| ㅤ | A. Nayan20 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২৫ – ব্যাখ্যা, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
ব্যাখ্যা দুই প্রকার। যথা- (১) বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও (২) লৌকিক ব্যাখ্যা।
লৌকিক ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃতিক, মনগড়া ও অলৌকিক কারণ উল্লেখ করে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। এখানে অমৌলিক ও গুরুত্বহীন বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। এছাড়া এখানে কার্যকারণ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে না বিধায় লৌকিক ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা নয়।
উদ্দীপকের চিহ্নিত স্থানের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নির্দেশিত হয়েছে। কেননা চিহ্নিত স্থানটির নিচে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ শৃঙ্খলযোজন উপস্থাপন করা হয়েছে।
ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল ও রহস্যময় ঘটনাকে সহজ, সরল, স্পষ্ট ও বোধগম্যভাবে উপস্থাপন করা হয়। আর যে ঘটনার ব্যাখ্যায় প্রাকৃতিক বা বৈজ্ঞানিক নিয়ম উল্লেখ করে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কোনো ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়, নিয়মটিকে অবরোহ ও অন্যান্য নিয়মের সাথে যুক্ত করা হয়। এরূপ ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কোনো একটি ঘটনার নিয়মকে অন্য কোনো বৃহৎ নিয়মের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। এভাবে সংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনার নিয়মকে যখন অন্য কোনো নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় তখন তাকে সাধারণ নিয়মে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ ব্যাখ্যায় প্রকল্পের ব্যবহার করা হয়। এখানে ঘটনার কারণ সম্পর্কে প্রকল্প প্রণয়ন করা হয় এবং ওই প্রকল্পের ওপর ভিত্তি করে ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় একটি ঘটনার সাথে অন্য একটি ঘটনার সাদৃশ্য বিচার করে ব্যাখ্যা করা হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অবরোহ পদ্ধতির সাথে যুক্ত। কেননা এখানে উচ্চতর কোনো সাধারণ নিয়ম থেকে কোনো বিশেষ নিয়মকে অনুমান করা হয়। এভাবে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কোনো একটি ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা হয়, যার মাধ্যমে একটি ঘটনার প্রকৃত রূপ আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়। তাই উদ্দীপকের চিহ্নিত স্থানটি দ্বারা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নির্দেশিত হয়েছে।
উত্তরের A ও C দ্বারা যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ বিশ্লেষণ ও অন্তর্ভুক্তি নির্দেশিত হয়েছে।
উদ্দীপকের চিত্রে A ও C ব্যতীত কেবল শৃঙ্খলযোজনকে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমরা জানি, শৃঙ্খলযোজন ব্যতীত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্য দুটি রূপ হলো বিশ্লেষণ ও অন্তর্ভুক্তি। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার প্রাকৃতিক নিয়ম বা কার্যকারণ নিয়ম উল্লেখ করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার যেরূপে কোনো একটি মিশ্রকার্যের মিলিত কারণগুলোকে পৃথকভাবে উপস্থাপন করে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় তাকে বিশ্লেষণ বলে। মিশ্রকার্য হলো কতকগুলো স্বতন্ত্র কারণের মিলিত প্রচেষ্টার ফল। বিশ্লেষণে মিশ্রকার্যের স্বতন্ত্র কারণগুলোকে পৃথক করে ব্যাখ্যা করা হয়। যেমন- নদীতে নৌকা চালানো একটি মিশ্রকার্য। এ মিশ্রকার্যটির স্বতন্ত্র কারণগুলো হলো-নদীর স্রোত, বাতাসের বেগ, মাঝির দক্ষতা, দাঁড়ের ব্যবহার প্রভৃতি। এভাবে বিভিন্ন স্বতন্ত্র কারণ পৃথক করে মিশ্র কার্যকে ব্যাখ্যা করলে তাকে বিশ্লেষণ বলে।
আবার, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় প্রাকৃতিক বা বৈজ্ঞানিক নিয়ম উল্লেখ করে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় যেরূপে একটি কম ব্যাপক নিয়মকে একটি বেশি ব্যাপক নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় তাকে অন্তর্ভুক্তি বলে। যেমন- জোয়ার-ভাটার নিয়মকে যখন মাধ্যাকর্ষণ নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয় তখন তাকে অন্তর্ভুক্তি বলে। এখানে সংশ্লিষ্ট ঘটনার নিয়ম একটি বিশেষ নিয়ম। আর যে নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে কোনো ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা হয় সেটি একটি সার্বিক নিয়ম। এভাবে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় অন্তর্ভুক্তি বলে।