| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২৩ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
Labeo rohita- এর মেরুদন্ডের নিচে এবং পৌষ্টিকনালির উপরে অবস্থিত ও যোজক টিস্যুতে গঠিত পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট থলির নামই বায়ুথলি।
রুইমাছের কানকোর নিচে কৈশিক জালিকা সমৃদ্ধ পাতলা পর্দা থাকে একে ব্রাঙ্কিওস্টেগাল পর্দা বলে। এটি ফুলকা প্রকোষ্ঠে অবস্থিত পানি থেকে বা শ্বসনের জন্য যে পানি স্রোতের সৃষ্টি হয় তা থেকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় O2 উক্ত কৈশিক জালিকায় প্রবেশ করে। ফলে এই পর্দা কিছুটা শ্বসনে সাহায্যে করে।
উদ্দীপকের রেখাচিত্রের মাধ্যমে রুইমাছের হৃদপিন্ডকে বুঝানো হয়েছে। নিচে এর গঠন ব্যাখ্যা করা হলো:
১. সাইনাস ভেনোসাস: এটি পাতলা প্রাচীর বিশিষ্ট উপপ্রকোষ্ঠ যা হৃৎপিণ্ডের পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত।
২. অ্যাট্রিয়াম: এটি পেরিকার্ডিয়াল গহ্বরের সম্মুখ পৃষ্ঠভাগে অবস্থিত পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট বৃহত্তম প্রকোষ্ঠ ৷
৩. ভেষ্ট্রিকল: এটি হৃৎপিণ্ডের সর্বশেষ প্রকোষ্ঠ। পেরিকার্ডিয়াল গহ্বরের অঙ্কীয় দেশে অবস্থিত।
৪. বাল্বাস আর্টারিওসাস: রুই মাছের হৃৎপিণ্ডে কোনাস আর্টারিওসাস নেই। তার পরিবর্তে বাল্বাস আর্টারিওসাস নামক একটি গঠন দেখা যায় যা মূলত ভেন্ট্রাল আ্যাওর্টার স্ফীত হওয়া গোড়া বা মূল। এটি হৃৎপিন্ড থেকে ভেন্ট্রাল আ্যাওর্টায় রক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
রুইমাছের উপপ্রকোষ্ঠ ও প্রকোষ্ঠগুলোর সংযোগ ছিদ্রে কপাটিকা থাকে। কপাটিকাগুলো হলো-
১. সাইনো-আট্রিয়াল কপাটিকা: সাইনাস ভেনোসাস ও অ্যাট্রিয়ামের মাঝে অবস্থিত ছিদ্রপথে এ কপাটিকা থাকে ।
২. আ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার কপাটিকা: আ্যাট্রিয়াম ও ভেন্ট্রিকলের মাঝে অবস্থিত আ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার ছিদ্রপথে এ কপাটিকা অবস্থান করে ।
৩. ভেন্ট্রিকুলো-বাল্বাস কপাটিকা: এটি ভেন্ট্রিকল ও বাল্বাস আ্যাওর্টার মাঝে অবস্থিত কপাটিকা ৷
উদ্দীপকে উল্লেখিত চক্রটি দ্বারা রুই মাছের রক্তসংবহন প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে। রুই মাছের রক্তসংবহন একচক্রী রক্তসংবহন। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
রুই মাছের হৃৎপিণ্ড সিলোমের বিশেষ একটি প্রকোষ্ঠে অবস্থিত। এ প্রকোষ্ঠটিকে পেরিকার্ডিয়াল গহ্বর বলে। এটি ফুলকাগুলোর ঠিক পেছনে অবস্থিত। রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের প্রতিটি প্রকোষ্ঠে কেবলমাত্র অক্সিজেনরিক্ত অর্থাৎ CO2 যুক্ত রক্ত থাকে বলে একে ভেনাস হৃৎপিন্ড বলে। হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলো পরপর সজ্জিত হয়ে জালকের আকৃতি ধারণ করে এবং রক্ত তার মধ্য দিয়ে একই গতিপথে প্রবাহিত হয়ে নালি পথে ফুলকায় যায় এবং অক্সিজেন যুক্ত হয়। এরূপ অক্সিজেন যুক্ত রক্ত পুনরায় হূৎপিণ্ডে ফিরে না, ফুলকা থেকে সরাসরি নালিপথে ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ হৃৎপিণ্ডের মধ্যদিয়ে CO2 যুক্ত রক্ত পেছন হতে সামনের দিকে শুধু একমুখী হয়ে চলাচল করে। তাই এদের হৃৎপিণ্ডকে একচক্রী হৃৎপিণ্ড বলা হয়। এ কারণে এ ধরনের রক্ত সংবহনকে একমুখী রক্ত সংবহনতন্ত্র বলে।