| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রাকিব-সিনথিয়া দম্পতি ১৫…’ সরকারি আজিজুল হক কলেজ ২০২৬ – মানব জীবনের ধারাবাহিকতা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

রাকিব-সিনথিয়া দম্পতি ১৫ বছর হলো বিয়ে করেছেন কিন্তু তাদের কোনো সন্তান নেই। অবশেষে তারা ডাক্তারের কাছে গিয়ে কৃত্রিম উপায়ে গর্ভধারণের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের লাভ করেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৯
যে প্রক্রিয়ায় জাইগোটটি ব্লাস্টোসিস্ট অবস্থায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়াম স্তরে সংলগ্ন হয় তাই ইমপ্লান্টেশন।
অমরা হলো মাতা ও ভ্রূণের মধ্যে সংযোগকারী একটি বিশেষ অস্থায়ী অঙ্গ, যা ভূণের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। এটি মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান (যেমন- গ্লুকোজ, অ্যামিনো এসিড) ছেঁকে নিয়ে আম্বিলিক্যাল কর্ডের মাধ্যমে ভূণের দেহে পৌঁছে দেয়। একইসাথে, ভূণের বিপাকীয় বর্জ্য ও কার্বন ডাই-অক্সাইড মায়ের রক্তে পাঠিয়ে দিয়ে ভূণকে বিষক্রিয়া থেকে রক্ষা করে। এছাড়া, এটি বিভিন্ন হরমোন ক্ষরণ করে গর্ভাবস্থা বজায় রাখতে এবং ভূণের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে রাকিব-সিনথিয়া দম্পতির সন্তান লাভের যে কৃত্রিম উপায়ের কথা বলা হয়েছে, তা মূলত IVF (In Vitro Fertilization) বা সাধারণ ভাষায় টেস্টটিউব বেবি প্রক্রিয়া। নিচে এই প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো-
ধাপ-১: IVF-এর প্রথম ধাপে স্ত্রীর স্বাভাবিক রজঃচক্র দমিয়ে রাখতে একটি ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। ওষুধটি ইনজেকশন হিসেবে কিংবা নাকের ভেতর স্প্রে করে দেওয়া হয়।
ধাপ-২: নারীদেহে ডিম্বাণুর সংখ্যা বাড়াতে F.S.H হরমোন ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
ধাপ-৩: ডিম্বাণু চোষক প্রক্রিয়া বিশেষ যন্ত্রের দ্বারা ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়। এভাবে কয়েকটি পরিপক্ক ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।
ধাপ-৪: বাবা বা ডোনার থেকে স্পার্ম বা শুক্রাণু নমুনা গ্রহণ করা হয় এবং পরে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুস্থ ও সক্রিয় শুক্রাণুগুলোকে নির্বাচন করা হয়।
ধাপ-৫ : প্রায় ১৬-২০ ঘণ্টা শুক্রাণু ও ডিম্বাণুগুলোকে নিষেকের জন্য পেট্রিডিসে রাখা হয়। একটি সুস্থ সবল ভূণ সাধিত হয়েছে কি-না সে বিষয়ে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়। অনেক সময় আন্তঃসাইটোপ্লাজমিক শুক্রাণু ইনজেকশনের দ্বারা ডিম্বাণুর ভিতর শুক্রাণুকে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়।
ধাপ-৬: সাধারণত ডিম্বাণু সংগ্রহের ২-৩ দিনের মধ্যে নারীর দেহের জরায়ুতে তা স্থাপন করা হয়।
পুরুষ ও নারীর প্রজনন অক্ষমতা বা বন্ধ্যাত্ব দূর করে পিতৃ ও মাতৃত্বের বাসনা পূর্ণ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে আইভিএফ পদ্ধতি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে মাতৃত্বের বাসনা পূর্ণ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। ডিম্বনালি ক্ষতিগ্রস্ত থাকলেও এ পদ্ধতিতে গর্ভধারণ সম্ভব। এটি নিরাপদ ও সহজ পদ্ধতি।
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে রাকিব-সিনথিয়া দম্পতির ১৫ বছর সন্তানহীন থাকার সম্ভাব্য কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণে তুলে ধরা হলো-রাকিব ও সিনথিয়া দম্পতি বিয়ের ১৫ বছর পর IVF (In Vitro Fertilization) বা কৃত্রিম উপায়ে সন্তান লাভ করেছেন। তাদের এই দীর্ঘকালীন সন্তানহীনতার পেছনে প্রজননতন্ত্রের জটিল কোনো জৈবিক কারণ দায়ী থাকতে পারে। বন্ধ্যাত্বের কারণগুলো সাধারণত নারী, পুরুষ অথবা উভয়ের শারীরিক সমস্যার সাথে সম্পর্কিত।
সিনথিয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কারণসমূহ (স্ত্রী-ঘটিত):
১. ডিম্বপাতজনিত সমস্যা: হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে যদি নিয়মিত ডিম্বাণু উৎপন্ন না হয়, তবে গর্ভধারণ সম্ভব হয় না।
২. ফ্যালোপিয়ান টিউব বন্ধ থাকা: যদি সিনথিয়ার ডিম্ববাহী নালি বা
ফ্যালোপিয়ান টিউবে কোনো সংক্রমণ বা ব্লকেজ থাকে, তবে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন বা নিষেক ঘটা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
৩. এন্ডোমেট্রিওসিস: জরায়ুর ভেতরের টিস্যু যদি বাইরে বৃদ্ধি পায়, তবে তা ডিম্বাশয় বা টিউবের স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।
৪. জরায়ুর টিউমার বা ফাইব্রয়েড: জরায়ুর দেয়ালে টিউমার থাকলে ভূণ সঠিক উপায়ে ইমপ্ল্যান্ট বা জরায়ুর গায়ে গেঁথে বসতে পারে না।
রাকিবের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কারণসমূহ:
১. শুক্রাণুর স্বল্পতা: বীর্যে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ সুস্থ শুক্রাণু না থাকে, তবে প্রাকৃতিকভাবে ডিম্বাণু নিষিক্ত করার সম্ভাবনা অত্যন্ত কমে যায়।
২. শুক্রাণুর গঠন ও সচলতা শুক্রাণু যদি ত্রুটিপূর্ণ গঠনের হয় বা পর্যাপ্ত গতিশীল না হয়, তবে তা জরায়ু পথ অতিক্রম করে ডিম্বাণু পর্যন্ত পৌছাতে ব্যর্থ হয়।
৩. হরমোনজনিত সমস্যা টেস্টোস্টেরন হরমোনের অভাব বা
অণ্ডকোষের কোনো সংক্রমণের কারণে শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।
অন্যান্য সাধারণ কারণ: দীর্ঘ ১৫ বছর সময়কাল নির্দেশ করে যে,
তাদের সমস্যাটি হয়তো সাধারণ চিকিৎসার বাইরে ছিল। বয়সের সাথে সাথে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর গুণমান হ্রাস পাওয়াও একটি বড়ো ফ্যাক্টর হতে পারে। এছাড়া জীবনযাত্রার মান, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা বংশগত কোনো ত্রুটির কারণেও তারা দীর্ঘ সময় সন্তানহীন থাকতে। পারেন। মূলত প্রাকৃতিকভাবে নিষেকের এই বাধাগুলো অতিক্রম করতেই তারা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সহায়তায় গবেষণাগারে কৃত্রিম নিষেকের মাধ্যমে সফল হয়েছেন।