| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২৩ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
যে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জটিল খাদ্যবস্তু বিভিন্ন হরমোনের প্রভাবে ও এনজাইমের সহায়তায় ভেঙ্গে দ্রবণীয় সরল ও তরল এবং দেহকোষের গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠে তাকে পরিপাক বলে।
গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি এক ধরনের নলাকার গ্রন্থি যা চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থির কোষগুলো হলো- অক্সিনটিক কোষ, মিউকাস কোষ, আর্জেন্টাফিন কোষ ও জাইমোজেনিক কোষ। প্রত্যেক কোষের ক্ষরণ আলাদা আলাদ হয়। সম্মিলিতভাবে গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থির রসকে গ্যাস্ট্রিক জুস বলে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ দিনে প্রায় ২ লিটার গ্যাস্ট্রিক জুস তৈরি হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত “P” অঙ্গটি হলো যকৃত। এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। পরিপাকতন্ত্রে যকৃতের ভূমিকা ব্যাখ্যা করা হলো:
যকৃতের বিপাকীয় ভূমিকা:
১. শর্করা বিপাক : যকৃত গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেন এবং ইনসুলিন নিঃসরণের মাধ্যমে শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
২. প্রোটিন বিপাক : যকৃত ডিঅ্যামিনেশন এবং প্লাজমা প্রোটিন উৎপাদনের মাধ্যমে প্রোটিন বিপাকে অংশগ্রহণ করে।
৩. ফ্যাট বিপাক : যকৃত অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটকে ফ্যাটে রূপান্তর করে এবং রক্ত থেকে ক্লোলেস্টেরল সরিয়ে ফ্যাট বিপাকে অংশগ্রহণ করে।
৪. তাপ উৎপাদন : যকৃতের অভ্যন্তরে নানা ধরনের বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ায় এখানে প্রচুর তাপ উৎপাদিত হয়। এই তাপ দেহের সমগ্র সঞ্চালিত হয়ে তাপমাত্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
৫. টক্সিন বা বিষ অপসারণ : যকৃত কোষের অভ্যন্তরে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় এই বিষ প্রশমিত করে ।
৬. হরমোন ভাঙ্গন: যকৃত বিভিন্ন হরমোনের কর্মকাণ্ডে স্থায়ী অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে হরমোন ভাঙ্গন নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া যকৃত লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন ও ভাঙ্গন, হিমোগ্লোবিনের ভাঙ্গন, কোলেস্টেরল উৎপাদন, পিত্ত উৎপাদন এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিপাকীয় ভূমিকায় অংশগ্রহণ করে।
যকৃতের সঞ্চয়ী ভূমিকা:
১. গ্লাইকোজেন সঞ্চয় : গ্লুকোজ যকৃতে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত থাকে।
2. রক্তসঞ্চয় : যকৃত রক্তের ভাণ্ডার হিসাবে কাজ করে। ১৫০০ সি.সি. রক্ত এতে জমা থাকে। প্রয়োজনে রক্তের অভাব পূরণ করে।
৩. ভিটামিন সঞ্চয় : যকৃত স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনসমূহ (A, D, E, K), পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ( B ও C), নিকো টিনিক এসিড (B12) এবং ফলিক এসিড সঞ্চয় করে।
৪. চর্বি ও অ্যামিনো এসিড সঞ্চয় : শর্করাকে চর্বিতে পরিণত করে এবং অ্যামিনো এসিড ও চর্বি সঞ্চয় করে যকৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৫. মিনারেল সঞ্চয় : যকৃত লৌহ ও পটাসিয়াম সঞ্চয় করে। লোহিত রক্তকণিকার ভাঙনে হিমোগ্লোবিন যকৃতের কাপফার কোষের মাধ্যমে হিম ও গ্লোবিন-এ পরিণত হয়। হিমের লৌহ অংশ ফেরিটিন হিসেবে যকৃতে জমা থাকে। এছাড়াও কপার, জিঙ্ক,কোবাল্ট ইত্যাদি মিনারেল স্বল্পমাত্রায় যকৃতে সঞ্চিত থাকে।
উদ্দীপকে ‘R’ হচ্ছে অগ্ন্যাশয়, যা একটি মিশ্র গ্রন্থি এবং 'Q' হচ্ছে পিত্তথলি ৷ যকৃত কোষ থেকে ক্ষরিত পিত্তরস এই পিত্তথলিতে জমা থাকে। খাদ্য পরিপাকে অগ্ন্যাশয় পিত্তথলি-এর উপর নির্ভরশীল। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. যকৃত কোষ থেকে নিঃসৃত পিত্তরস বা পিত্ত পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং এটি ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ । পিত্তরস যকৃৎ থেকে নিঃসৃত হয়ে বাম ও ডান যকৃৎ নালিপথে অভিন্ন যকৃৎ নালিতে আসে এবং সিস্টিক নালী দিয়ে পিত্তথলিতে জমা হয়। অগ্নাশয় থেকে আগত উহর্সাং নালি অগ্নাশয় গ্রন্থির দৈর্ঘ্য বরাবর এসে ডিওডেনামের কাছে অভিন্ন পিত্তনালির সাথে মিলিত হয়ে আ্যাম্পুলা অব ভ্যাটার এর মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবেশ করে ।
২. স্নেহ পরিপাকে পিত্তরস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পিত্তরসে কোনো এনজাইম থাকে না, কিন্তু অগ্ন্যাশয় রসে খাদ্য পরিপাককারী এনজাইম থাকে ।
৩. পিত্তরসে বিদ্যমান পিত্তলবণ- যেমন সোডিয়াম প্লাইকোকোলেট ও সোডিয়াম টরোকোলেট স্নেহ জাতীয় খাদ্যকে ভেঙ্গে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত করে। এই প্রক্রিয়াটিকে ইমালসিফিকেশন বলে। উদ্দীপকের 'Q' এই ইমালসিফিকেশন ঘটায় যার উপর পরবর্তীতে অগ্ল্যাশয় রস ‘R’ নিঃসৃত এনজাইম কাজ করে স্নেহ জাতীয় খাদ্যের পরিপাক ঘটায়।৪. ইমালসিফিকেশন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ক্ষুদ্র স্নেহকণার উপর পররতীতে লাইপেজ নামক এনজাইম (অগ্ন্যাশয় নিঃসৃত) কাজ করে স্নেহকণাকে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল নামক সরলতম স্নেহকণায় পরিণত করে। অর্থাৎ পিত্তলবণ চর্বি পরিপাককারী এনজাইম লাইপেজকে সক্রিয় করে পরিপাকে সাহায্য করে।
সুতরাং, উপরোক্ত তথ্যাবলি থেকে স্পষ্ট হয় যে খাদ্য পরিপাকে ‘R’ অগ্নাশয় ‘Q’ পিত্তথলির উপর নির্ভরশীল।