| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৩ – অপরিচিতা, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রী গীতা রাণী সরকার। লেখা-পড়া শেষ করতেই ২৭ বছর পেরিয়ে গেল। বিয়ের ব্যাপারে কয়েকবার সম্বন্ধ আসে এবং দেখাশুনা হলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে হয়নি। গীতা রাণী লেখা-পড়া শেষে একটি স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সমাজে অবহেলিত, পশ্চাৎপদ নারীদের গভীর মনোযোগ সহকারে শিক্ষাদান করেন। হঠাৎ প্রতিবেশি কালীচরণ রায় একটি সম্বন্ধ নিয়ে আসে। গীতা তাকে বিনয়ের সঙ্গে জানান- সে এখন আর বিয়ে করতে পারবে না। কারণ সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের শিক্ষার গুরু দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
অনুপমকে ‘মাকাল’ ফলের সাথে তুলনা করে বিদ্রুপ করেছিলেন তার পণ্ডিতমশাই।
পনেরো বছর বয়সেও কল্যাণীর বিয়ে না হওয়ার কারণ নির্দেশ করা হয়েছে উক্তিটির মাধ্যমে। কল্যাণীর বয়স পনেরো যা তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় বিয়ের যোগ্য কন্যার জন্য অনেকটাই বেশি। মোটা টাকা পণ দিতে হয় বলে সুপাত্র মেলাই ভার। তবে এ ব্যাপারে কল্যাণীর বাবা চিন্তিত নয়। বয়স যতই হোক উপযুক্ত পাত্র ছাড়া কন্যার বিয়ে না দিতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তখনকার সমাজে কন্যার পিতার এরূপ মনোভাবের প্রকাশ ঘটতে সাধারণত দেখা যেত না।
উদ্দীপকে গীতার রানীর সাথে অপরিচিতা গল্পের কল্যাণীর সাদৃশ্য রয়েছে। তারা উভয়ই স্বাধীনচেতা মনোভাবের এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদী। এছাড়াও তারা নারীর কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।
অপরিচিতা গল্পে নায়িকা কল্যাণী এর মধ্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার এক ধরনের মনোভাব ফুটে উঠেছে। সে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এবং ভবিষ্যতে নারীদের কল্যাণমূলক কাজের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই গীতা রানী সরকার। সে তার গ্রামের স্বল্প শিক্ষিত মহিলাদের কল্যাণে নিজেকে নিযুক্ত করছেন। তিনি গ্রামের পিছিয়ে পড়া নারীদের নিয়ে কাজ করছেন।
সুতরাং উদ্দীপক এবং কল্যাণী মধ্যে সমাজে নারীদের নিয়ে কাজ করার উদ্যোগটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের গীতা রাণীর বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জাগরণ 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর বুদ্ধিদীপ্ততার আত্মপ্রকাশ – আমি এক মত সমর্থন করি।
“অপরিচিতা” গল্পে অপরিচিতা বিশেষণের আড়ালে যে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী নারীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে, তার নাম কল্যাণী পৃথিবীর মোট জনশক্তির অর্ধেক নারী। তাই তাদের দমিয়ে রেখে কোনো জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। ঘরের কোণে বন্দি না থেকে নারীরা আজ পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকল কাজের অংশীদার হয়ে উঠছে। গল্পের শেষাংশে কল্যাণীর বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জাগরণ ও শুচিশুভ্র আত্মপ্রকাশ দেখা যায়, যা ভবিষ্যতের নতুন নারীর আগমনী ইঙ্গিতে সমাপ্ত।
উদ্দীপকে গীতা রানী সরকার, গ্রামের একজন শিক্ষিত নারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হয়ে গ্রামের স্বল্প শিক্ষিত মানুষদের নিয়ে কাজ করতে চেয়েছেন। সেই লক্ষ্যে তিনি গ্রামের মহিলাদের শিক্ষিত করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এক্ষেত্রে উদ্দীপক এবং অপরিচিতা গল্পের কল্যাণী উভয়ের মধ্যে বলিষ্ঠ জাগরন ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটে।