| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রহিম সাহেব একজন…’ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ ২০২৬ – জনসেবা ও আমলাতন্ত্র, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

রহিম সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি সৎ, দক্ষ ও কর্মঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন। অন্যান্য কর্মকর্তার মতো তিনি নিজেকে জনগণের প্রভু না ভেবে তাদের সেবক বা প্রজাতন্ত্রের অনুগত কর্মকর্তা মনে করেন। তার টেবিলে ফাইল পড়ে থাকে না। তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
আমলাতন্ত্রের জনক হলেন ম্যাক্স ওয়েবার।
লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে প্রশাসনিক কাজে অহেতুক আনুষ্ঠানিকতা, নিয়মনীতির কঠোরতা এবং দীর্ঘসূত্রতাকে বোঝায়। সপ্তদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে সরকারি ফাইলগুলো লাল রঙের ফিতায় বেঁধে রাখা হতো, যা বর্তমানে নিয়মের কড়াকড়িতে কাজ থমকে থাকা বা অহেতুক সময়ক্ষেপণের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে সেবাগ্রহীতারা হয়রানির শিকার হন এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না।
যেসব আমলা নিজেদের জনগণের প্রভু মনে করে তাদের নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণের জন্য বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এই দুটি পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়ে থাকে। বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ হিসেবে রাজনৈতিক নির্বাহী কর্তৃক, আইনসভা কর্তৃক, বিচার বিভাগ কর্তৃক এবং অন্যান্য অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আমলাতন্ত্র রাজনৈতিক অধীনে থেকে পরিচালিত হয়। মন্ত্রিগণ তাদের অধীনস্ত আমলাদের নির্দেশনা দান, বদলি, চাকরি থেকে বরখাস্ত প্রভৃতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। আবার, আইনসভায় মন্ত্রীরা স্বীয় মন্ত্রণালয়ের কাজকর্ম সম্পর্কে জবাবদিহি করে আমলাদের' দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করেন। বিচার বিভাগ আমলাদের সরকারি কর্মকান্ডে অবহেলা, নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার প্রভৃতি কর্মকাণ্ডের জন্য বিভিন্ন রিটের মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান যেমন- জনমত, গণমাধ্যম, স্বার্থগোষ্ঠী সুশীল সমাজ প্রভৃতি গঠনমূলক সমালোচনা দ্বারা আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
অভ্যন্তরীণভাবেও আমলাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আমলাদের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ ও তাদের নির্দেশনা প্রদান করার জন্য উপদেষ্টা কমিটি গঠন, প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ প্রভৃতি আমলাদের 'নিয়ন্ত্রণের কার্যকর কৌশল। এছাড়া আমলাদের মানসিক ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করার মধ্য দিয়েও আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রহিম সাহেবের মতো আমলারা দেশের উন্নতিতে বিভিন্ন ভূমিকা রাখতে পারেন।
বর্তমান যুগে রাষ্ট্রের যাবতীয় কার্যাবলির ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন- রাষ্ট্রের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা ও নিত্যনতুন সমস্যাবলির সমাধানের জন্য সরকারকে নানা ধরনের নীতি নির্ধারণ করতে হয়। আমলারা সরকারের এসব নীতি নির্ধারণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখেন এবং তা বাস্তবায়ন করেন। আমলাদের এসব কাজ' জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আধুনিক রাষ্ট্র কল্যাণমূলক। কল্যাণমূলক রাষ্ট্র জনগণের মঙ্গলের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ইত্যাদি সংক্রান্ত বহু দায়িত্ব পালন করে থাকে। আমলারা তাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার সাথে এ বিপুল কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। প্রশাসনের সর্বক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে সামাজিক পরিবর্তন সাধনসহ নানাবিধ ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিধান, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ জাতীয় অগ্রগতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অনুঘটক হিসেবে আমলাতন্ত্র নিজেদের বিকল্পহীন সংগঠনে পরিণত করেছে।
উদ্দীপকের রহিম সাহেব সৎ, দক্ষ ও কর্মঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন। এক্ষেত্রে তার দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে কর্তব্য পালন করা দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা যায়।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, আমলাদের কার্যক্রমের ওপর দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অনেকটাই নির্ভর করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রহিম সাহেবের মতো আমলারা দেশের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।