| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পুরাতন আম গাছের…’ a – শৈবাল ও ছত্রাক, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

পুরাতন আম গাছের বাকলে ও ভেজা দেয়ালের উপর ধূসর সবুজ বর্ণের মিশ্রণে সমাঙ্গদেহী পত্রসদৃশ কিছু জীব দেখতে পাওয়া যায়। জীববিজ্ঞানের শিক্ষক জীবটি সম্পর্কে ছাত্রদেরকে জানাতে গিয়ে বললেন, এটি হচ্ছে দুটি জীবের সহাবস্থান। [ঢাকা বোর্ড ২০১৫]
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
ভাইরাস হলো নিউক্লিক এসিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত অতি আণুবীক্ষণিক অকোষীয় বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয়ে রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে।
টান্সক্রিপশন হচ্ছে প্রোটিন সংশ্লেষণের প্রথম ধাপ যা নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে ঘটে। যেখানে DNA থেকে RNA সৃষ্টির প্রকিয়া চলে তাকে ট্রান্সক্রিপশন বা প্রতিলিপন বলে। DNA-এর যতটুকু অংশ নিরবিচ্ছিন্নভাবে একটি RNA অণু সৃষ্টি করে তাকে ট্রান্সক্রিপশন একক বলা হয়। একটি ট্রান্সক্রিপশন এককে প্রোমোটার, শুরুর বিন্দু এবং শেষবিন্দু এ তিনটি অংশ আছে।
জীববিজ্ঞানের শিক্ষক উদ্দীপকে যে জীবটি সম্পর্কে ছাত্রদের জানালেন তাহলো 'লাইকেন' যা শৈবাল ও ছত্রাকের সহাবস্থানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এক আদর্শ মিথোজীবী জীবন ব্যবস্থা। নিচে লাইকেনের অন্তর্গঠন আলোচনা করা হলো-
লাইকেন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও বিষমপৃষ্ঠ থ্যালাসবিশিষ্ট উদ্ভিদ। যার প্রস্থচ্ছেদ মাইক্রোস্কোপে দেখা যায় যে, ঊর্ধ্ব কর্টেক্স অঞ্চলটি ছত্রাকের অসংখ্য হাইফি দিয়ে গঠিত।
হাইফি অত্যন্ত ঘনভাবে বিন্যস্ত থাকে বলে হাইফির মাঝে কোষ ফাঁক নেই। ফাঁক থাকলেও ফাঁকা স্থানগুলো মিউসিলেজ জাতীয় পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে। এ অঞ্চল বেশ পুরু ও বহিঃত্বকের মতো কাজ করে। ঊর্ধ্ব • কর্টেক্সের পরের অংশটি সবুজ বা নীলাভ সবুজ যেখানে অল্পসংখ্যক হাইফি ও পর্যাপ্ত পরিমাণে শৈবাল থাকে। একটি প্রজাতির লাইকেনে সর্বদা এক ধরনের শৈবাল থাকে। কতকগুলো প্রজাতিতে হাইফি হতে শৈবাল কোষে হস্টোরিয়া প্রবেশ করে। সবুজ অংশ তথা শৈবাল অঞ্চলের নিচে ফাঁকাভাবে বিন্যস্ত থাকে। ছত্রাকের হাইফি দিয়ে গঠিত মেডুলা অঞ্চল। এ অঞ্চলের হাইফি বেশ পুরু। হাইফি থ্যালাসের প্রান্তের দিকে বেশ পাতলা কিন্তু কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ঘনভাবে সন্নিবিষ্ট। মেডুলা অঞ্চলের হাইফি শাখা-প্রশাখা বিভিন্ন দিকে বিস্তৃত। মেডুলা অঞ্চলের নিচে নিচে ঘনভাবে সন্নিবিষ্ট এবং থ্যালাসের সাথে উল্লম্বভাবে বা আনুভূমিক তলে বিস্তৃত ছত্রাকের হাইফিকে নিম্ন কর্টেক্স বলে। এ অঞ্চল থেকেই রাইজয়েড সদৃশ উপবৃদ্ধি বা রাইজাইনগুলোর জন্ম হয়। রাইজাইনগুলো লাইকেন থ্যালাসকে অবলম্বনের সাথে সংলগ্ন রাখে এবং খাদ্যরস শোষণ করতে সাহায্য করে। রাইজান হলো দেহের নিম্নাংশে চুলের ন্যায় একটি অঙ্গ, যা মূলের মতো কাজ করে থাকে।
উদ্দীপকে জীববিজ্ঞান শিক্ষক ছাত্রদের সাথে যে জীবটি নিয়ে আলোচনা করেছেন তা হলো লাইকেন। নিচে 'লাইকেনের' পরিবেশীয় গুরুত্ব আলোচনা করা হলো-
শুষ্ক পার্বতগাত্র বা মরু অঞ্চলে যেখানে অন্য কোনো জীব জন্মাতে পারে না সেখানে লাইকেন মাটি গঠনে সাহায্য করে। লাইকেন হলো কঙ্করময় মরুভূমির বা বরফ আচ্ছাদিত তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রথম প্রাণ। লাইকেন পাথুরে মরুভূমিতে তার নিঃসৃত CO₂ সাথে বৃষ্টির পানি অথবা জলীয়বাষ্প মিশে কার্বনিক এসিড সৃষ্টি হয়। যা পাথর বিচূর্ণ করে। সেখানে লাইকেনের মৃতদেহাবশেষ জমে হিউমাস গঠিত হয়। এ হিউমাসেই পরবর্তীতে উন্নত উদ্ভিদ জন্মানোর জন্য উষর পাথুরে অঞ্চলে মাটির সৃষ্টি করে। আবার সেখানে উন্নত উদ্ভিদ জন্মানোর ফলে বিভিন্ন পশু পাখির আবাসস্থলে পরিণত হয়। কারণ লাইকেন বিভিন্ন কীটপতঙ্গ ও পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এভাবে সেখানে জীববৈচিত্র্য তৈরি হয়। অর্থাৎ উষরভূমি উর্বরভূমিতে রূপান্তরিত হয়। বেশ কিছু লাইকেন বায়ুর দূষণের নিদের্শক হিসেবে বিবেচিত। কিছু লাইকেন আবার বিষাক্ত যা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। কিছু লাইকেন • আবার ঐতিহাসিক স্থাপনায় অথবা ভাস্কর্য জন্মে সৌন্দর্যহানিও করে। যদিও লাইকেনের সামান্য কিছু অপকারী দিক আছে তবুও লাইকেন হলো উদ্ভিদ ক্রমাগমনের সাহসী সৈনিক। লাইকেনই পারে সাহারাকে আমাজানে এবং আলাস্কাকে গ্রীনল্যান্ডে রূপান্তরিত করতে।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, লাইকেন তথা উদ্দীপকের জীবটি হলো সবুজ বিপ্লবের প্রথম প্রাণ যার পরিবেশীয় গুরুত্ব অবর্ণনীয়।