| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের ভ্রূণীয় পরিস্ফুটনের সময় কয়েকটি খণ্ডক একত্রে মিলিত হয়ে সুনির্দিষ্ট অঞ্চল গঠন করার প্রক্রিয়াই ট্যাগমোসিস।
সিলোমের গঠন এবং পরিস্ফুটন পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে প্রাণীদের চারটি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা যায়। প্রথমত, যাদের সিলোম ব্লাস্টোসিল গহ্বর থেকে গঠিত হয় এবং বাইরে এক্টোডার্ম ও ভেতরে এন্ডোডার্ম থাকে, তাদের অপ্রকৃত সিলোমবাহী 'প্রাণী বলে। দ্বিতীয়ত, সাইজোসিলোমেটা প্রাণীদের সিলোম গঠিত হয় এন্ডোমেসোডার্মাল ফাটলের ফলে। তৃতীয়ত, মেসেনকাইমাল সিলোমেটা প্রাণীদের সিলোম মেসেনকাইম স্তরের কোষ দিয়ে ঘেরা থাকে। চতুর্থত, এন্টেরোসিলোমেটা প্রাণীদের সিলোম ভূণের আর্কেন্টেরন অঞ্চল থেকে গঠিত হয় এবং দেখতে মেসোডার্মাল থলির মতো হয়।
চিত্র-X₁ দ্বারা হেটেরোসার্কাল পুচ্ছপাখনা দেখানো হয়েছে যা ন্যাথোস্টোমাটা বিভাগের Chondrichthyes শ্রেণি নির্দেশ করে। নিচে Chondrichthyes শ্রেণিটির বর্ণনা দেওয়া হলো-
গ্রিক শব্দ Chondros (তরুণাস্থি) এবং ichthyes (মাছ) থেকে এই নামটির উৎপত্তি হয়েছে। এই শ্রেণির প্রাণীদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের অন্তঃকঙ্কাল সম্পূর্ণ তরুণাস্থি দ্বারা গঠিত। এদের পুরো দেহ অত্যন্ত ক্ষুদ্র বা আণুবীক্ষণিক প্লাকয়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত থাকে। এই মাছগুলোর দেহের আকৃতি মাকুর মতো অথবা এরা অঙ্কীয় ও পৃষ্ঠীয়ভাবে চাপা হতে পারে। এদের মুখছিদ্র দেহের অঙ্কীয় তলে বা নিচের দিকে অবস্থিত। এদের পরিপাকতন্ত্র অনেকটা ইংরেজি 'J' অক্ষরের মতো এবং পাকস্থলীতে সর্পিল কপাটিকা থাকে। শ্বাসকার্য চালানোর জন্য এদের দেহের পাশে অথবা নিচে ৫-৭ জোড়া উন্মুক্ত ফুলকারন্দ্র থাকে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এদের দেহে কোনো বায়ুপটকা বা ফুসফুস থাকে না। এছাড়া এদের লেজ বা পুচ্ছপাখনা হেটেরোসার্কাল ধরনের হয়। হাতুড়ি হাঙর (Sphyrna blochii) এবং করাত মাছ (Pristis microdon) ইত্যাদি এই শ্রেণির অন্যতম উদাহরণ।
উদ্দীপকে চিত্র-X₂ হলো ডাইফিসার্কাল লেজ যা Sarcopterygii শ্রেণির প্রাণীদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য এবং চিত্র-X3 হলো হোমোসাকাল লেজ যা Actinopterygii শ্রেণির প্রাণীদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, অর্থনৈতিক এবং বিবর্তনের দিক থেকে এদের তাৎপর্য নিচে আলোচনা করা হলো-
Sarcopterygii শ্রেণির মাছের যুগ্ম পাখনাগুলো মাংসল খণ্ডযুক্ত হওয়ায় এদের Lobe-finned fish বলা হয়। এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের পুচ্ছপাখনা ডাইফিসার্কাল ধরনের যা মেরুদণ্ডকে ঘিরে থাকে এবং শেষ প্রান্তটি সুচালো হয়। এদের ত্বকে গ্যানয়েড বা কসময়েড ধরনের আঁইশ থাকে। এদের পটকা বা বায়ুথলি রক্তজালক সমৃদ্ধ হওয়ায় তা ফুসফুসের মতো কাজ করে। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে এদের লাংফিশ বা ফুসফুস মাছ বলা হয় যা বিবর্তনের ইতিহাসে জলজ থেকে স্থলজ প্রাণীর উৎপত্তিতে সংযোগকারী যোগসূত্র হিসেবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
অন্যদিকে Actinopterygii হলো রশ্মিময় পাখনাবিশিষ্ট মাছ যা বিশ্বের অধিকাংশ মাছের প্রতিনিধিত্ব করে। এদের দেহ সাধারণত সাইক্লয়েড বা টিনয়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত থাকে এবং পুচ্ছপাখনা হোমোসাকাল বা সমান দুই অংশে বিভক্ত হয়। এদের মাথায় চার জোড়া ফুলকা থাকে যা কানকো দিয়ে ঢাকা থাকে। এদের বায়ুথলি প্রধানত ভেসে থাকতে বা প্লবতা রক্ষায় সাহায্য করে। পৃথিবীর মৎস্য সম্পদের সিংহভাগ এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এরা অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, বৈশিষ্ট্যের বিশেষত্বের ভিত্তিতে Sarcopterygii শ্রেণিটি বিবর্তন সম্পর্কিত গবেষণায় এবং Actinopterygii শ্রেণিটি বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও অর্থনীতির প্রধান উৎস হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।