রহিমার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই জীবনধারণে নেমে এসেছে বিপর্যয়। দরিদ্র স্বামীর ভিটে বলতে ছোট্ট একটা বাড়ি আর বাড়ির পাশে মাঝারি সাইজের পুকুর। সেই পুকুরের টুকটাক মাছ বিক্রি করেই চলে সংসার। হঠাৎ এক রাতের কালবৈশাখি ঝড়ে তার থাকার ঘরের চাল উড়ে যায়। আর পুকুর পাড় ভেঙে যায়। নিরাশ্রয় হয়ে পড়ে রহিমা।
'বোশেখ' কবিতায় কবিদের এক মহান রাজা হলেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
"কিন্তু যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে তাদের কোনো ইট খসাতে পারলে নাতো-" বলতে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে বৈশাখের কোনো কার্যকর 'পদক্ষেপ না নিতে পারার দিকটি বোঝানো হয়েছে।
'বোশেখ' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন বৈশাখী ঝড়ের নিষ্ঠুর করাল গ্রাস এবং আগ্রাসী থাবায় কখনো কখনো লন্ডভন্ড হয়ে যায় এক-একটা জনপদ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর শিকার হয় দুঃখী-দরিদ্র মানুষ ও অসহায় প্রাণীগুলো। কিন্তু যারা মানুষকে ঠকিয়ে, শোষণ করে সম্পদের পাহাড় গড়ে বৈশাখী ঝড় তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। তাই করি আক্ষেপের স্তবে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
উদ্দীপকের রহিমার নিরাশ্রয়ের দিকের সঙ্গে 'বোশেখ কবিতার বৈশাখী ঝড়ে অসহায় গরিব-দুঃখীদের ক্ষতির দিকটি সম্পর্কিত।
'বোশেখ' কবিতায় কবি তুলে ধরেছেন বৈশাখী ঝড়ের বিধ্বংসী নানা দিক। কালবৈশাখি ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় জনপদ। যে অঞ্চলে ঝড়টি প্রবাহিত হয় সেই অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কালবৈশাখির শিকার হয় দুঃখী-দরিদ্র মানুষ ও অসহায় প্রাণী।
উদ্দীপকে দেখা যায়, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই রহিমার জীবনধারণে নেমে আসে বিপর্যয়। দরিদ্র স্বামীর রেখে যাওয়া ছোটো একটা বাড়ি আর মাঝারি সাইজের পুকুরটিই ছিল তার সম্বল। হঠাৎ এক রাতের কালবৈশাখি ঝড়ে তার থাকার ঘরের চাল উড়ে যায় আর পুকুর পাড় ভেঙে যায়। ফলে নিরাশ্রয় হয়ে পড়ে রহিমা। এখানে
অসহায়-দরিদ্র মানুষের ওপর কালবৈশাখির তাণ্ডবু ও ক্ষতি করার দিকটি 'বোশেখ' কবিতায়ও ফুটে উঠেছে। কবিতায় দেখা যায়, বৈশাখের ঝড়ের তাণ্ডবে মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে যায়, উড়ে যায় দরিদ্র চাষির ঘর। প্রকৃতির এই নিষ্ঠুরতা থেকে ছোট্ট টুনটুনির বাসাও রেহাই পায় না। প্রকৃতির যত নিষ্ঠুরতা নির্মমতা যেন শুধু গরিব-
দুঃখী মানুষের সঙ্গেই ঘটে, যা উদ্দীপকের রহিমার ক্ষেত্রেও ঘটতে দেখা যায়।
অত্যাচারীদের অবসান কামনার দিকটি উদ্দীপকে উল্লেখ না থাকায় “উদ্দীপকে 'বোশেখ' কবিতার ক্ষুদ্র একটি অংশ প্রতিফলিত হলেও সমগ্র ভাব ফুটে ওঠেনি" মন্তব্যটির সঙ্গে আমি একমত।
'বোশেখ' কবিতায় বৈশাখের ঝড়কে কেন্দ্র করে প্রকৃতির ভয়ংকর শক্তির ছবি তুলে ধরা হয়েছে। বাতাস, নদী আর ঝড় মিলিয়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবন এলোমেলো হয়ে যায়। বিশেষ করে গরিব চাষি, মাঝি ও সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি, পরিশ্রম আর স্বপ্ন মুহূর্তে ভেঙে পড়ে। কিন্তু ধনীর প্রাসাদের কোনো ক্ষতি হয় না। তাই কবি বৈশাখী ঝড়ের কাছে অত্যাচারীদের অবসান কামনা করেছেন।
উদ্দীপকে রহিমার ওপর কালবৈশাখির নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। কালবৈশাখি ঝড় তার থাকার ঘরের চাল ও পুকুরের পাড় ভেঙে দেয়। এর ফলে সে হয়ে পড়ে নিরাশ্রয়। এটি 'বোশেখ' কবিতার অসহায় ও গরিব-দুঃখীর ওপর বৈশাখী ঝড়ের করাল গ্রাসের দিকটিকেই কেবল নির্দেশ করে। এ কবিতায় কবি অত্যাচারী শোষকদের অবসান ঘটাতে ঝড়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন যা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি।
'বোশেখ' কবিতায় কবি বৈশাখের বিধ্বংসী ঝড়কে মহাপ্রতাপশালী আখ্যা দিয়ে তাকে দরিদ্র মানুষের সর্বনাশ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। তিনি হিংস্র থাবায় গরিবের বাসস্থান, দরিদ্র মাঝির পালের দড়ি, অসহায় পাখিদের বাসা ধ্বংস না করতে বলেছেন। যারা শ্রমজীবীদের শোষণ করে অট্টালিকা গড়ে তুলেছে সেই অট্টালিকা যেন কালবৈশাখি ঝড়ে গুঁড়িয়ে যায়। মূলত এ কবিতায় কবি বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে অত্যাচারীর অবসান কামনা করেছেন। কবিতার এসব বিষয় ও ভাব উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, মন্তব্যটি যথার্থ।
