| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’R’ হলো মায়োসিস-১…’ রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘R’ হলো মায়োসিস-১ কোষ বিভাজনের দ্বিতীয় পর্যায়। এই পর্যায়ে দ্বিমেরু বিশিষ্ট স্পিন্ডল যন্ত্র তৈরি হয়। ‘S’ হলো মায়োসিস-১ কোষ বিভাজনের তৃতীয় পর্যায়। এই পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলো V, L, I বা J আকৃতির দেখায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
টেট্রাড হলো প্রতি জোড়া হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের চারটি ক্রোমাটিড।
কোষ বিভাজনের সময় স্পিন্ডল যন্ত্রের যে বিশেষ তন্তুগুলো ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ারের কাইনেটোকোর অংশের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে, তাদের ক্রোমোজোমাল তন্তু বলা হয়। এই তন্তুগুলো মূলত মাইক্রোটিউবিউল নামক প্রোটিন নির্মিত ক্ষুদ্র নালিকা দিয়ে গঠিত যা কোষের এক মেরু থেকে ক্রোমোজোম পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। এই তন্তুগুলো মেটাফেজ পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলোকে কোষের মাঝখানে বা বিষুবীয় অঞ্চলে সারিবদ্ধভাবে সাজাতে সাহায্য করে।
উদ্দীপকে 'R' দ্বারা মায়োসিস-১ কোষ বিভাজনের মেটাফেজ-১ পর্যায়কে বোঝানো হয়েছে। নিচে চিহ্নিত চিত্রসহ মেটাফেজ-১ পর্যায়ের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো-
i. ক্রোমোসোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের মধ্যবর্তী স্থানে তথা নিরক্ষীয় অঞ্চলে অবস্থান করে।
ii. বাইভ্যালেন্টের সেন্ট্রোমিয়ার দুটি দুই বিপরীত মেরুর স্পিন্ডলের ক্রোমোজোমাল তন্তুর সাথে সংযুক্ত হয়।
iii. বাইভ্যালেন্টের দু'টি সেন্ট্রোমিয়ারের একটি এক মেরুর দিকে এবং অন্যটি অপর মেরুর দিকে অবস্থান করে।
iv. ক্রোমোসোমের মধ্যে ফাঁস সৃষ্টি হয়।
V. ক্রোমোসোমগুলো সর্বাধিক মোটা ও খাটো হয়।
vi. নিউক্লিয়ার মেমব্রেনের বিলুপ্তি ঘটে।
উদ্দীপকে দ্বিতীয়াংশে 'S' দ্বারা মায়োসিস-১ কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ-১ পর্যায়কে বোঝানো হয়েছে। নিচে এই পর্যায়ের বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ করা হলো-
১. সমসংস্থ ক্রোমোজোমের পৃথকীকরণ: মেটাফেজ-১ পর্যায়ে বিষুবীয় অঞ্চলে বিন্যস্ত থাকা সমসংস্থ ক্রোমোজোম জোড়া এই ধাপে আলাদা হয়ে যায়। প্রতিটি জোড়ার একটি ক্রোমোজোম এক মেরুর দিকে এবং অন্যটি বিপরীত মেরুর দিকে ধাবিত হয়।
২. অ্যানাফেজিক চলন: ক্রোমোজোমাল তন্তুর সংকোচন এবং অন্যান্য কারণে ক্রোমোজোমগুলো মেরু অভিমুখে চলতে থাকে। একে অ্যানাফেজিক চলন বলা হয়। এই চলনের সময় সেন্ট্রোমিয়ার অগ্রগামী (সামনের দিকে) এবং বাহু দুটি অনুগামী (পেছনের দিকে) হয়।
৩. ক্রোমোজোমের বিচিত্র আকৃতি: মেরু অভিমুখী চলনের সময় সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোমগুলো ইংরেজি V (মেটাসেন্ট্রিক), L (সাব-মেটাসেন্ট্রিক), J (অ্যাক্রোসেন্ট্রিক) এবং। (টেলোসেন্ট্রিক) বর্ণের মতো আকৃতি ধারণ করে।
৪. জিনগত বৈচিত্র্যের উপস্থিতি: প্রোফেজ-১ এর প্যাকাইটিন ধাপে ঘটা ক্রসিং ওভারের ফলে সিস্টার ক্রোমাটিডগুলোর মধ্যে জিনের বিনিময় ঘটে। ফলে অ্যানাফেজ-১ এ মেরুর দিকে যাওয়া ক্রোমোজোমগুলোতে বিনিময়কৃত নতুন অংশ যুক্ত থাকে, যা জীবের বৈশিষ্ট্যে বৈচিত্র্য আনে।
৫. ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস: এই পর্যায়ের শেষ দিকে কোষের দুই মেরুতে দুই সেট ক্রোমোজোম পৌছায়। যেহেতু সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়নি এবং পুরো ক্রোমোজোম জোড়া আলাদা হয়ে গেছে, তাই প্রতিটি মেরুতে ক্রোমোজোমের সংখ্যা মাতৃকোষের তুলনায় অর্ধেক হয়ে যায় (অর্থাৎ 2n থেকে n-এ পরিণত হয়)।