| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ২০২৫ – প্রেষণা ও আবেগ, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
কোনো উদ্দীপকের প্রতি প্রতিক্রিয়া করতে গিয়ে প্রাণীর মধ্যে যে আলোড়িত বা উত্তেজিত অবস্থার সৃষ্টি হয়, যার গতিবেগ স্বাভাবিক আচরণের গতিবেগ অপেক্ষা কম বেশি তীব্র হয়, তাই আবেগ।
যূথচারিতা সামাজিক প্রেষণা। কারণ যে সকল প্রাণী সঙ্গপ্রিয় তারা দলবদ্ধ হয়ে বাস করে। এরূপ দলবদ্ধ হয়ে থাকার ইচ্ছাকে যূথচারিতা বলে। যূথচারিতা একটি অর্জিত প্রেষণা এবং সমাজে বাস করার ফলে আমরা এটা অর্জন করি। অনেকে যূথচারিতাকে সহজাত প্রেষণা হিসেবে গণ্য করার পক্ষপাতী। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে যূথচারিতা কোনো সহজাত প্রবৃত্তি নয়। ছোট্ট শিশুকে তার বাবা-মা আদর করে সে তাদের সাথে মিশে আনন্দ পায়। ধীরে ধীরে সে খেলার সাথী এবং বন্ধুদের সাথে থাকতে পছন্দ করে। পরবর্তীতে সে তার আশে পাশের লোকদের সঙ্গ কামনা করে। তাই যূথচারিতা জন্মগত না হলেও একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রেষণা।
দৃশ্যকল্প-১ এর ক 'আবেগের শারীরিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। আবেগের কারণে নানারকম শারীরিক পরিবর্তন ঘটে থাকে, সেরকম ৫ পরিবর্তন নিম্নে আলোচনা করা হলো-
১. রক্তের চাপ: আবেগের সময় রক্তের চাপের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। আবেগের সময় রক্তবাহী নালীর সাহায্যে রক্ত ত্বকের দিকে প্রবাহিত হয় আবার নিম্নাভিমূখীও হয়ে থাকে।
২. হৃদপিন্ডের ক্রিয়া: আবেগের সময় হৃদপিন্ডের স্বাভাবিক ক্রিয়া ব্যাহত হয়। অর্থাৎ আবেগের সময় হৃদপিন্ডের ক্রিয়া দ্রুত হতে দ্রুততর হয়।
৩. চোখের তারার পরিবর্তন: কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যক্তি ক্রুদ্ধ হলে
তার চক্ষু রক্তবর্ণ ধারণ করে আবার ভয়ে বা বিস্ময়ে চক্ষুর তারার প্রসারণ ঘটে।
৪. শ্বাস-প্রশ্বাসের পরিবর্তন : আবেগের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের
পরিবর্তন সহজেই পরিলক্ষিত হয়। কোনো বিশেষ আবেগময় দ্বন্দ্বে হয়তো আমাদের দম ফুরিয়ে যায় আবার বিশেষ কোনো দুঃখের মুহূর্তে দীর্ঘশ্বাস ফেলি।
৫. লোমের প্রতিক্রিয়া: তীব্র আবেগে আমাদের শরীর কাঁটা দিয়ে ওঠে এবং লোমগুলি খাড়া হয়ে যায়।
দৃশ্যকল্প-২ এর খ সামাজিক প্রেষণা।
সমাজে বসবাস করার কারণে শিক্ষণের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে যে সকল প্রেষণার উৎপত্তি বা সৃষ্টি হয় তাদেরকে সামাজিক প্রেষণা বলা হয়। এ সকল প্রেষণা জীবন, ধারণের জন্য অপরিহার্য নয় কিংবা সকল প্রাণীর মধ্যে একইভাবে বিদ্যমান থাকে না। এ প্রেষণাগুলোর শারীরিক কোনো ভিত্তি নেই এবং পরিতৃপ্তি বিলম্বিত হলেও ক্ষতি সাধন করে না।
সামাজিক প্রেষণা সংখ্যায় অনেকগুলো, তার মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য সামাজিক ঘোষণা হলো যূথচারিতা'ও নিরাপত্তা। যূথচারিতা হলো এমন একটি সামাজিক, প্রেষণা যার জন্য প্রাণী, দলবদ্ধ হয়ে একত্রে বসবাস করতে চায়। এটি একটি অর্জিত 'প্রেষণা' এবং সমাজে বাস করার ফলে আমরা এটা অর্জন করি। যূথচারিতা জন্মগত না হলেও একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রেষণা।
অপরদিকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন সকলেই কামনা করে। এর মূলে রয়েছে নিরাপত্তাবোধ। আমরা সকলেই নিরাপদে বসবাস করতে চাই। এই নিরাপত্তা যেমন ব্যক্তির জীবনের রক্ষার জন্য হতে পারে, আবার সম্মান কিংবা সম্পদ রক্ষার জন্যও হতে পারে। এই নিরাপত্তার অভাব একটি ভয়জনিত সামাজিক প্রেষণা।