| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২১ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
দুটি হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের জোড় বাঁধার প্রক্রিয়াই হলো সিন্যাপসিস।
মিয়োসিস কোষ বিভাজনের প্রথম প্রোফেজে একজোড়া হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে যে অংশের বিনিময় ঘটে তাকে ক্রসিং ওভার বলে। ক্রসিং ওভারের ফলে ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময়ের ফলে জিনের বিনিময় ঘটে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত "F" বিভাজনটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া। এর চতুর্থ ধাপ হলো অ্যানাফেজ পর্যায়। এ পর্যায়ে ক্রোমোসোমের মেরুমুখী চলন ঘটে। নিচে অ্যানাফেজ পর্যায়ের চিত্রসহ ব্যাখ্যা করা হলো- এ পর্যায়ে প্রতিটি ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ার দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, ফলে ক্রোমাটিড দুটি আলাদা হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় প্রতিটি ক্রোমাটিডকে অপত্য ক্রোমোসোম বলে এবং এতে একটি করে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে। অপত্য ক্রোমোসোমগুলোর মধ্যে বিকর্ষণ শক্তি বৃদ্ধি পায়, ফলে এরা বিষুবীয় অঞ্চল থেকে পরস্পর বিপরীত মেরুর দিকে যেতে থাকে। অর্থাৎ ক্রোমোসোমগুলোর অর্ধেক এক মেরুর দিকে এবং বাকি অর্ধেক অন্য মেরুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে । মেরু লুপ্তপ্রায় স্পিন্ডল তন্তু -অপত্য ক্রোমোসোম চিত্র : অ্যানাফেজ পর্যায় অপত্য ক্রোমোসোমের মেরুর অভিমুখী চলনে সেন্ট্রোমিয়ার অগ্রগামী থাকে এবং বাহুদ্বয় অনুগামী হয়। ফলে সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোসোমগুলো ইংরেজি অক্ষর V, L, J ও I এর মতো আকার ধারণ করে। অপত্য ক্রোমোসোমগুলো মেরুর কাছাকাছি পৌঁছালেই অ্যানাফেজ পর্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত "E" কোষ বিভাজনটি হলো মিয়োসিস কোষ বিভাজন। এটি জীবের জনন মাতৃকোষে সংঘটিত হয় এবং হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপন্ন করে। বৈচিত্র্যতা সৃষ্টিতে ও প্রজাতির স্বকীয়তা বজায় রাখতে বিভাজনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো- মিয়োসিস কোষ বিভাজন জীবের প্রজনন, বিবর্তন এবং নতুন প্রকরণ সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। জীবের যৌন প্রজননের জন্য প্রথমেই পুং ও স্ত্রী গ্যামেট সৃষ্টির প্রয়োজন হয়। পুং ও স্ত্রী জনন মাতৃকোষ মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে যথাক্রমে হ্যাপ্লয়েড পুংগ্যামেট এবং স্ত্রী গ্যামেট বা ডিম্বাণু তৈরি করে। পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের যৌন মিলন এর মাধ্যমে জীব তার যৌন জনন সম্পন্ন করে। পুং ও স্ত্রী গ্যামেট তৈরি না হলে জীব তার যৌন জনন সম্পন্ন করতে পারত না। আবার এ দু'ধরনের জনন কোষ মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমেই তৈরি হয়ে থাকে। মিয়োসিস কোষ বিভাজনে দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিভের মধ্যে অংশের বিনিময়ের মাধ্যমে বংশগতীয় বৈশিষ্ট্যের পুনর্বিন্যাস ঘটে। ফলে নতন বংশধরে আসে বৈচিত্র্য এবং সৃষ্টি হয় নতন প্রকরণ। যেহেতু মিয়োসিসের ক্রসিং ওভার জীবে বৈচিত্র্য আনে সেহেতু এই জীববৈচিত্র্য ধারাবাহিকভাবে জীবের বিবর্তন ঘটায়। সুতরাং জীবের বৈচিত্র্যতা ও প্রজাতির স্বকীয়তা বজায় রাখতে মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।