| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রহিম উদ্দীন মধ্যপ্রাচ্যে…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২৩ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

রহিম উদ্দীন মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে অনেক টাকা উপার্জন করেন। এলাকায় তাঁর দানে রাস্তা, সেতু, মসজিদ, মন্দির নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু তাঁর মনে সুখ নেই। তিনি নিঃসন্তান। অনেকেই তাঁকে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য পরামর্শ দেন। কিন্তু তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেননি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
'লালসালু' সামাজিক উপন্যাস।
মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমা সহজ, সরল, ধর্মভীরু হওয়ায় লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। সরলতা ও বিশ্বাসের দিক থেকে গ্রামের লোকেরা যেন তারই মতো। রহিমা ঠান্ডা, ভিতু মানুষ। তার এই ভীতিবিহবল নরম কোমল শান্ত রূপের পেছনে সক্রিয় রয়েছে ঈশ্বর বিশ্বাস এবং মাজার বিশ্বাস। মাজারের প্রতিনিধি হিসেবে স্বামী প্রতি তার অন্ধ আনুগত্য ও ভক্তি। মহব্বতনগর গ্রামের কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও অন্ধধর্ম বিশ্বাসী মানুষগুলোও এমন। রহিমা তাদের একজন যোগ্য প্রতিনিধি।
উদ্দীপকের রহিম উদ্দীনের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারী চরিত্রের কতটুকু মিল ও অমিল আছে।
খালেক ব্যাপারী মহব্বতনগর গ্রামের সমাজপতি। গ্রামীণ সমাজে এ শ্রেণির মানুষকে মোড়ল বা মাতব্বর বলা হয়ে থাকে, যারা গ্রামীণ মানুষের সকল সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।একপক্ষে আছে খালেক ব্যাপারী, অন্যপক্ষের প্রতিনিধি মজিদ।
খালেক ব্যাপারী গ্রামের মোড়ল কিন্তু ধর্মীয় পুরোহিত মজিদের কথায় সে পরিচালিত।
খালেক ব্যাপারীর দুই স্ত্রী তানু ও আমিনা। তানু বিবি প্রতিবছর আস্তে আস্তে সন্তান জন্ম দেয় জামেনা বিবি সহ্য হয় না আমেনা বিবির সন্তান হয় না বলে তাকে পীরের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় পানি পড়া খেতে এক পর্যায়ে মজিদ আমেনা বিবিকে ছেড়ে দেওয়া নির্দেশ দেয় খালেক বেপারীকে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, রহিম বেপারী অনেক ধনসম্পদ টাকা-পয়সা থাকলেও তার কোন সন্তান নেই তাই সবাই তাকে দ্বিতীয় বিয়ে করার কথা বললে সেটাতে রাজি হননি।
উদ্দীপক এবং লালসালু উপন্যাসে খালেক বেপারী এর ঘটনা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যেখানে রহিম সাহেব তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে আরেক বিবাহ করতে প্রস্তুত হননি সেখানে খালেক বেপারী তার প্রথম স্ত্রী আমেনাকে সন্তান না হওয়ার কারণে তালাক দিয়ে মসজিদের কথায় অন্য বিয়ে করতে রাজি হন এখানে তাদের দুজনের মাঝখানে রয়েছে।
উদ্দীপকে প্রতিফলিত ইতিবাচক জীবন-চেতনা ‘লালসালু' উপন্যাসে অনুপস্থিত।
লালসালু উপন্যাসে আমরা দেখতে পাই, নিঃসন্তান মজিদের সন্তান-কামনাসূত্রে তার দ্বিতীয় স্ত্রীরূপে আগমন ঘটে জমিলার। প্রতিষ্ঠা লাভের সাথে সাথে মজিদ ধর্মকর্মের পাশাপাশি সমাজেরও কর্তা ব্যক্তি হয়ে ওঠে। গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে উপদেশ দেয় এবং গ্রাম্য বিচার-সালিশিতে সে-ই হয়ে ওঠে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী প্রধান ব্যক্তি। এক্ষেত্রে মাতব্বর খালেক ব্যাপারীই তার প্রধান সহায়ক শক্তি। ধীরে ধীরে সে গ্রামবাসীর পারিবারিক জীবনেও প্রভাব বিস্তার করে।
খালেক ব্যাপারীর নিঃসন্তান স্ত্রী আমেনা সন্তান কামনায় অধীর হয়ে মজিদের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ালপুরের পিরের প্রতি আস্থাশীল হলে মজিদ তাকেও শাস্তি দিতে পিছপা হয়না।
উদ্দীপকে, রহিম বেপারী অনেক ধনসম্পদ টাকা-পয়সা থাকলেও তার কোন সন্তান নেই তাই সবাই তাকে দ্বিতীয় বিয়ে করার কথা বললে সেটাতে রাজি হননি।
উদ্দীপকে রহিম বেপারীর মাঝে যে, জীবন চেতনা ফুটে উঠেছে সেটি আমাদের লালসালু উপন্যাসে অনুপস্থিত লালসালু উপন্যাসের গ্রামীণ মানুষের অন্ধ বিশ্বাস এবং মজিদের প্রতি আঘাত অন্ধবিশ্বাসের কারণে তাদের মাঝে জীবন চেতনা রহিম ব্যাপারীর মত নয়। তারা সবাই মজিদ ভক্ত। এবং কুসংস্কার ও অন্ধকারে অতীতে একটি জাতি।