| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রহিম তার বন্ধু…’ রাজশাহী বোর্ড ২০১৯ – মনোভাব, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

রহিম তার বন্ধু করিমকে বলল, মানব শিশু ধীরে ধীরে বড় হয়ে। ওঠার সময় সমাজীকরণের মাধ্যমে তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা বিকাশ লাভ করে থাকে যেটি ইতিবাচক ও নেতিবাচক হতে পারে। এই ধারণার প্রেক্ষিতে ব্যক্তি কোনো কিছুর পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত প্রকাশ করে থাকে। অন্যদিকে করিম বলল অর্জিত এই ধারণাটি আবার পরিবর্তনও হয়ে থাকে। এয় পরিবর্তন সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে হাইডার (১৯৫৮, ১৯৬৪) এবং নিউকম্ব (১৯৫৩, ১৯৫৯) প্রণীত মতবাদটি উল্লেখযোগ্য। এই মতবাদে তাঁরা। অবিহিতিকে ঐ ধারণার একটি অন্যতম উপাদান বলে উল্লেখ করেছেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর উপর কেবল শ্রেণিভুক্তকরণের ভিত্তিতে গুণাবলি আরোপ করাকে বদ্ধমূল ধারণা বলা হয়।
পূর্বসংস্কার সহজাত নয়। কারণ অধিকাংশ পূর্বসংস্কার হলো শৈশবের গৃহ পরিবেশ থেকে অর্জিত। ব্যক্তি সম্পর্কে শিশুর পক্ষে অভিজ্ঞতা লাভের কোন সুযোগ থাকে না। অপর দিকে পূর্বসংস্কার সাথে আবেগীয় উপাদান যুক্ত থাকে। যেসব ব্যক্তি পূর্বসংস্কারাচ্ছন্ন তারা একে পূর্বসংস্কার মনে করে না। সচেতন ব্যক্তিরা এ সম্পর্কে বোঝাতে চেষ্টা করেও ফলপ্রসূ হয় না।
উদ্দীপকে রহিম যে ধারণার কথা বলেছে তা হলো মনোভাব। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
কোনো বিশেষ সামাজিক পরিস্থিতি, বিশেষ কোনো শ্রেণিভুক্ত ব্যক্তি অথবা বিশেষ কোনো গোষ্ঠী, সামাজিক কোনো সমস্যা ইত্যাদি সম্পর্কে আমাদের চিন্তা, অনুভূতি এবং প্রতিক্রিয়ার পূর্বাপর সঙ্গতিসম্পন্ন রীতিকেই মনোভাব বলা হয়। চিন্তা, বিশ্বাস, অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়া করার প্রবণতা নিয়েই মনোভাব গঠিত হয়। কাজেই মনোভাব হলো বিশেষ অবস্থায় বিশেষ ধরনের প্রতিক্রিয়া করার প্রবণতা। ক্ষুধা ও তৃষ্ণা যেমন প্রত্যেক মানুষের মধ্যে আছে, তেমনই প্রত্যেক মানুষেরই কোনো না কোনো মনোভাবও আছে। মা, বাবা, বন্ধু-বান্ধব, কবি, সাহিত্যিক, বিশ্বশান্তি, সন্ত্রাস প্রভৃতির প্রতি বিশেষ বিশেষ মনোভাব রয়েছে। মনোভাবকে আমরা ব্যক্তির পছন্দ-অপছন্দ বলতে পারি। কেউ হয়তো চা পান করতে খুব ভালোবাসে, কেউ আবার চা একেবারেই পছন্দ করে। না। এক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি, প্রথম ব্যক্তির চায়ের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব এবং দ্বিতীয় ব্যক্তির নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। পরিবেশের বিভিন্ন ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার মনোভাব গড়ে উঠে এবং তা তার জীবনকে প্রভাবিত করে।
উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, করিম যে মতবাদের কথা উল্লেখ করেছে তা হলো ভারসাম্য মতবাদ। ভারসাম্য মতবাদে দুটি অবস্থা রয়েছে। যথা-১। ভারসাম্য পূর্ণ অবস্থা ও ২। ভারসাম্যহীন অবস্থা। নিচে অবস্থা দুটি বিশ্লেষণ করা হলো-
ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা: চিত্রে প্রথম ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় (১) ব্যক্তি (P) অন্যব্যক্তিকে (১) পছন্দ করে এবং তাদের দুজনেরই একটি বিষয়ের (X) প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তাই এটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা। দ্বিতীয় পরিস্থিতিতে (২) ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে পছন্দ করে এবং দুজনেরই একটি বিষয়ের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তাই এখানেও ভারসাম্য রয়েছে। তৃতীয় অবস্থায় (৩) ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে পছন্দ করে না এবং যে বিষয়টির প্রতি তার ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে অন্য ব্যক্তিটির তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। কাজেই ভারসাম্য রক্ষা পেয়েছে। চতুর্থ অবস্থায় (৪) ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে পছন্দ করে না এবং অন্য ব্যক্তিটি যে বিষয়টিকে পছন্দ করে তার প্রতি ব্যক্তির নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। সুতরাং এখানেও ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
চিত্র: ব্যক্তি (P). অন্যব্যক্তি (০) এবং একটি বিষয়বস্তুর (X) মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ এবং ভারসাম্যহীন অবস্থা। ভারসাম্যহীন অবস্থা: ভারসাম্যহীন অবস্থায় প্রথমটিতে (৫) ব্যক্তির অন্য ব্যক্তির এবং কোনো বিষয়বস্তুর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। কিন্তু অন্য ব্যক্তির এ বিষয়ের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব থাকায় অবস্থানটি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয়টি (৬) ভারসাম্যহীন অবস্থায় ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে পছন্দ করে অথচ ব্যক্তি যে বিষয়টিকে অপছন্দ করে অন্য ব্যক্তি সেটিকে পছন্দ করে। তাই ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। তৃতীয় অবস্থায় (৭) ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে পছন্দ করে না এবং সে যে বিষয়ের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে অন্য ব্যক্তিও সেই বিষয়ের প্রতি অনুরূপ মনোভাব পোষণ করে। সুতরাং এটি একটি ভারসাম্যহীন অবস্থা। চতুর্থ অবস্থায় ব্যক্তির (৮) অন্যব্যক্তি ও কোনো একটি বিষয়ের প্রতি প্রতিকূল মনোভাব রয়েছে এবং অন্য ব্যক্তিরও ঐ বিষয়টির প্রতি প্রতিকূল মনোভাব থাকাতে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। উপরে বর্ণিত ভারসাম্যহীন অবস্থাগুলো ব্যক্তির উপর চাপ সৃষ্টি করে। এজন্য ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে ব্যক্তি তৎপর হয়। এতে করে অন্য ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তির মনোভাবের পরিবর্তন হবে অথবা বিষয়বস্তুটির প্রতি মনোভাবের পরিবর্তন হবে যাতে করে ভারসাম্য ফিরে আসবে এবং মানসিক চাপও দূর হবে। ত্রিভুজাকার সম্পর্কের তিনটিই ইতিবাচক হলে বা দুটি নেতিবাচক এবং একটি ইতিবাচক হলে ভারসাম্যের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে ত্রিভুজাকার সম্পর্কের একটি বা তিনটিই নেতিবাচক হলে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়।