| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ২০২৫ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
কোনো প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নামের গণ ও প্রজাতি অংশের নাম একই হতে পারে। যেমন- Catla catla। এ অবস্থাকে টটোনিম বলে।
বর্ণান্ধতা হলো একটি সেক্স লিঙ্কড ডিসঅর্ডার। বর্ণান্ধতা রোগে আক্রান্ত হলে রোগী লাল-সবুজ বর্ণ পৃথকভাবে চিনতে পারে না। সেক্স লিংকড প্রচ্ছন্ন জিন এর ক্ষেত্রে পুরুষের একটি প্রচ্ছন্ন জিনই ফিনোটাইপ বৈশিষ্ট্য প্রকাশে সক্ষম। কিন্তু মহিলাদের ক্ষেত্রে দুইটি প্রচ্ছন্ন জিন না থাকলে এ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় না। এ কারণেই বর্ণান্ধতা নারীর চেয়ে পুরুষে বেশি দেখা যায়।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রাণীটি হলো রুই মাছ। রুই মাছের চকচকে সাদা থলে সদৃশ গঠনটি হলো বায়ুথলি বা পটকা, যা পানিতে মাছের দেহের ভারসাম্য রক্ষায় ও শ্বসনে ভূমিকা রাখে। নিচে বায়ুথলি বা পটকায় গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
অবস্থান: রুই মাছের মেরুদণ্ডের নিচে এবং পৌষ্টিক নালির ওপরে অবস্থিত পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট বায়ুপূর্ণ চকচকে সাদা লম্বা থলিকে বায়ুথলি বা পটকা বা সাঁতার থলি বলে। পৌষ্টিক নালির পৃষ্ঠীয় প্রাচীর থেকে বায়ুথলির উৎপত্তি ঘটে। এটি সিলোম গহ্বরে অবস্থিত।
গঠন: রুই মাছের বায়ুথলি একটি খাঁজ দ্বারা দুটি অসম প্রকোষ্ঠে বিভক্ত থাকে। সামনের প্রকোষ্ঠটি ছোট এবং পেছনের প্রকোষ্ঠটি বড়। গ্রাসনালি ও বায়ুথলির মাঝে একটি সংযোগকারী নালি উপস্থিত। একে ডাক্টাস নিউমেটিকাস বলে।
বায়ুথলির বাইরের দিক ঘনসন্নিবিষ্ট রক্তজালক সমৃদ্ধ। এর প্রাচীর দুটি স্তর দিয়ে গঠিত। বাইরের যোজক কলা দ্বারা গঠিত স্তর- টিউনিক এক্সটার্না এবং ভেতরের মসৃণ পেশি নির্মিত স্তর টিউনিকা ইন্টারনা। বায়ুথলির সম্মুখ প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীরের এপিথেলিয়াম সংলগ্ন একটি করে লাল বর্ণের গ্যাস গ্রন্থি থাকে। এর নাম রিটি মিরাবিলি। সামনের প্রকোষ্ঠের এ গ্রন্থি থেকে গ্যাস দ্বারা বায়ুথলি পূর্ণ হয়। কিন্তু পেছনের প্রকোষ্ঠে বিদ্যমান এ গ্রন্থি গ্যাস শোষণ করে। বায়ুথলির গ্যাসে বিভিন্ন উপাদান থাকতে পারে। বায়ুথলিতে বিদ্যমান গ্যাসের অধিকাংশই অক্সিজেন । এতে সামান্য পরিমাণ নাইট্রোজেন এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড থাকে। রুই মাছের বায়ুথলি ঘনিষ্ঠভাবে অন্তঃকর্ণের সাথে যুক্ত। ভেবেরিয়ান অস্থিমালা নামক একসারি ক্ষুদ্র অস্থি দ্বারা এ সংযোগ স্থাপিত হয়।
উদ্দীপকে Y দ্বারা রুই মাছের বর্হিবাহী ফুলকা ধমনিকে বুঝানো হয়েছে। এই ধমনি রুই মাছের সারাদেহে রক্ত সরবরাহ করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
ফুলকায় রক্ত পরিশোধনের পর O₂ যুক্ত রক্ত বহির্বাহী ফুলকা ধমনি দিয়ে দেহের সর্বত্র যায়। রুই মাছের ৪ জোড়া ফুলকা হতে ৪ জোড়া বহির্বাহী ফুলকা ধমনি সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ প্রতিটি ফুলকা আর্চে একটি অন্তর্বাহী ও একটি বহির্বাহী ফুলকা ধমনি বিদ্যমান। প্রথম বহির্বাহী ধমনি অঙ্কীয়দেশের হাইওয়েড আর্চের সিউডোব্রাংকে রক্ত বহন করে। পরবর্তীতে এটি সামনের দিকে অপথ্যালমিক ধমনি (Ophthalamic Artery) রূপে বিস্তার লাভ করে। প্রতি পার্শ্বের ১ম ও ২য় বহির্বাহী ফুলকা ধমনি মিলিত হয়ে একটি অনুদৈর্ঘ্য ল্যাটারাল অ্যাওর্টায় (Lateral Aorta) পরিণত হয়। ৩য় ও ৪র্থ বহির্বাহী ফুলকা ধমনি একত্রিত হয়ে ল্যাটারাল অ্যাওর্টায় উন্মুক্ত হয়। ল্যাটারাল অ্যাওর্টার অগ্রপ্রান্ত থেকে সৃষ্ট 'ক্যারোটিড ধমনি (Carotid Artery) করোটিতে রক্ত সরবরাহ করে। দুই পার্শ্বের দুটি ল্যাটারাল অ্যাওর্টা এবং ক্যারোটিড ধমনি গলবিলের পৃষ্ঠদেশে একটি ডিম্বাকার ধমনি বলয় সৃষ্টি করে। এর নাম সারকিউলাস সেফালিকাস (Circulus Cephalicus)। পরবর্তীতে ল্যাটারাল অ্যাওটা দুটি একত্রিত হয়ে পশ্চাতে একটি ডর্সাল অ্যাওর্টা (Dorsal Aorta) গঠন করে।