| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২১ – জনসংখ্যা, ভূগোল, ভূগোল ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
নারীর প্রকৃত সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা বা সামর্থকে প্রজননশীলতা বলে।
যখন মানুষ নিজ দেশের মধ্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অভিগমন করে তখন তাকে অভ্যন্তরীণ অভিগমন বলে।।শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসায়-বাণিজ্য, চাকরি, কৃষিকাজ, সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা প্রভৃতি কারণে মানুষ দেশের অভ্যন্তরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করে। অভ্যন্তরীণ অভিগমনের অন্তর্ভুক্ত হলো- গ্রাম থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে শহরে, শহর থেকে গ্রামে, শহর থেকে শহরে অভিগমণ প্রভৃতি।
মানচিত্রে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো চট্টগ্রাম অঞ্চলকে বোঝানো হয়েছে যা ঘনত্বের ভিত্তিতে কম জন অধ্যষিত অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।নিচে 'ক' অঞ্চলেরজনসংখ্যারঘনত্বেরপ্রকৃতিব্যাখ্যাকরা হলো-
যে জনবসতি অঞ্চলে প্রতি বর্গ কি.মি. (১০০০ - ১৫০০) জন লোক বাস করে সে অঞ্চল কম জন অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে গণ্য। বরিশাল, বরগুনা, ভোলা, শেরপুর, মুন্সিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, পাবনা, চট্টগ্রাম, বগুড়া প্রভৃতি এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। ভূপ্রকৃতি ও অর্থনৈতিক কারণে এসব অঞ্চলে জনবসতি তুলনামূলক কম। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলটি পাহাড় ঘেরা থাকায় এ অঞ্চলে কম জনবসতির বসবাস। তবে বাণিজ্যিক এলাকা বলে চট্টগ্রাম শহরের জনসংখ্যা একটু বেশি।
মানচিত্রে 'ক' ও 'খ' হলো যথাক্রমে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চল। ঘনত্বের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম কম জন অধ্যুষিত (প্রতি বর্গ কি.মি. ১০০০ - ১৫০০) এবং সিলেট বিরল জন অধ্যুষিত (প্রতি বর্গ কি.মি. ৫০০ - ১০০ জন) অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।নিচে 'ক'ও 'খ' অঞ্চলেরজনসংখ্যারঘনত্বেরভিন্নতারকারণব্যাখ্যাকর।
ভৌগোলিকভাবে সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত কিছু পার্থক্য আছে। এ পার্থক্যের কারণে এ দুই অঞ্চলের জনসংখ্যা ঘনত্বের মধ্যে কিছুটা তারতম্য হয়।পর্বতময় অঞ্চল হওয়ার কারণে চট্টগ্রামের জনবসতি কিছুটা কম। কিন্তু প্রচুর শিল্প প্রতিষ্ঠান, সমুদ্রবন্দর, ব্যবসায় বাণিজ্যে উন্নত হওয়ায় এ অঞ্চলের জনবসতি সিলেটের চেয়ে বেশি। সিলেট অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু বসতি স্থাপনের জন্য তেমন অনুকূল নয়। অধিক বৃষ্টিপাত, অনুর্বর মৃত্তিকা, রাস্তাঘাট কম থাকায় অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কম শিল্প প্রতিষ্ঠান থাকায় সিলেট অঞ্চলের বসতি চট্টগ্রাম থেকে অনেক কম। অন্যদিকে পর্বতময় অঞ্চল হলেও বৃহৎ সমুদ্র বন্দর ও প্রচুর শিল্প কারখানা থাকায় এ অঞ্চলে জনবসতি সিলেটের চেয়ে বেশি।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ভূপ্রকৃতি, আবহাওয়া, নদনদীর অবস্থান, মৃত্তিকা, ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প কারখানা, রাস্তাঘাট, শিক্ষা ব্যবস্থা, চিকিৎসা, যেগাযোগ ব্যবস্থা প্রভৃতির পার্থক্যের কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের মধ্যে জনবসতির ঘনত্বের কিছুটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।