিস্তান সামরিক সরকারের স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে বিশেষ করে আগরতলা মামলা প্রত্যাহার সহ এ মামলার সকল আসামীর বিনা শর্তে মুক্তি ও অন্যান্য যৌক্তিক দাবিতে ১৯৬৯ সালে ৫ জানুয়ারি ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। একপর্যায়ে ছাত্র জনতার এই আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানের রূপ নেয়। ইতিহাসে এর গণঅভ্যতা নেই ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের ঐতিহাসিক ভাষণটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিয়েছিলেন। তিনি পাকিস্তানের শাসকদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি কে সংগ্রামী চেতনায় উজ্জীবিত করার জন্য উক্ত ভাষণ প্রদান করেছিলেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বক্তব্যটি যে ভাষণের অংশবিশেষ তা হল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকায় পল্টন ময়দানে খাজা নাজিমুদ্দীন উর্ধ্বকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয় এবং প্রাণের বিনিময়ে বাঙালিরা মায়ের ভাষা বাংলাকে রক্ষা করে। ভাষা আন্দোলন বাংলার মানুষের নিজেদের অধিকারের চেতনায় জায়গাটি পাকাপোক্তভাবে তৈরি। পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফন্টের বিজয় পূর্ব বাংলার নাগরিকদের রাজনৈতিক চেতনাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। কালক্রমে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সব দিক থেকে শোষিত এ জাতি ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবি ছিল প্রানের দাবি। এ দাবি বাঙালির স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি হিসেবে স্বাধীনতার পথে এক ধাপ এগিয়ে যায়। এ প্রেক্ষাপটে মৌলিক গণতন্ত্র, আগরতলা মামলা ও আইয়ুব খানের নির্যাতনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ও ভাই অংশে ১৯৬৯ সালে এক ব্যাপক ও দুর্বার গণ আন্দোলন শুরু করে। ৭০ এর নির্বাচনে জয় লাভের পর ও পাকিস্তানি প্রশাসন পূর্ব বাংলা কর্তৃ মেনে নেয় না এবং তারা নানারকম ষড়যন্ত্রের আশ্রয় গ্রহণ করে। ইয়াহিয়া খান ১ মার্চ ১৯৭১ সালে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করেন। ফলে বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে পারে তারা বাঙ্গালীদের হাতে ক্ষমতা স্থানান্তর করবে না। ঠিক এ সময় বঙ্গবন্ধু চার দফা দাবি পেশ করার ৭ মার্চের ভাষণ প্রদান করেন। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ঘরে ঘরে গুরুর দুর্বল গড়ে তোলার এবং যার যা কিছু আছে তা নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার পরামর্শ দেন। ফলে পূর্ব বাংলার মানুষ সংগ্রামী চেতনায় উদ্যোগ হয়ে ওঠে।যার ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
উদ্দীপকে ভাষণটি অর্থাৎ সাত মার্চের ভাষণটি ছিল বাংলাদেশের পরোক্ষ স্বাধীনতার ঘোষণা- উক্তিটি যথার্থ। কারণ এই ঘোষণার মাধ্যমে বাঙালি জাতির স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের ৭ মার্চের যে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন তা বাঙালির ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যবহুল ঘটনা। এ ভাষণের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার জনগণ স্বাধীনতা আদায়ের সংগ্রামে অংশ নিয়ে উদ্বুদ্ধ হয়। উক্ত ভাষণ থেকে বাঙালির জনগণ ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা ও মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনা লাভ করে। শুধু তাই নয়, সাত মাসের ভাষণে বাঙালিকে দেশাত্মবোধ উদ্ভূত করে এবং তাদেরকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত করে। এরই ফলশ্রুতিতে বাঙালি জাতি স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটাতে রক্তক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং স্বাধীন করে বাংলাদেশকে স্বাধীনতায় উদ্দীপ্ত বাঙালি জাতির জন্য ৭ মার্চের ভাষণ ছিল মাইলফলক।
তাই আলোচনার পরিশেষে বলা যায় বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ ছিল বাঙালি জাতীয়তার প্রেরণাদায়ী ঐতিহাসিক ঘোষণা। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা অর্জনের ঘোষনা সরাসরি না দিলেও পরোক্ষভাবে তিনি স্বাধীনতা অর্জনের জন্য আন্দোলনে ডাক দেন। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা পাওয়া গিয়েছিল।