| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রাজু মিঠা পানিতে…’ বরিশাল বোর্ড ২০১৭ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

রাজু মিঠা পানিতে বসবাসকারী একটি প্রাণী সম্পর্কে জানল যার গ্রীক পুরাণে বর্ণিত প্রাণীর মত পুনরুৎপত্তি ক্ষমতা রয়েছে। সে আরও জানল এসব প্রাণিদেহে বিশেষ কোষ রয়েছে যা খাদ্য গ্রহণ, আত্মরক্ষা ও চলনে সহায়তা করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
পরিপাক হলো একটি জৈব রাসায়নিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে প্রাণিদেহে গৃহীত জটিল, অদ্রবণীয়, অশোষণীয় খাদ্য উপাদানসমূহ বিভিন্ন হরমোনের প্রভাবে ও এনজাইমের সহায়তায় দ্রবণীয় সরল ও তরল এবং দেহকোষের শোষণ উপযোগী হয়ে ওঠে।
দেহের উচ্চতার সাথে ওজনের সামঞ্জস্য রক্ষা করার সূচক হলো BMI (Body Mass Index)। দেহের মোট ওজনকে (কেজি এককে) উচ্চতার (মিটার এককে) বর্গ দিয়ে ভাগ করলে BMI পাওয়া যায়। একজন সুস্থ স্বাভাবিক ব্যক্তির BMI ১৮.৫-২৪.৯ মধ্যে থাকে। BMI মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের বর্ণিত প্রাণীটি হলো হাইড্রা। এর বিশেষ কোষটি হলো নিডোসাইট কোষ। নিচে নিডোসাইটের গঠন চিত্রসহ দেওয়া হলো-
কর্ষিকা ব্যতীত এরা এককভাবে থাকে। কর্ষিকায় বিদ্যমান গুচ্ছাকার নিডোসাইট কোষ ব্যাটারী নামে পরিচিত। একটি আদর্শ নিডোসাইট কোষ দ্বিস্তরী আবরণ দ্বারা আবৃত। স্তর দুটির মাঝখানে দানাদার সাইটোপ্লাজমসহ সকল কোষীয় অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। কোষের অভ্যন্তরস্থ গহ্বর ও সূত্রকযুক্ত থলেটি হলো নেমাটোসিস্ট। গহ্বরটি আমিষ ও ফেনলের সমন্বয়ে গঠিত বিষাক্ত তরল হিপনোটক্সিন দ্বারা পূর্ণ থাকে। লম্বা সরু, ফাঁপা সূত্রকটি থলের সরু সম্মুখ প্রান্তে লাগানো থাকে। সূত্রকের গোড়ায় তিনটি বড় ও অসংখ্য ছোট কাঁটা থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় সূত্রকটি থলের ভেতর ঢোকানো থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় নেমাটোসিস্টের সূত্রক ও থলি যে ঢাকনা দিয়ে আবৃত থাকে, তাই অপারকুলাম। উন্মুক্ত অবস্থায় এটি পাশে সরে যায়। নিডোসাইট কোষের মুক্ত প্রান্তের শক্ত, দৃঢ়, সংবেদনশীল কাঁটাটি হলো নিডোসিল। এটি ট্রিগারের মত কাজ করার ফলে প্যাঁচানো সূত্রকটি বাইরে বেরিয়ে আসে। কোষস্থ সাইটোপ্লাজম ও নেমাটোসিস্টের প্রাচীরে সংকোচনশীল কিছু পেশিতন্তু থাকে। এছাড়াও কোষের নিচের প্রান্তে ল্যাসো নামের একটি প্যাঁচানো সূত্র থাকে।
উদ্দীপকের প্রাণী হলো হাইড্রা এবং বিশেষ কোষটি হলো নিডোসাইট কোষ। এটি খাদ্যগ্রহণ, আত্মরক্ষা ও চলনে সহায়তা করে। হাইড্রার পদতল ছাড়া বহিঃত্বকের সর্বত্র বিশেষ করে কর্ষিকায় এসব কোষ থাকে।
হাইড্রার খাদ্য গ্রহণের প্রধানতম অঙ্গ হলো কর্ষিকা ও নিডোসাইটের নেমাটোসিস্টসমূহ। ক্ষুধার্ত হাইড্রা পানিতে মুক্তভাবে ভেসে থাকার সময় শিকারের সন্ধানে কর্ষিকা প্রসারিত করে রাখে। কোনো শিকার কর্ষিকার কাছে আসতেই কর্ষিকার পেনিট্র্যান্ট নেমাটোসিস্টের সূত্রটি শিকারের গায়ে বিদ্ধ করে। তারপর হিপনোটক্সিন বিষটি শিকারের গায়ে প্রবেশ করিয়ে তাকে অসাড় করে ফেলে। এ সময় ভলভেন্ট নেমাটোসিস্ট শিকারকে পেঁচিয়ে ফেলে এবং গ্লুটিন্যান্ট নেমাটোসিস্টের কাঁটা ও সূত্রকের সাহায্যে একে আঁকড়ে ধরে রাখে। কর্ষিকাগুলো এ অবস্থায় শিকারকে মুখের কাছে নিয়ে আসে ও প্রসারিত মুখছিদ্রটি খাদ্য গ্রহণ করে। এছাড়া নেমাটোসিস্টের সাহায্যে হাইড্রা হাঁমাগুড়ি ও ডিগবাজী পদ্ধতিতে চলন সম্পন্ন করে। কর্ষিকার গ্লুটিন্যান্ট নেমাটোসিস্ট চলন তলকে আঁকড়ে ধরতে সাহায্য করে। ফলে পেশি-আবরণী কোষের সংকোচনের মাধ্যমে হাইড্রার দেহ সামনের দিকে এগিয়ে যায়। এছাড়াও হাইড্রার নিডোসাইট কোষ আত্মরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।