| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রাজিব ও রাকিব…’ চট্টগ্রাম কলেজ ২০২৫ – আঠারো বছর বয়স, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

রাজিব ও রাকিব দুই বন্ধু। এসএসসিতে দুজনই ভালো ফলাফল করে সেরা কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়। কিন্তু হঠাৎই দুজনের জীবনযাত্রায় ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। রাজিব দিনদিন ক্লাসে অনিয়মিত ও অমনোযোগী হতে থাকে। অসৎ বন্ধুদের দলে ভিড়ে উচ্ছন্নে যায়। অপরদিকে, রাকিব পড়াশোনায় যথেষ্ট মনোযোগের পাশাপাশি কলেজের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে নিজেকে বিকশিত করার প্রচেষ্টা চালায়। রক্তদান কর্মসূচিতে ভলান্টিয়ার হয়, দুর্নীতি ও মাদকবিরোধী মিছিলে স্লোগান দেয়। দেশ ও মানুষের মঙ্গল করাই তার স্বপ্ন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৯
দুর্যোগে হাল ঠিকমতো রাখা ভার।
• “এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।"- কথাটির মাধ্যমে কবি তারুণ্যশক্তির জাগরণের মাধ্যমে দেশের মুক্তি ও উন্নতি নিশ্চিত করার দিকটিকে বুঝিয়েছেন।
• 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি এ দেশের বুকে আঠারো বছর বয়সের তরুণদের আবির্ভাব প্রত্যাশা করেছেন। তারুণ্যশক্তির কাছে কবির প্রত্যাশা অনেক। আঠারো বছর বয়সের তরুণরা এ দেশটাকে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণময় করে গড়ে তুলবে। তারা অত্যাচার, উৎপীড়ন প্রতিহত করবে; মহৎ সৃষ্টির আনন্দে উদ্বেলিত হবে। কবির প্রার্থনা, এসব বৈশিষ্ট্য নিয়ে যেন দেশের কল্যাণে, মানবতার সেবায়, জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তিরূপে এ দেশের বুকে আঠারো বছরের তারুণ্যের আবির্ভাব ঘটে।
• অনুচ্ছেদের রাজিবের মধ্যে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সর্বনাশের অভিঘাতে পদস্খলনের বক্তব্যের মিল রয়েছে।
• আঠারো বছর বয়সটি জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলার একটি উপযুক্ত সময়। তবে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিও এ বয়সে থাকে। কেননা এ বয়সের তরুণরা মন্ত্রণায় পড়ে বিপদের মুখে পড়ে।
• অনুচ্ছেদের রাজিব এসএসসিতে ভালো ফলাফল করে সেরা কলেজে ভর্তি হলেও দিনদিন ক্লাসে অনিয়মিত ও অমনোযোগী হতে থাকে। একসময় সে বন্ধুদের দলে ভিড়ে উচ্ছন্নে যায়। রাজিবের এমন কর্মকাণ্ড 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার তরুণদের নিয়ে কবির আশঙ্কার দিকটিকেই নির্দেশ করে। তিনি বলেছেন এ বয়সে তরুণদের কানে অনেক মন্ত্রণা আসে। আর এসব দুর্যোগে তাদের হাল ঠিকমতো রাখা খুবই কঠিন। কেননা এ বয়সের তরুণরা অসৎ বন্ধুদের সঙ্গে মিশে বিপথে পরিচালিত হতে পারে। ফলে তাদের জীবন হয়ে পড়ে দুর্বিষহ। সর্বনাশের অভিঘাতে তরুণদের পদস্খলনের এমন আশঙ্কাই অনুচ্ছেদের রাজিবের মধ্যে ফুটে উঠেছে।
• "অনুচ্ছেদের রাকিবের প্রচেষ্টা ও স্বপ্ন 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূলভাবেরই প্রতিচ্ছবি"- মন্তব্যটি যথার্থ।
• তরুণরা অফুরন্ত প্রাণশক্তির অধিকারী। তারা জগতের সমস্ত অকল্যাণ দূর করে কল্যাণ ও শক্তির ধারা বইয়ে দিতে পারে। তারা সুন্দরের জন্য অসুন্দর অবসানকল্পে জীবনের ঝুঁকি নিতে জানে।
• 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি তারুণ্যের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে তারুণ্যশক্তির জয়গান গেয়েছেন। কবির মতে এই বয়সের ধর্মই হলো আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়া। পথ চলতে গিয়ে এই বয়স ভয়ে থেমে যায় না। তারা দৃপ্ত পদচারণায় সামনে এগিয়ে যায়। এই কারণে কবি এদেশের বুকে আঠারো নেমে আসার প্রত্যাশা করেছেন। কবির এই প্রত্যাশা, অনুচ্ছেদের রাকিবের কর্মকান্ডেও ফুটে উঠেছে। কেননা রাকিব পড়াশোনায় যথেষ্ট মনোযোগী হয়ে নিজেকে বিকশিত করার প্রচেষ্টা চালায়। রক্তদান কর্মসূচিতে ভলান্টিয়ার হয়, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। সর্বোপরি দেশ ও মানুষের মঙ্গল করাই তার স্বপ্ন। রাকিবের মতো এমন তরুণই আলোচ্য কবিতায় কবি প্রত্যাশা করেছেন।
• 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি তারুণ্যশক্তির জয়গান গেয়েছেন। যৌবনের উদ্দীপনা, সাহসিকতা, দুর্বার গতি, নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন এবং কল্যাণব্রত এসব বৈশিষ্ট্য কবি প্রত্যাশা করেছেন তরুণদের মাঝে। এসব দিক অনুচ্ছেদের রাকিব চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।