| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ রাজশাহী বোর্ড ২০১৯ – খনিজ ও শক্তি সম্পদ, ভূগোল, ভূগোল ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
যেসব দ্রব্যের উপযোগ (Utility) আছে, যা হস্তান্তরযোগ্য (Transferable) এবং যার বাহ্যিক রূপ (Structure) আছে তাই সম্পদ। যেমন— কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস।
খনিজ এলাকার পরিবেশ সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। ভূগর্ভে সঞ্চিত খনিজ মানবজাতির বৃহৎ কল্যাণ ও সার্বিক অগ্রগতির চাবিকাঠি। মাত্রাতিরিক্ত ও অপরিকল্পিতভাবে খনিজ উত্তোলনের ফলে মৃত্তিকা ক্ষয়, ভূমিধস, বায়ুদূষণ ইত্যাদি ঘটে থাকে। এ কারণে শুধু আর্থিক লাভের বিষয়টি মাথায় রেখে খনিজ উত্তোলন করলে চলবে না। খনিজ সম্পদের পরিমিত ব্যবহার পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। নির্বিচারে খনিজ উত্তোলন আমাদের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো দিনাজপুর। যেখানে কয়লা খনিজ সম্পদটি উত্তোলিত হয়।
পৃথিবীর অন্যতম প্রধান খনিজ সম্পদ কয়লা। এর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
i. কয়লা খনিজ কার্বন গঠিত একটি যৌগ।
ii. উদ্ভিদ ও প্রাণির দেহাবশেষ থেকে কয়লার সৃষ্টি হয়। ভূ-অভ্যন্তরে লক্ষ লক্ষ বছরে জমাকৃত উদ্ভিদের কাণ্ড, গুঁড়ি, শাখা-প্রশাখা, পাতা নানারূপে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে কয়লায় পরিণত হয়।
iii. প্রায় ৩০ কোটি বছর পূর্বে কার্বনিফেরাস যুগে ভূ-আলোড়নজনিত (Earth movement) কারণে পৃথিবীর আদি বনভূমি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। ভূগর্ভে চাপ ও প্রচণ্ড তাপের প্রভাবে এই চাপা পড়া বনভূমি কালক্রমে কয়লায় পরিণত হয় ।
iv. বিশ্বে শক্তি উৎপাদনকারী জ্বালানিসমূহের মধ্যে কয়লা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
V. কার্বনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে কয়লাকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা: ১. পিট (কার্বনের পরিমাণ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ) ২. লিগনাইট (কার্বনের পরিমাণ ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ) ৩. বিটুমিনাস (কার্বনের পরিমাণ ৫০ থেকে ৮৫ শতাংশ) এবং ৪. অ্যানথ্রাসাইট (কার্বনের পরিমাণ ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ)।
উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' চিহ্নিত স্থানের খনিজ দুটি হলো বাংলাদেশের দিনাজপুরের কয়লা ও সিলেটের প্রাকৃতিক গ্যাস।
ব্যবহারিক গুরুত্বের দিক থেকে উল্লিখিত খনিজ দুটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন-
কয়লা: কয়লা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বর্তমানে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া থেকে উত্তোলিত কয়লার ৬৫ শতাংশ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে। অবশিষ্ট ৩৫ শতাংশ ইটভাটা, কলকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহৃত হয়। ফলে কাঠের লাকড়ির বিকল্প হিসেবে বনজ সম্পদ রক্ষায় কয়লা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রাকৃতিক গ্যাস: প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্পকারখানার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফেঞ্চুগঞ্জের সার কারখানায় ও ছাতকের সিমেন্ট কারখানায় হরিপুরের প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়। ঘোড়াশালের সার কারখানায় তিতাস গ্যাস কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কীটনাশক, ওষুধ, রাবার, প্লাস্টিক, কৃত্রিম তন্তু প্রভৃতি তৈরির জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফার্নেস তেলের পরিবর্তে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়। যেমন- সিদ্ধিরগঞ্জ, আশুগঞ্জ, ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও গৃহস্থালি, যানবাহন ও বাণিজ্যিক কাজে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, কৃষির উন্নতি, বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় হ্রাস, সরকারি আয়ের উৎস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রভৃতি ক্ষেত্রে এই খনিজ দ্রব্যগুলো যথেষ্ট অবদান রাখে। এজন্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উক্ত খনিজদ্বয়ের তাৎপর্য অপরিসীম।