| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২৩ – অণুজীব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
যে সমস্ত ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে এবং ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে তাদেরকে ব্যাকটেরিওফায বলে।
অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট দশার কোষস্থ নিউক্লিয়াস বারবার বিভাজনের মাধ্যমে ১২-২৪টি অপত্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে এবং বহু নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট এ অবস্থাকে সাইজন্ট বলা হয়।
এর সাইটোপ্লাজমে হিমোজয়েন নামক বর্জ্য পদার্থ জমা হয় । সাইজন্ট দশার প্রতিটি নিউক্লিয়াস প্রায় 45 ঘণ্টা পর সাইটোপ্লাজম ও প্লাজমামেমব্রেনসহ বিভক্ত হয়ে ১২-১৮টি মেরোজয়েট-এ পরিণত হয়। মেরোজয়েটগুলো গোলাপের পাপড়ির ন্যায় দুই স্তরে সজ্জিত হয়।
উদ্দিপকের আলোকে 'O' অর্থাৎ ভাইরাস একটি অতি আণুবীক্ষণিক এবং অকোষীয় অনুজীব।
ভাইরাস কণাকে ভিরিয়ন বলে। গঠন অনুসারে ভাইরাসের দেহ দুটি প্রধান অংশের বিভক্ত। যথা: ১. গঠন অনুসারে ভাইরাসের দেহ দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত, যথা- ১. ক্যাপসিড ও ২.নিউক্লিক অ্যাসিড
১. ক্যাপসিড: ভাইরাস কণার বাইরের প্রোটিন আবরণের নাম ক্যাপসিড। এ আবরণটি অসংখ্য প্রোটিন অণুর একক দিয়ে গঠিত। প্রতিটি অণু একককে ক্যাপসোমিয়ার বলে। কোন কোন প্রাণী ভাইরাসের ক্যাপসিড আবরণীর বাইরে একটি লিপোপ্রোটিনের স্তর (নিপোভাইরাস বলা হয়। বিদ্যমান থাকে। এরূপ ভাইরাসকে লিপোভাইরাস বলে।
কোন কোন ভাইরাসে ক্যাপসিড আবরণীর বাইরে একটি কোষঝিল্লির স্তর থাকে। এরূপ ভাইরাসকে মিক্সোভাইরাস বলা হয়। পক্ষান্তরে ভাইরাসে শুধুমাত্র নিউক্লিক অ্যাসিড থাকে, প্রোটিন আবরণ থাকে না। ক্যাপসিড স্তরে প্রোটিন অণুগুলো গোলাকৃতির ভাইরাসে বহুতলকভাবে, দন্ডাকৃতির ভাইরাস সর্পিলভাবে থাকে। ভাইরাসের মাত্রায় বহুতলকভাবে ও লেজ অংশে সর্পিলভাবে সজ্জিত থাকে। ক্যাপসিড স্তরটি অ্যান্টিজেনিক বৈশিষ্ট্যের।
২. নিউক্লিক অ্যাসিড: ভাইরাস কণার কেন্দ্রীয় অংশটি নিউক্লিক অ্যাসিড দিয়ে গঠিত। নিউক্লিক অ্যাসিডটি হয় RNA কিংবা DNA দিয়ে তৈরি। একই ভাইরাসে কখনও উভয় প্রকারের নিউক্লিক অ্যাসিড একত্রে অবস্থান করে না। সাধারণত উদ্ভিদ ভাইরাসে RNA এবং প্রাণী ভাইরাস ও ব্যাকটেরিওফায়ে DNA বিদ্যমান থাকে। ভাইরাসের এই নিউক্লিক অ্যাসিড অংশটিকে নিউক্লিঅয়েড বা ভাইরাস জিনোম বলে। অধিকাংশ ভাইরাসের DNA দ্বি-সূত্রবিশিষ্ট এবং RNA একসূত্র বিশিষ্ট হয়ে থাকে।
উদ্দিপকের আলোকে, 'P' হচ্ছে আণুবীক্ষণিক ও কোষীয় অর্থাৎ এটি ব্যাকটেরিয়া। জিন প্রকৌশল পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় এর বহুবিধ ব্যবহার লক্ষণীয়।
কোনো জীব থেকে কাঙ্ক্ষিত কোনো জিন পৃথক করে নিয়ে অন্য কোনো কাঙ্ক্ষিত জীবকোষে প্রতিস্থাপন করাই হলো বা জিন প্রকৌশল। আর যেসব ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় বা দূষক উপাদানসমূহকে পুনঃপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করা যায় তাকে পরিবেশ ব্যববস্থাপনা বলে।
বহুবিধ ব্যবহার সমূহ:
ক. জিন প্রকৌশল এর ক্ষেত্রে-
১. কৃষি ক্ষেত্রে: ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ উৎপাদনে সক্ষম। Bacillus thuringiensis নামক ব্যাকটেরিয়া থেকে একটি জিন যোগ করার মাধ্যমে ট্রান্সজেনিক তুলা তৈরি হয়। তাছাড়াও, উদ্ভিদের গুণগত মান উন্নয়নে Agrobacterium tumefaciens, সুপার রাইস বা গোল্ডেন রাইস তৈরিত, রোগ প্রতিরোধক্ষম জাত উদ্ভাবনে, নাইট্রোজেন সংবন্ধনে, দ্যুতিময় উদ্ভিদ সৃষ্টিতে, বীজহীন ফল সৃষ্টিতে, ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গরোধী উদ্ভিদ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।
২. জিন প্রযুক্তিতে: উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহে ভাইরাস জীবাণু সনাক্তকরণে, বিভিন্ন টিউমার কোষকে চিহ্নিত করতে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডির উৎপাদন ও সঠিক জায়গায় প্রেরণ, জিনগত বিভিন্ন রোগ সণাক্তকরণ ও নিরাময়, বিভিন্ন প্রকার জীবাণুকে জীবাণু অস্ত্র হিসেবে দেশের
প্রতিরক্ষায় বা সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহার।
৩. চিকিৎসা ক্ষেত্রে: ইনসুলিন তৈরিতে Escherichia coli ব্যাকটেরিয়া ব্যবহৃত হয়।
৪. শিল্পক্ষেত্রে: শিল্পক্ষেত্রে অনুজীববিদ্যার জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন ওষুধের গুণগত ও পরিমাণগত উৎপাদন
বাড়ানো, বিভিন্ন জৈব অ্যাসিড উৎপাদন অ্যালকোহল উৎপাদন, গোবরসহ বিভিন্ন আবর্জনা থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন, ইউরেনিয়াম, কপার প্রভৃতি খনির সন্ধানে, জৈব শক্তি উৎপাদন এ ব্যবহৃত হয়।
খ. পরিবেশ রক্ষায়:
১. কলকারখানা ও খনি থেকে নির্গত বর্জ্য: মনুষ্যসৃষ্ট জাল ও বর্জ্য ধ্বংস ও পরিবেশ নির্মল করার কাজে অনুজীবের ব্যবহার, কল-কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের প্রশমন ঘটানোর জন্য অনুজীবের ব্যবহার। Saccharomyces cerevisiae.
২. জিন ব্যাংক স্থাপনের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা।
৩. সমুদ্রে তেল নির্গমন: Pseudomonas, Nocardia, Mycobacteria ইত্যাদি বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে।
৪. পয়ঃবর্জ্য বা সিউয়েজ আত্তীকরণ: তলানি সার হিসেবে ব্যবহার করতে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া হলো Zooglea ramigera.
জিন প্রকৌশল এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় ব্যাকটেরিয়া উপরের আলোচনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ব্যাকটেরিয়াকে কাজে লাগিয়ে এর উপকারিতা গুলো বিজ্ঞানীরা যথার্থভাবে কাজে লাগিয়েছেন। যার প্রয়োগে পুরো বিশ্বজুড়ে ব্যাকটেরিয়া জিন প্রকৌশল এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত প্রশংসনীয় অবদান রাখতে সক্ষম।