| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রাফিয়া অফিসে যাওয়ার…’ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ ২০২৬ – ই, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

রাফিয়া অফিসে যাওয়ার পথে তার ব্যাগটি ছিনতাই হয়ে যায়। তিনি নিকটস্থ থানায় বিষয়টি অবহিত করেন ও অনলাইনে অভিযোগ দায়ের করেন। দায়িত্বরত কর্মকর্তা ছিনতাইকৃত স্থানটির সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেন ও অপরাধীকে ধরতে সক্ষম হন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
'Moralitas' শব্দের অর্থ হলো চরিত্র সঠিক আচার-আচরণ ও রীতিনীতি।
পৌরনীতি মূলত নাগরিক ও নাগরিকতা নিয়ে আলোচনা করে বলে একে 'নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান' বলা হয়। এটি নাগরিক ও নাগরিকতার অর্থ, প্রকৃতি, নাগরিকতা অর্জন, বিলোপ এবং সুনাগরিকতার গুণাবলি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করে। নাগরিকের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনই এর প্রধান উপজীব্য এবং নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যবোধের স্বরূপ বিশ্লেষণ করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি আমার পঠিত ই-গভর্ন্যান্সকে নির্দেশ করছে। এখানে অনলাইনে অভিযোগ দায়ের এবং সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
সরকারি সেবাগুলোকে নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং ২৪/৭ সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা ই-গভর্ন্যান্সের অন্যতম লক্ষ্য। ই-গভর্ন্যান্সে সরকারি প্রতিটি পদক্ষেপ ডিজিটাল পদ্ধতিতে রেকর্ড করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা আনা এবং কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়। ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে সেবাপ্রদানে ব্যক্তিবিশেষের হস্তক্ষেপ কমে যায়, যা দুর্নীতি হ্রাসে সহায়তা করে। সরকারি প্রক্রিয়াগুলোকে স্বয়ংক্রিয় করার মাধ্যমে কাজের গতি বাড়ানো এবং দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করাও ই-গভর্ন্যান্সের উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকে বর্ণিত ই-গভর্ন্যান্স বা অনলাইন সেবা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু আর্থসামাজিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়।
ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নের প্রধান বাধাগুলো হলো অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, ডিজিটাল নিরক্ষরতা এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থানের অভাব। এ সমস্যাগুলো একটি দেশের সামগ্রিক ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়াকে ধীরগতি করে দেয়।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে দেশের সকল অঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া সরকারি দপ্তরগুলোতে আধুনিক হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের অভাব এবং সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি নাগরিকদের তথ্যের গোপনীয়তাকে হুমকির মুখে ফেলে। অনেক নাগরিক ডিজিটাল জ্ঞান ও দক্ষতার অভাবে এই সেবাগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। পাশাপাশি, আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা ও পরিবর্তনের প্রতি অনীহা ই-গভর্ন্যান্সের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সরকারি কর্মী নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা গ্রহণে মানসিক প্রতিরোধের সম্মুখীন হন এবং ক্ষমতা হারানোর ভয়ে এটি বাস্তবায়নে বাধা প্রদান করেন। এছাড়া ই-গভর্ন্যান্স প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিশাল প্রাথমিক বিনিয়োগ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের প্রয়োজন হয়, যা অনেক সময় বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে সম্ভব হয় না।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের মতো অনলাইন সেবাগুলো সবার জন্য কার্যকর করতে হলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনি কাঠামোর আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি। এই প্রতিবন্ধকতাগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারলেই ই-গভর্ন্যান্সের পূর্ণ সুফল অর্জন সম্ভব হবে।