| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রহিমের প্রস্রাবের পরিমাণ…’ a – বর্জ্য ও নিষ্কাশন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

রহিমের প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ায় ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার তাকে প্রচুর পানি খাওয়ার পরামর্শ দিলেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
কহাইড্রোজেন আয়নের ঘনত্বের একটি পরিমাপকে pH বলে।
বৃক্ক তাৎক্ষণিক বিকল হলে যেসব চিকিৎসা গ্রহণ করা হয় তার মধ্যে একটি হলো হিমোডায়ালাইসিস। যে প্রক্রিয়ায় রক্তকে পাম্প দিয়ে শরীর থেকে বের করে বর্জ্য পদার্থ অপসারণের উদ্দেশ্যে পরিষুত করে যেভাবে আবার দেহে ফেরত পাঠানো হয় সেই প্রক্রিয়াই হলো হিমোডায়ালাইসিস।
রহিমের সমস্যার সাথে সম্পর্কিত অঙ্গটি হলো মানব বৃক্ক। বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যিক একক হলো নেফ্রন। নিচে নেফ্রনের চিত্রসহ বিভিন্ন অংশের কাজ ব্যাখ্যা করা হলো-
ম্যালপিজিয়ান বডি গঠনগত বৈশিষ্ট্যের জন্য ম্যালপিজিয়ান বডি একটি পরিস্রাবক যন্ত্র যা ছাঁকনির মতো কাজ করে।
বৃক্কীয় নালিকা: নিম্নলিখিত কয়েকটি অংশে বৃক্কীয় নালিকার কাজ
১. নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকা: এতে প্রায় সকল পদার্থের বেশিরভাগ
সম্পন্ন হয়ে থাকে। যেমন- অংশ থেকে ব্যাপন, অভিস্রবণ, সক্রিয়, নিষ্ক্রিয় পদ্ধতির মাধ্যমে পুনঃশোষিত হয়। এতে ১০০% গ্লুকোজ, ৮০% পানি, ৫০% এর অধিক সোডিয়াম ক্লোরাইড ও সোডিয়াম বাই কার্বনেট এবং তুলনামূলকভাবে কম হারে পটাসিয়াম পুনঃশোষিত হতে দেখা যায়। এর ফলে তরলের ঘনত্ব প্লাজমার ঘনত্বের সমান থাকে।
২. হেনলির লুপ: হেনলির লুপের প্রধান কাজ পানি সংরক্ষণ করা। এর নিম্নগামী বাহু পানি এবং অনেক দ্রাবের সাপেক্ষে ভেদ্য। ঊর্ধ্বগামী বাহু পানি অভেদ্য কিছু সোডিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম ক্লোরাইড আয়ন পুনঃশোষণ করে।
৩. দূরবর্তী প্যাঁচানো নালিকা পানি ও লবণ পুনঃশোষণের মাধ্যমে দেহের অভিস্রবণ নিয়ন্ত্রণ এবং রক্তের pH নিয়ন্ত্রণে রাখে। পানি ও লবণে পুনঃশোষণের ফলে মূত্রের ঘনত্ব বজায় থাকে।
৪. সংগ্রাহক নালিকা: পানি ও লবণের পুনঃশোষণ ঘটে। মূত্রকে পেলভিসে স্থানান্তর করে।
ডাক্তারের পরামর্শেই রহিম সাহেবের সমস্যার সমাধান হবে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
রহিম সাহেবের দেহে অতি অল্প ও ঘন মূত্র সৃষ্টি হয়। রক্তের আয়তন এবং গ্লোমেরুলার কৈশিকনালিকায় রক্তের হাইড্রো-স্ট্যাটিক চাপ কমে যাওয়ায় অতিপরিস্রাবণও কমে যায়। তখন পিটুইটারি গ্রন্থির পশ্চাৎ খন্ড থেকে ADH ক্ষরণের ফলে DCT ও সংগ্রাহী নালিকা প্রাচীরের ভেদ্যতা বেড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে পানির পুনঃশোষণ মাত্রাও বৃদ্ধি পায়। তখন অতিপরিস্রাবণ ও বেশি পুনঃশোষণের ফলে মূত্রের পরিমাণ হয় কম এবং ঘন কিন্তু দেহ যদি বেশি পরিমাণ পানি গ্রহণ করে তবে রক্তের আয়তন বেড়ে যায়। এর ফলে ADH ক্ষরণ কমে যায়। রক্তে ADH ক্ষরণ কমে গেলে DCT ও সংগ্রাহী নালিকা প্রাচীরের ভেদ্যতা কমে যাওয়ায় পানির পুনঃশোষণও কমে যায়। গ্লোমেরুলার ফিলট্রেট তরল হতে তরলতর হতে থাকে। অবশেষে বেশি পরিমাণে হাইপোটনিক মূত্র (কম ঘন বা পাতলা মূত্র) সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও প্রোটিন জাতীয় খাবার কম খেলে দেহে নাইট্রোজেন জাতীয় বর্জ্য পদার্থ কম সঞ্চিত হবে এবং বৃক্ক বিকলের আশঙ্কাও কমে যাবে।
তাই বলা যায় যে, রহিম সাহেব ডাক্তারের পরামর্শ মেনে প্রোটিন জাতীয় খাবার কম খেয়ে প্রচুর পানি পান করলে তার সমস্যার সমাধান হবে।