| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রহমান দম্পতির দুই…’ a – মানব জীবনের ধারাবাহিকতা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

রহমান দম্পতির দুই সন্তান। ছেলেটির বয়স ১৪ এবং মেয়েটির বয়স ১২। উক্ত দম্পতি আর কোনো সন্তান সন্ততি গ্রহণে আগ্রহী নয়। [কুমিল্লা বোর্ড ২০১৫]
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৯
যে হরমোন অন্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিকে তার হরমোন ক্ষরণে উদ্বুদ্ধ করে সেগুলো হচ্ছে ট্রপিক হরমোন।
সহজাত প্রতিরক্ষা জিন ঘটিত বা শারীরবৃত্তীয় আর অর্জিত প্রতিরক্ষা অ্যান্টিজেন প্রণোদিত। জিনের বহিঃপ্রকাশ দ্বারা সহজাত প্রতিরক্ষা আবির্ভূত হয় আর অ্যান্টিজেন, অ্যান্টিবডি অথবা টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে অর্জিত প্রতিরক্ষা আবির্ভূত হয়। আবার জীবাণু প্রবেশের কয়েক মিনিট বা ঘণ্টার মধ্যে সহজাত প্রতিরক্ষা সাড়া দেয়। আর অর্জিত প্রতিরক্ষা অ্যান্টিজেন বা অ্যান্টিবডি পাওয়ার ৫-১৪ দিন `পর সাড়া দেয়। তাই সহজাত প্রতিরক্ষা অর্জিত প্রতিরক্ষা হতে আলাদা।
রহমান সাহেবের ১ম সন্তান হলো ছেলে এবং তার বয়স ১৪ বছর। এ বয়সে তার দেহে অনেকগুলো পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। মূলত এ বয়সে নিঃসৃত বিভিন্ন হরমোনের প্রভাবে তার দেহের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। নিচে বিভিন্ন হরমোনের প্রভাব আলোচনা করা হলো-
১. পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত তিন ধরনের গোনাডোট্রফিক হরমোনের মধ্যে দুটি হরমোন ছেলেদের জননাঙ্গ ও আনুষঙ্গিক জননাঙ্গগুলোর পূর্ণতা দানে সাহায্য করে।
২. ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন (FSH) সেমিনিফেরাস নালিকার বৃদ্ধি ও পূর্ণতা ঘটিয়ে শুক্রাণু উৎপাদনে সাহায্য করে। ল্যুটিনাইজিং হরমোন (LH) শুক্রাশয়ের লেডিগ কোষগুলোকে উদ্দীপ্ত করে টেস্টোস্টেরন নামক পুরুষ যৌন হরমোন ক্ষরণে অংশ নেয়।
৩. সম্মুখ পিটুইটারি গ্রন্থির বিপাকীয় হরমোন এবং পশ্চাৎ পিটুইটারি গ্রন্থির ভ্যাসোপ্রেসিন হরমোন দৈহিক চরিত্রের পরিবর্তন ঘটাতে সাহায্য করে।
৪. অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির অ্যান্ড্রোজেন হরমোন শরীরের বিশেষ বিশেষ জায়গায় লোম, বৃদ্ধি, মানসিক ও যৌন চরিত্রের পরিবর্তন ঘটায়।
৫. শুক্রাশয়ের টেস্টোস্টেরন হরমোন হাইপোথ্যালামাস থেকে উৎপন্ন যৌনগ্রন্থি উদ্দীপক রিলিজিং ফ্যাক্টর সম্মুখ পিটুইটারি গ্রন্থিকে FSH ও LH ক্ষরণে উদ্দীপ্ত করে। এ হরমোন দুটি শুক্রাশয়কে টেস্টোস্টেরন হরমোন ক্ষরণে উদ্বুদ্ধ করে।
উদ্দীপকে রহমান দম্পতির দুই সন্তান। একটি ছেলে যার বয়স ১৪ বছর এবং একটি মেয়ে যার বয়স ১২ বছর। যেহেতু রহমান দম্পতি আর কোনো সন্তান গ্রহণ করতে চান না তাই তাদের স্থায়ী পদ্ধতি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। জন্মনিরোধের জন্য স্থায়ী পদ্ধতি অবলম্বন করাকে বন্ধ্যাকরণ বলে। এটি দু'ধরনের যথা-
১. ভ্যাসেকটমি : এ পদ্ধতিতে পুরুষের ক্ষেত্রে উভয় দিকের শুক্রনালির অংশকে কেটে বেঁধে দেওয়া হয় যাতে শুক্রাণু বাইরে আসতে না পারে।
২. টিউবেকটমি বা লাইগেশন : এ পদ্ধতির ক্ষেত্রে মহিলাদের উভয় দিকের ফেলোপিয়ান নালির অংশ কেটে বেঁধে দেওয়া হয় যাতে শুক্রাণু প্রবেশের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। অধিক সন্তানবতী বা যারা আর কোনো সন্তান চান না তাদের জন্য এ পদ্ধতি গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
তাই বলা যায়, রহমান দম্পতির ইচ্ছা সম্পূর্ণভাবে পূরণের জন্য স্থায়ী পদ্ধতিটিই সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য।