| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রাহেলার মা ছাড়া…’ সিলেট বোর্ড ২০১৭ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

রাহেলার মা ছাড়া সংসারে আর কেউ নেই। সামান্য পড়ালেখা শিখেছে সে। আর্থিক অবস্থার কারণে তার মা বাধ্য হয়েই এক বয়স্ক লোকের সাথে রাহেলার বিয়ে দেয়। স্বামীর বাড়ি গিয়ে দেখে, সেখানে তার স্বামীর আরো একটি বউ রয়েছে। রাহেলার ভাগ্যই খারাপ। বড় বউ রাহেলাকে মোটেই সহ্য করতে পারে না। সারাদিন খাটায়, ঠিকমতো খেতে-পরতে দেয় না। রাহেলার বিরুদ্ধে স্বামীর কান ভারী করে। রাহেলা একদিন আবিষ্কার করল তার স্বামী বসির মিয়া চোরাকারবারের সাথে যুক্ত। ঘরে অবৈধ জিনিসপত্র রাখে। আর মধ্যরাতে তার দলের অন্যদের সাথে এসব জিনিসপত্র পাচার করে। রাহেলা এসব দেখে ভয় পেয়ে যায়। সে প্রতিবাদ করে, বিনিময়ে লাথি-ঝাঁটা খায়। একদিন পুলিশ আসে ঘরে। রাহেলা পুলিশের কাছে সমস্ত গোপন তথ্য ফাঁস করে দেয়। বসির মিয়ার মুখোশ খুলে যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
'হুড়কা' শব্দের অর্থ- খিল।
প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা রহিমার মনে স্বামী মজিদকে রাগান্বিত দেখে যে ভাবের উদয় হয়, সেটিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
রহিমা তার স্বামী মজিদকে অনেকবার রেগে যেতে দেখেছে। তার মনে হয়, মজিদ যখন রাগ করে তখন তার রাগান্বিত মুখে কেমন যেন একটা সমবেদনার ও ধর্ম সংস্কারের ইচ্ছার কোমল আভা ছড়িয়ে থাকে। কিন্তু মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলার ঔদ্ধত্য যখন সীমাহীন হয়ে ওঠে তখন রহিমা যেন তার স্বামীর অন্য রূপ দেখতে পায়। তখন তার কাছে মনে হয়, মজিদের মুখে হিংস্রতার নিষ্ঠুর ছায়া পড়েছে। প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা একথাই বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকের বসির মিঞার বড় বউ 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমার বিপরীত চরিত্র।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমা। উপন্যাস জুড়ে স্বামীর কাছে অসহায় হয়ে থাকলেও তার চরিত্রের একটি স্বতন্ত্র মাধুর্য আছে। জমিলা যখন তার সতিন হিসেবে সংসারে আসে তখন তার মধ্যে জমিলাকে নিয়ে ঈর্ষা তৈরি হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু উপন্যাসে সেটা দেখা যায় না। কারণ জমিলা তার কাছে সতিন হিসেবে বিবেচিত হয় না বরং তার মাতৃহৃদয়ের কাছে সন্তানতুল্য বলে বিবেচিত হয়।
উদ্দীপকে বসির মিয়ার ছোট বউ রাহেলা। তার প্রতি বসিরের বড় বউয়ের আচরণ সহানুভূতিপূর্ণ ছিল না। উপরন্তু বড় বউ রাহেলাকে সারাদিন খাটাতো, ঠিকমতো খেতে-পরতে দিতো না। পাঠ্য উপন্যাসের রহিমা জমিলার প্রতি সন্তানতুল্য আচরণ করত, যদিও তারা সতিন ছিল। কিন্তু উদ্দীপকে সামাজিক গার্হস্থ্য জীবনের বাস্তব ছাপ দেখতে পাই আমরা। সেখানে দেখা যায়, রাহেলার প্রতি তার সতিনের নিষ্ঠুর আচরণ যা রহিমার সঙ্গে তাকে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে।
'লালসালু' উপন্যাসে জমিলা পরিস্থিতির শিকার এক অসহায় ও নির্যাতিতা নারী।
'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলা। নিঃসন্তান মজিদের সন্তান কামনাসূত্রে জমিলার আগমন ঘটে। প্রথম দর্শনে স্বামীকে তার ভাবী শ্বশুর বলে প্রতীয়মান হয়েছিল। অভাবের তাড়নায় এই অসংগতিপূর্ণ সম্পর্ককে মেনে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে আসতে হয় জমিলাকে।
উদ্দীপকের রাহেলা দারিদ্র্যের শিকার এক অসহায় নারী। অভাবের কারণে তাকে সতিনের সংসারে আসতে হয়। আর তার অবশ্যম্ভাবী পরিণাম হিসেবে তার কপালে জোটে সতিনের অত্যাচার ও নিপীড়ন। 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলা অবশ্য এক্ষেত্রে কিছুটা সহানুভূতি পেয়েছে। কারণ নিঃসন্তান সতিনের কাছে জমিলা মাতৃতুল্য আচরণ পেয়েছে।
উভয়েই পরিস্থিতির কারণে অসমবয়সী বরের সঙ্গে বিয়েকে মেনে নিতে বাধ্য হয়। তাছাড়া স্বামীর বাড়ি এসেও তাদেরকে নানামুখী নির্যাতন ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। উপন্যাসের জমিলার স্বামী প্রতিষ্ঠাকামী মজিদ স্বার্থপরতা, প্রতিপত্তি ও শোষণের প্রতিভূ। একই ধরনের লালসার উপস্থিতি বসিরের চরিত্রে লক্ষণীয়। কিন্তু উদ্দীপকের রাহেলা ও আলোচ্য উপন্যাসের জমিলা কেউই স্বামীদের এই অন্যায় অপকর্মকে সমর্থন করে না বরং দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিবাদ করে। সেদিক বিবেচনায় যথার্থই উদ্দীপকের রাহেলা এবং 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলার জীবনচিত্র এক সুতায় গাঁথা।