| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রহিম তার বাবার…’ রাজশাহী বোর্ড ২০১৭ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

রহিম তার বাবার খামারে মুরগির বাচ্চাগুলো লক্ষ করে দেখলেন সাদা পালকের মাঝে কয়েকটি রঙিন পালকের বাচ্চা ১৩: ৩ অনুপাতে রয়েছে। তিনি ভাবছেন, খামারের সব মোরগ-মুরগি সাদা পালকের, কিন্তু কয়েকটি রঙিন বাচ্চা হলো কীভাবে?
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
মন্থরগতি সম্পন্ন ও প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের মাধ্যমে সরলদেহী জীব থেকে জটিল জীবের অবির্ভাবই হলো বিবর্তন।
মানুষের লোহিত রক্তকণিকার ঝিল্লিতে রেসাস বানরের লোহিত রক্তকণিকার ঝিল্লির মতো এক প্রকার অ্যান্টিজেন রয়েছে। রেসাস বানরের নামানুসারে ঐ অ্যান্টিজেনকে রেসাস ফ্যাক্টর বা Rh factor বলে। মানুষের Rh ফ্যাক্টরবিশিষ্ট রক্তকে Rh এবং Rh ফ্যাক্টরবিহীন রক্তকে Rh রক্ত বলে।
উদ্দীপকের রহিমের খামারের মোরগ-মুরগিগুলো ছিল সাদা লেগহর্ণ এবং সাদা ওয়াইনডট জাতের। সাদা পালকযুক্ত লেগহর্ণের সাথে সাদা পালকযুক্ত ওয়াইনডটের ক্রস ঘটালে প্রথম বংশধরে সবগুলো শাবকই সাদা পালক যুক্ত হয়ে থাকে। আবার, F₁ জনুর মোরগ-মুরগির মধ্যে ব্রুস ঘটিয়ে দেখা যায় যে, F₂ জনুতে সাদা ও রঙিন উভয় ধরনের শাবকেরই আবির্ভাব ঘটে এবং সাদা ও রঙিনের অনুপাত দাঁড়ায় ১৩: ৩। প্রকট এপিস্ট্যাসিসের কারণে এরকম ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে মোরগ- মুরগিতে রঙিন পালক সৃষ্টির জন্য দায়ী একটি প্রকট জিন (C) থাকলেও এপিস্ট্যাটিক জিন প্রকটের (1) অনুপস্থিতিতেই C জিনের বাহ্যিক প্রকাশ ঘটে। জিন । বিশেষ ধরনের এনজাইম উৎপন্ন করে যার ফলে C জিনের বাহ্যিক প্রকাশ সম্ভব হয় না, দমিত থাকে। এভাবে যখন একটি প্রকট জিন অন্য একটি নন-অ্যালিলিক প্রকট জিনের কার্যকারিতা প্রকাশে বাধা দেয় তখন তাকে প্রকট এপিস্ট্যাসিস বলে।
কাজেই উদ্দীপকের রহিমের খামারের ঘটনাটির সাথে বংশগতির সম্পর্ক রয়েছে।
নন অ্যালিলিক জিনের আন্তঃক্রিয়ায় ডাইহাইব্রিড ক্রসের F₂ জনুর স্বাভাবিক ফিনোটাইপের যে ব্যতিক্রম ঘটে তা হলো প্রকট এপিস্ট্যাসিস। এটি মেন্ডেলের ২য় সূত্রের ব্যাতিক্রম। যেমন, ধরা যাক সাদা লেগহর্ণের রঙ্গিন পালকের জন্য দায়ী প্রকট জিন C এবং সাদা লেগহর্ণের রঙ্গিন পালকের বাধাদানকারী প্রকট জিন I
অতএব, সাদা লেগহর্ণের জিনোটাইপ CCII এবং সাদা ওয়াইনডটের জিনোটাইপ ccii। এদের মধ্যে ক্রসে প্রাপ্ত ফলাফল নিম্নের ছক ও চেকার বোর্ডে দেখানো হলো।
চেকার বোর্ডে দেখানো সাদা ও রঙিন পালকের জন্য দায়ী জিনসমূহের ক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এপিস্ট্যাটিক জিন । এর উপস্থিতি C জিন কর্তৃক রঙিন পালক প্রকাশে সব সময় বাধাদান করে। কেবল I এর অনুপস্থিতিতেই C জিনের বাহ্যিক প্রকাশ ঘটে। এক্ষেত্রে C হচ্ছে প্রকট হাইপোস্ট্যাটিক জিন এবং I প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন। ফলে ডাইহাইব্রিড ক্রসের স্বাভাবিক অনুপাত ৯:৩:৩:১ এর পরিবর্তে ১৩ (সাদা): ৩ (রঙিন) হয়।