| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রাজু সকালে নদীতে…’ সরকারি আজিজুল হক কলেজ ২০২৫ – সমুদ্রস্রোত ও জোয়ারভাটা, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

রাজু সকালে নদীতে স্নান করতে গিয়ে দেখে নদীর পানি পূর্বের তুলনায় বেড়ে গেছে। এ বিষয়ে জানার জন্য সে ভূগোলের শিক্ষককে প্রশ্ন করলে শিক্ষক বলেন, জোয়ারভাটার কারণেই এমন ঘটনা ঘটে থাকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
ভারত মহাসাগরের গভীরতা ৩,৭৪১ মিটার।
গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ক, আটলান্টিক মহাসাগরে উত্তর আমেরিকার মহাদেশীয় শেলফের অংশ, কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। এটি আন্তর্জাতিক মাছ ধরার মাঠ হিসেবে খ্যাত। ব্যাঙ্কগুলো উত্তর থেকে দক্ষিণে ৩৫০ মাইল এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে ৪২০ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত।
বিশ্বের বাণিজ্যের ওপর উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত জোয়ারভাটার প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো:
জোয়ারের সময় পানি বৃদ্ধি পায় বলে সমুদ্রগামী জাহাজের পক্ষে নদীবন্দরে প্রবেশে সুবিধা হয়। আবার ভাটার স্রোতের সঙ্গে ঐ জাহাজ অনায়াসে সমুদ্রে এসে পড়ে। চট্টগ্রাম, চালনা, মংলা, কলকাতা, লন্ডন প্রভৃতি বন্দরগুলো জোয়ারের সময় জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করে এবং ভাটার সময় সমুদ্রে বের হয়ে আসে। ফলে ব্যবসায়-বাণিজ্যে পরিবহন খরচ কম হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে জলপথে বাণিজ্য সুগম হচ্ছে।
জোয়ারভাটার ফলে পলিমাটি পড়ে নদীর মুখ বন্ধ হয়ে যেতে পারে না। ফলে নৌ চলাচলের যোগ্য' হয়। যেমন- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ অনেক দেশেই প্রবাহিত নদীনালা জোয়ারভাটার কারণে উন্মুক্ত থাকে এবং অভ্যন্তরীণ, নৌজাহাজগুলো সহজে শিল্পকারখানায় চলে আসে। এতে রপ্তানি বাণিজ্য সহজতর হয়।
জোয়ারভাটার কারণে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি স্থলভাগের দিকে আসা-যাওয়ার ফলে লবণ জমা হয়। যেমন- বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় জোয়ারের পানি আসার ফলে সেখানে লবণ ক্ষেত সৃষ্টি হয়েছে। এতে লবণ চাষ করা হয় এবং পরিশোধন করে দেশের আয়োডিনের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিও করা হয়। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়।
জোয়ারভাটার ফলে বাংলাদেশের শিল্পকারখানা হতে বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থগুলো সমুদ্রে নিক্ষিপ্ত করা যায়। এতে শিল্পকারখানাগুলো গড়ে উঠেছে যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়তা করে।
জোয়ারভাটাকে ব্যবহার করে বিশ্বের অনেক দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এতে অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে।
সুতরাং বলা যায়, জোয়ারভাটা একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো মালামাল সহজে বহন করে দেশ-বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। এছাড়া এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই জোয়ারভাটা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।