| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায়…’ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ২০২৬ – বাংলাদেশের সরকার ও প্রশাসনিক কাঠামো, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলায় বিনা বিচারে প্রায় ১ বছর কারাগারে ছিলেন জনাব ফয়েজ আলম। এ বিষয়ে টিভি চ্যানেলে সংবাদ প্রকাশিত হলে সর্বোচ্চ আদালতের নজরে আনেন এক আইনজীবী। সর্বোচ্চ আদালত জনাব ফয়েজকে জামিন এবং ৯০ দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতকে মামলা নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
বাংলাদেশের সংবিধানের ৯০ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেন।
কোরাম মানে Required Number of members অর্থাৎ যে সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিতে কোন সভার কার্যপরিচালনা করা যায় তাকে কোরাম বলে। বাংলাদেশে সংবিধান মোতাবেক কমপক্ষে এক পঞ্চমাংশ অর্থাৎ ৩০০ জনের মধ্যে ৬০ জন সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে সংসদের কাজ পরিচালিত হতে পারে। ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন এবং পাঁচ মিনিটকাল ঘণ্টা বাজাতে বলেন। ঘণ্টাধ্বনি ব্যর্থ হওয়ার পরও কোরাম না হলে স্পিকার অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করেন।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের কথা বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৪ নম্বর অনুচ্ছেদ হতে শুরু করে ১১৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের গঠন সম্পর্কে বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট দুটি বিভাগ নিয়ে গঠিত। যথা- (ক) আপিল বিভাগ ও (খ) হাইকোর্ট বিভাগ। রাষ্ট্রপতি প্রত্যেক বিভাগের জন্য একজন প্রধান বিচারকসহ প্রয়োজন মোতাবেক বিচারক দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত করেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারক নিয়োগ করেন। প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারকগণ ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকতে পারেন। তবে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষেত্রে এই বয়স হলো ৬২ বছর।
উদ্দীপকে জনাব ফয়েজ আলমের বিনা বিচারে কারারুদ্ধ থাকার বিষয়টি সংবাদপত্রের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালতের নজরে এলে আদালত তাকে জামিন ও মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি এবং অন্যান্য বিচারকদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অপসারণের জন্য সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রক্রিয়া পালন করা হয়। আর বিচারকদের সংখ্যা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত হয়। উদ্দীপকের ঘটনাটি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার ও গঠনতান্ত্রিক ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সুপ্রিম কোর্ট আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় হাইকোর্ট বিভাগ মুখ্য ভূমিকা পালন করে। জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ভূমিকা অপরিসীম। কেননা জনগণের মৌলিক অধিকার ও প্রশাসন সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের উপর ন্যস্ত। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এটি নিশ্চিতকরণে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ তার ওপর ন্যস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
উদ্দীপকের জনাব ফয়েজ আলম বিনা বিচারে এক বছর কারাগারে ছিলেন; যা তার নাগরিক ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার' রক্ষার অভিভাবকস্বরূপ কাজ করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ। মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে মর্মে কোনো ব্যক্তি হাইকোর্ট বিভাগে মামলা দায়ের করতে পারে অথবা আদালত স্ব-প্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে। উদ্দীপকের ক্ষেত্রেও আদালত জনাব ফয়েজকে জামিন এবং ৯০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে।
পরিশেষে বলা যায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যেন সকল মানুষ আইনের দৃষ্টিতে সমান অধিকার ভোগ করতে পারে সে ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট সজাগ দৃষ্টি দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কেউ বঞ্চিত হলে আদালত তাকে যথাযথ সাহায্য দিয়ে থাকে। কোনো ব্যক্তির মৌলিক অধিকার খর্ব হলে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের দ্বারস্থ হতে পারেন। উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে এটি প্রতীয়মান হয় যে, জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট বা বিচার বিভাগ অতন্দ্র প্রহরীর মতো ভূমিকা পালন করে।