রাহী ও রিহা দুই ভাই বোন। সারাদিন ভিডিয়ো গেম আর ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত। তাদের মা অতিকষ্টে সংসার সামলান। সারাদিন কাজ করতে করতে মা ক্লান্ত। তারপর আছে তাদের পছন্দের খাবার তৈরির বায়না। বাবার আয়ও সীমিত। কিন্তু রিহা রাহীর তাতে কিছু আসে যায় না। আপন ভুবন নিয়েই ওরা ব্যস্ত। মা বিরক্ত হলেও ভাই-বোন ওদের মতো।
‘রোসো রোসো একটুখানি হাঁপ জিরোতে দাও’- উক্তিটি সর্বজয়ার।
হরিহরের বাড়িটি তার দরিদ্রতার ছাপ ফেলে।
হরিহর টাকা-পয়সার অভাবে বাড়িটাকে দীর্ঘদিন ধরে মেরামত করতে পারেনি। বাড়ির সামনের দিকের রোয়াক ভাঙা, ফাটলে বন-বিছুটি ও কালমেঘ গাছের বন গজিয়েছে। ঘরের দরজা-জানালার কপাট সব ভাঙা, নারিকেলের দড়ি দিয়ে গরাদের সঙ্গে বাঁধা আছে। এক কথায়, হরিহরের বাড়িটি দেখতে বেশ জীর্ণ ও ভাঙাচোরা ছিল।
উদ্দীপকের রিহার সাথে ‘আম-আঁটির ভেঁপু’ গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্র হলো দুর্গা।
‘আম-আঁটির ভেঁপু’ গল্পের অপু ও দুর্গা প্রকৃতিঘনিষ্ঠ দুই ভাই-বোন। তাদের মধ্যে গভীর ও নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। দুর্গা বাইরের প্রকৃতির মধ্যে ঘুরে বেড়ায় আর অপুকে নিজের অভিজ্ঞতার ভাগ দেয়। বাইরের বন-জঙ্গল থেকে ফলমূল সংগ্রহ করে দুই ভাই-বোন ভাগ করে খায়। অপু ও দুর্গা সারাক্ষণ প্রকৃতির মাঝেই বিচরণ করে বেড়াই। প্রকৃতির বিচিত্র বিষয় তাদের মনকে মাতিয়ে রাখে। গ্রামীণ উদার প্রকৃতি অপু ও দুর্গার জীবনকে অত্যন্ত আনন্দময় করে তুলেছে। অপু ও দুর্গার শৈশবের স্থৃতি বিজড়িত ঘটনাবলি আলোচ্য গল্পে ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের রাহী ও রিহা দুই ভাই-বোন। সারাদিন ভিডিয়ো গেম ও ফেসবুক নিয়েই তারা ব্যস্ত থাকে। তাদের মা অতি কষ্টে সংসার সামলান। তাদের বাবার আয়ও সীমিত। কিন্তু রিহার তাতে কিছু আসে যায় না। সে আপন ভুবন নিয়েই ব্যস্ত। তার আচার-আচরণের সাথে ‘আম-আঁটির ভেঁপু’ গল্পের দুর্গার সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। রিহার সাথে দুর্গার গভীর মিল লক্ষ করা যায়। দুর্গা ও রিহা যেন একই বৃন্তের দুটি ফুল। উভয়ের মধ্যে একই চিন্তা-চেতনার বহিষ্প্রকাশ ঘটেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রিহার সাথে ‘আম-আঁটির ভেঁপু’ গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্র হলো দুর্গা।
প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের চরিত্রদ্বয়ের আপন ভুবন 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের বক্তব্যকে ধারণ করে বলেই আমি মনে করি।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে গ্রামীণ পরিবেশে শিশুদের দুরন্তপনার চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রকৃতির অপার রহস্যময় জগতের মধ্যে শিশুরা বিচরণ করেই জীবনের সুখ খুঁজে পায়। অপু ও দুর্গা দুই ভাই-বোন গ্রামীণ প্রকৃতির মাঝে আনন্দঘন পরিবেশে বেড়ে উঠেছে। তাদের পরিবারে দারিদ্র্যতা থাকলেও সেটার প্রভাব তাদের জীবনে পড়েনি। তারা স্বাধীনভাবে হেসে-খেলে সময় কাটিয়েছে। দুই ভাই-বোনের মধ্যে সাময়িক দ্বন্দ্ব হলেও তাদের মধ্যে অটুট বন্ধন লক্ষ করা যায়। দুর্গা বিভিন্ন ফলমূল সংগ্রহ করে এনে অপুকেও খেতে দেয়। এতে অপুর প্রতি দুর্গার অকৃত্রিম ভালোবাসার নমুনা পরিলক্ষিত হয়। অপু ও দুর্গার মধ্যে ভাই-বোনের মধুর সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্টভাবেই প্রতীয়মান হয়।
উদ্দীপকের রাহী ও রিহা দুই ভাই-বোন। তাদের মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। তারা সারাদিন ভিডিয়ো গেম ও ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাদের বাবা-মা সংসার চালাতে হিমশিম খায়। সংসারে দারিদ্র্যতা থাকলেও তাদের মনে দারিদ্র্যের কোনো প্রভাব পড়েনি। কারণ তারা তাদের মতো করেই হেসে-খেলে দিন কাটায়। এত অভাব-অনটনের মধ্যেও তাদের কিছু আসে যায় না। রাহী ও রিহা তাদের আপন ভুবন নিয়েই ব্যস্ত। দুই ভাই-বোনের মধ্যে একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্কের মধ্যে কোনো খাদ নেই। পরিবারে শত দুঃখ-কষ্ট থাকা সত্ত্বেও তারা আনন্দ অনুভব করে। রাহী ও রিহার প্রতিদিনের জীবনের আলাদা একটি ভুবন রয়েছে। যে ভুবনে কেবল তাদের প্রবেশাধিকার রয়েছে।
উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, উদ্দীপক ও 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের প্রেক্ষাপট হুবহু এক নয়। উভয় ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপটগত কিছু ভিন্নতা রয়েছে। তবে প্রেক্ষাপটগত ভিন্নতা থাকলেও উদ্দীপকের রাহী ও রিহা চরিত্রদ্বয়ের মধ্যে একটি আপন ভুবন রয়েছে। যে ভুবনে কোনো দুঃখ-কষ্ট বা দারিদ্র্যতার ছোঁয়া নেই। শৈশবের দুরন্তপনায় তাদের জীবন মুখরিত হয়ে আছে। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পেও অপু-দুর্গার মধ্যে এমনটি লক্ষ করা যায়। অপু-দুর্গার জীবনেও দারিদ্র্যতার কোনো প্রভাব পড়েনি। তারা আপন ভুবনে শৈশবের দুরন্তপনার মধ্যে আবদ্ধ থেকেছে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্দীপকের চরিত্রদ্বয়ের আপন ভুবন 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের বক্তব্যকে ধারণ করে।
