রাজিয়া দশম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী। ডাক্তার হবার স্বপ্ন তার। পরিবার তেমন সচ্ছল ছিল না। হঠাৎ তার বাবা প্রবাসী মাঝ বয়সি বিপত্নীক এক লোকের সাথে তার বিয়ে ঠিক করে। রাজিয়া তার বাবাকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে বান্ধবীদের সাথে পরামর্শ করে। বিয়ের দিন বান্ধবীরা পুলিশ নিয়ে উপস্থিত হয়ে বাল্যবিবাহের হাত থেকে তাকে রক্ষা করে। রাজিয়া এখন তার স্বপ্ন পূরণে উদ্যমী।
বাইরের ঘরে মোড়ার ওপর স্বপ্নাবিষ্টের মতো বসেছিল হাতেম আলি।
ঝোঁকের বশে হাশেম তাহেরাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং তাহেরা এ প্রসঙ্গে অমত করাকে খোদেজার দৃষ্টিতে সেটা অকৃতজ্ঞতার পরিচয় বলে মনে হয়।
‘বহিপীর’ নাটকে বহিপীরের সাথে তাহেরার বিয়ে হওয়ায় তাহেরা বাড়ি থেকে পালিয়ে হামেশদের বজরায় আশ্রয় পায়। সেখানে রয়েছে হাশেম, তার মা এবং বাবা। তাহেরার এ পালিয়ে আসাকে হাশেম সমর্থন করলেও তার মা খোদেজা তা মেনে নিতে পারেন না। তিনি বিভিন্নভাবে তাহেরাকে বহিপীরের কাছে ফিরে যেতে উদৃব্দু করেন। কিন্তু এর প্রতিবাদ করে হাশেম। সে বহিপীরের সাথে তাহেরার বিয়েটাকে অষ্বীকার করে তাকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করতে চায়। প্রয়োজনে হাশেম তাহেরাকে বিয়ে করতেও প্রস্তুত বলে তার মাকে জানায়। একথা শুনে তাহেরা এর প্রতিবাদ করে। এ জন্য খোদেজা তাহেরাকে অকৃতজ্ঞ হিসেবে আখ্যা দেয়। কিন্তু তাহেরা ঝোঁকের বশে হাশেমের প্রস্তাব সমর্থন করে না। সে মনে করে হাশেমের কোঁক কেটে গেলে তার মনে হতে পারে সে ভুল করেছে। তাই তাহেরা অকৃঙ্গতার পরিচয় দেয়।
রাজিয়ার বাবা মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেয়ার দিক থেকে 'বহিপীর' নাটকের তাহেরার বাবা-মায়ের প্রতিনিধিত্ব করে।
‘বহিপীর’ নাটকের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র তাহেরা। বাবা ও সৎমা বহিপীরের সাথে তাহেরার অমতে বিয়ে দেন। জীবনসচেতন তাহেরা তাই পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষার পথ বেছে নেয়।
উদ্দীপকের রাজিয়া দশম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন তার। তার পরিবার তেমন স্বচ্ছল ছিল না। হঠাৎ তার বাবা মাঝবয়সী বিপত্নীক এক প্রবাসী লোকের সাথে তার বিয়ে ঠিক করে। রাজিয়া তার বাবাকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে বান্ধবীরা বিয়ের দিন পুলিশ নিয়ে উপস্থিত হয়ে বাল্যবিবাহের হাত থেকে তাকে রক্ষা করে। অতএব দেখা যায়, নাটকের তাহেরা ও উদ্দীপকের রাজিয়া দুজনেই জীবনসচেতন। তারা জীবন ও জগৎ সম্পর্কে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে এবং সে আলোকে তারা ভিন্ন পথের পথিক হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত রাজিয়ার বাবা মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দিতে চেয়ে নাটকের তাহেরার বাবা-মায়ের প্রতিনিধিত্ব করেছে।
"উদ্দীপকের রাজিয়া ও ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা মানসিকতার দিক থেকে এক ও অভিন্ন।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'বহিপীর' নাটকে তাহেরার বাবা-মা বৃদ্ধ বহিপীরের সাথে তাহেরাকে বিয়ে দেয়। কিন্তু এ বিয়ে ছিল অসমতার এবং তাহেরার কোনো মতামতও এখানে গ্রহণ করা হয়নি। তাই ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও স্বাধীনচেতা তাহেরা বিয়ে করতে অসম্মত হয়ে বিয়ের পরই আসর থেকে পালিয়ে যায়। এমনকি ঘটনাচক্রে বহিপীরের মুখোমুখি হলেও তার কাছে নিজেকে সমর্পণ করে না। এর মধ্য দিয়ে তাহেরা চরিত্রের প্রবল ব্যক্তিত্ববোধ ও স্বাধীনচেতা মানসিকতার পরিচয় ফুটে ওঠে।
উদ্দীপকে দশম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী রাজিয়া। সে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন লালন করে। কিন্তু তার বাবা হঠাৎ মাঝবয়সী বিপত্নীক প্রবাসীর সাথে তার বিয়ে দিতে চায়। রাজিয়া এখন বিয়ে করতে চায় না আর সে এ বিয়েতে সম্মত নয়। একথা বাবাকে সে বুঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে বান্ধবীদের সহায়তায় পুলিশ দিয়ে বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পায়। রাজিয়া এখন তার স্বপ্ন পূরণে উদ্যমী।
‘বহিপীর’ নাটক ও আলোচ্য উদ্দীপকের কাহিনি পর্যালোচনা করে আমরা দেখতে পাই, তাহেরা ও রাজিয়া উভয়েই স্বাধীন সত্তার অধিকারিনী। কারণ তারা দুজনেই অন্যের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেনি। তারা নিজের মনের ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়েছে। তাই বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে তাহেরা আশ্রয় পেয়েছে হাতেম আলির বজরায় আর রাজিয়া নিজের স্বপ্ন পূরণে উদ্যমী। প্রবল বক্তিত্বসম্পন্ন না হলে তাহেরা বিয়ের আসর থেকে যেমন পালাতো না তেমনি রাজিয়াও বান্ধবীদের সহায়তায় পুলিশ এনে বিয়ে বন্ধ করে নিজের স্বপ্ন পূরণে উদ্যমী হতো না। সুতরাং প্রবল ব্যক্তিত্ববোধ ও স্বাধীনচেতা মানসিকতার দিক থেকে উভয়ে এক ও অভিন্ন।
