| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পুরুষ হৃদয়হীন,মানুষ করিতে…’ পুরুষ হৃদয়হীন – অর্ধাঙ্গী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

|
পুরুষ হৃদয়হীন, মানুষ করিতে নারী দিল তারে আধেক হৃদয় ঋণ।ধরায় যাঁদের যশ ধরে না’ক অমর মহামানব,বরষে বরষে যাঁদের স্মরণে করি মোরা উৎসব, |
খেয়ালের বশে তাঁদের জন্ম দিয়াছে বিলাসী পিতা। লব-কুশে বনে ত্যাজিয়াছে রাম, পালন করেছে সীতা: নারী সে শিখাল শিশু-পুরুষেরে স্নেহ, প্রেম, দয়া, মায়া, দীপ্ত নয়নে পরাল কাজল বেদনার ঘন ছায়া। |
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, 'আমাদের একটি রোগ আছে'- রোগটি হচ্ছে দাসত্ব।
➤ দাসত্বকে মানসিক রোগ বলার কারণ হলো- দাস হয়ে থাকার প্রবণতাকে স্বীকার করে নেওয়া।
➤ দাস মানে অন্যের অধীন থেকে তার নির্দেশানুযায়ী জীবন পরিচালিত করা এবং নিজের মৌলিক অধিকারকে অস্বীকার করা। প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমান অধিকার রয়েছে। কোনো কোনো জাতি বা মানুষ মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। দীর্ঘদিনের চর্চার কারণে অন্যের অধীনে জীবনযাপন করতে বাধ্য থাকে বা অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। মানসিকতার এ দরিদ্র অবস্থার কারণেই দাসত্বকে মানসিক রোগ বলা হয়েছে।
সারকথা: অন্যের অধীন থেকে জীবন পরিচালিত করার নাম দাসত্ব। মানসিকতার এ দরিদ্র অবস্থার কারণেই দাসত্বকে মানসিক রোগ বলা হয়েছে।
➤ উদ্দীপকে নারীর প্রতি পুরুষের অবহেলার দিকটি 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ পুরুষশাসিত সমাজে নারীরা নানাভাবে অবহেলার শিকার হয়। সমাজে সর্বক্ষেত্রে তাদের পরীক্ষা দিয়ে টিকে থাকতে হয়। যতদিন নারীরা সচেতন ও আত্মমর্যাদা বোধসম্পন্ন না হবে ততদিন তারা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবে।
➤ উদ্দীপকে পুরুষকে হৃদয়হীন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। নারী-হৃদয়ের ভালোবাসা, সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা সমাজে পুরুষদের সফলতার মূল চাবিকাঠি। সর্বোপরি অনেক ত্যাগের মধ্য দিয়েও তারা সম্মান ও ভালোবাসার পরিবর্তে বেদনা বা কষ্টে জর্জরিত। পদে পদে তারা উপেক্ষিত। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধেও প্রতিফলিত হয়েছে- পুরুষশাসিত সমাজে নারীরা যথার্থ মূল্য ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। তাদেরকে সমাজে, পরিবারে কোনোরূপ মূল্য ও মর্যাদা দেওয়া হয় না। অথচ সমাজের ও পরিবারের অগ্রগতির ক্ষেত্রে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এভাবে নারীর প্রতি অবহেলার দিকটির সঙ্গে উদ্দীপক ও 'অর্ধাঙ্গী প্রবন্ধের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
সারকথা: উদ্দীপকে পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের অবহেলার শিকার হওয়ার দিকটির সঙ্গে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের নারীর প্রতি অবহেলার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
➤ "সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করে না।" মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ প্রাচীনকাল থেকেই নানাভাবে বঞ্চনার শিকার হতে হতে নারীরা তাদের মানসিক শক্তি হারিয়ে পুরুষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমও ঘটেছে। তারা অধিকারসচেতন হয়ে প্রতিবাদ করেছে।
➤ 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের গোড়ায় ভারতবর্ষে পুরুষশাসিত সমাজ জীবনে নারীর প্রতি অবহেলার দিকটি তুলে ধরেছেন। এই দিকটি উদ্দীপকে প্রতিফলিত নারীর প্রতি অবহেলার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই দিকটি ছাড়াও 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক মুসলমান নারী সমাজের পশ্চাৎপদতা, দুর্বহ জীবন ও অধিকারহীনতার দিকটি নির্দেশ করেছেন। যার মূলে রয়েছে স্বার্থপর পুরুষের হীন মানসিকতা। অথচ তারা পুরুষের সার্বিক সাফল্যের সহযোগী; তাদের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়ে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
➤ 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক পৌরাণিক কাহিনির বিভিন্ন চরিত্র এবং তার বৈশিষ্ট্যের যে আলোচনা করেছেন তার প্রতিফলন উদ্দীপকে থাকলেও তা খন্ডিত, পূর্ণাঙ্গ নয়। লেখক এই রচনায় নারীজাগরণের পক্ষে যে সুচিন্তিত, দৃঢ় ও বলিষ্ঠ মতামত দিয়েছেন তা উদ্দীপকে নেই। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: নারীর প্রতি অবহেলা, অমর্যাদা এবং পৌরাণিক কাহিনির অবতারণা উদ্দীপকে থাকলেও 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে, নারীজাগরণের ক্ষেত্রে লেখকের যে বলিষ্ঠ মতামত প্রকাশিত হয়েছে তা উদ্দীপকে নেই। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।