| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রাহী গ্রামের এক…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২৩ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

রাহী গ্রামের এক দুরন্ত মেয়ে। তার আনন্দের কাজ বন্ধুদের সাথে ছুটোছুটি করা, সাঁতার কাটা। অভাবের তাড়নায় তার বাবা একদিন পাশের গ্রামের এক বুড়ো লোকের সাথে তার বিয়ে দিয়ে দিলেন। লোকটি গ্রামের মাতব্বর। সকলে তাকে ‘মুন্সি’ বলে ডাকে। মুন্সির কথা গ্রামের সবাই মেনে চলে। কিন্তু চঞ্চল ও স্বাধীনচেতা রাহী তার কথা মানে না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
তানু বিবির ভাইয়ের নাম 'ধলা মিয়া'।
‘লালসালু’ উপন্যাসে অভাবের তাড়নায় অনাহারক্লিষ্ট গরিব মানুষেরা কাজের সন্ধানে ছুটে চলে। এখানে প্রশ্নোক্ত বাক্যটিতে মানুষের এই ছুচে চলাকে বোঝানো হয়েছে।
‘লালসালু’ উপন্যাসে উল্লেখকৃত অঞ্চলটিতে খেতে শস্য নেই, কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। তাদের ঘরে কিছু নেই। ভাগাভাগি লুটালুটি, আর স্থানবিশেষে খুনাখুনি করে সর্বপ্রচেষ্টার শেষ। দৃষ্টি তাদের বাইরের দিকে। দূরে তাকিয়ে তাদের চোখে আশার আলো জ্বলে। তাই সেই এলাকার লোকজন বেঁচে থাকার তাগিদে দেশের নানা অঞ্চলে কাজের সন্ধানে ছুটে বেড়ায়।
কৈশোরের সহজাত চাঞ্চল্য ও সংসার বিড়ম্বনার দিক দিয়ে উদ্দীপকের রাহীর সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলা চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'লালসালু' উপন্যাসের জমিলা চরিত্রে দেখা যায় সহজাত চঞ্চলতা ও স্বাধীনচেতা মনোভাব। ভাগ্যের নির্মমতায় বাবার বয়সি মজিদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। গ্রামের সবাই মজিদকে ভয় ও মান্য করলেও জমিলার চোখে তার ভণ্ডামি ধরা পড়ে। সে অল্প দিনেই বুঝে যায় মজিদের আসল রূপ। আর তাই সে মজিদের সকল অনুশাসন উপেক্ষা করে। ফলে তাকেও সহ্য করতে হয় সীমাহীন অত্যাচার।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুরন্ত মেয়ে রাহীর মাঝে দেখা যায় কিশোরীসুলভ চঞ্চলতা। সমবয়সিদের সঙ্গে খেলাধুলা, ছুটোছুটি ও হাসি-তামাশা করতেই তার বেশি ভালো লাগত। অভাবের তাড়নায় তার বাবা একদিন পাশের গ্রামের এক বুড়ো লোকের সাথে তার বিয়ে দিয়ে দিলেন। বয়সের বিস্তর পার্থক্য থাকায় স্বামী ও সংসারের সুখ তার জুটে না। অর্থাৎ প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও সাংসারিক অবস্থা দৃষ্টে উদ্দীপকের রাহী ‘লালসালু' উপন্যাসের জমিলার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
কৈশোরের সহজাত চাঞ্চল্য ও সংসার বিড়ম্বনার দিক দিয়ে উদ্দীপকের রাহীর সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলা চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'লালসালু' উপন্যাসের জমিলা চরিত্রে দেখা যায় সহজাত চঞ্চলতা ও স্বাধীনচেতা মনোভাব। ভাগ্যের নির্মমতায় বাবার বয়সি মজিদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। গ্রামের সবাই মজিদকে ভয় ও মান্য করলেও জমিলার চোখে তার ভণ্ডামি ধরা পড়ে। সে অল্প দিনেই বুঝে যায় মজিদের আসল রূপ। আর তাই সে মজিদের সকল অনুশাসন উপেক্ষা করে। ফলে তাকেও সহ্য করতে হয় সীমাহীন অত্যাচার।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুরন্ত মেয়ে রাহীর মাঝে দেখা যায় কিশোরীসুলভ চঞ্চলতা। সমবয়সিদের সঙ্গে খেলাধুলা, ছুটোছুটি ও হাসি-তামাশা করতেই তার বেশি ভালো লাগত। অভাবের তাড়নায় তার বাবা একদিন পাশের গ্রামের এক বুড়ো লোকের সাথে তার বিয়ে দিয়ে দিলেন। বয়সের বিস্তর পার্থক্য থাকায় স্বামী ও সংসারের সুখ তার জুটে না। অর্থাৎ প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও সাংসারিক অবস্থা দৃষ্টে উদ্দীপকের রাহী ‘লালসালু' উপন্যাসের জমিলার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের বুড়ো লোকটি গ্রামের মাতব্বর। সকলে তাকে 'মুন্সি' বলে ডাকে। মুন্সির কথা গ্রামের সবাই মেনে চলে। তার কারণ গ্রামের মানুষের তার প্রতি অগাধ ভক্তি। লালসালু উপন্যাসেও আমরা তেমনি ভক্তি দেখতে পাই মজিদের প্রতি।
উদ্দীপকের বর্ণনায় ছোটোপুত্রবধূর স্বনির্ভর জীবনযাপন করার মধ্য দিয়ে প্রচলিত সমাজব্যবস্থার বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে। নারীর এই সক্রিয় ও প্রতিবাদী সত্তার দেখা মেলে উপন্যাসের জমিলা চরিত্রে। কিন্তু 'লালসালু' উপন্যাসে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের চিত্র থাকলেও এখানে 'স্বার্থ ও লোভের বশবর্তী হয়ে কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখা এবং মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে সরল ও ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও ভীতির মধ্যে রেখে শাসন ও শোষণ করার প্রক্রিয়া চালু রাখার বাস্তবতা বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়া ধর্মতন্ত্র ও ধর্মবোধের দ্বন্দ্ব এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা কাঠামোর সঙ্গে ধর্মতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য নাড়ির যোগ প্রভৃতি বিষয় উপন্যাসে স্থান পেয়েছে। তাছাড়া নির্জীব ধর্মতন্ত্রের বিরুদ্ধে সজীব প্রাণ ধর্মের জাগরণ উপন্যাসটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
তাই বলা যায়, "উদ্দীপকের বুড়ো লোকটি 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের সামগ্রিক দিক ধারণ করেনি" - মন্তব্যটি যথার্থ।