রাকিব স্যার ক্লাসে পাঠদান করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়তে উৎসাহিত করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল, বিজ্ঞানমনষ্ক, দেশপ্রেমিক ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়ার এবং আবৃত্তি ও বিতর্কসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের তাগিদ দেন। তাঁর উৎসাহে নবম শ্রেণির ছাত্রী ফাতিমা এ বছর ‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র’ আয়োজিত বই পড়া কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
'কেতাবি' অর্থ কেতাব অনুসরণ করে চলে যারা।
সাহিত্য সাক্ষাৎভাবে উদরপূর্তির কাজে লাগে না কারণ পরীক্ষায় পাশের জন্য সাহিত্যচর্চার প্রয়োজন নেই।
শিক্ষা সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস এই যে তা আমাদের গায়ের জ্বালা ও চোখের জল দূর করবে। আমাদের চিন্তা নোট ও পাঠ্যবই পড়ে পরীক্ষায় পাশ করা এবং চাকরি করা। যেহেতু সাহিত্যচর্চার ফল হাতে হাতে পাওয়া যায় না তাই আমরা পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্য বই অর্থাৎ সাহিত্যের বই পড়তে নারাজ। কেননা তা পড়ে পরীক্ষায় পাশ করে উদরপূর্তির কাজে লাগানো সম্ভব নয়।
উদ্দীপকের ফাতিমাকে 'বই পড়া' প্রবন্ধের আলোকে সুশিক্ষিত বলা যায়।
ব্যক্তির জাগরণের জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। আর যথার্থ শিক্ষা লাভ করতে হলে বই পড়া অপরিহার্য। বই পড়েই মানুষ যথার্থ জ্ঞান লাভ করতে পারে।
উদ্দীপকের ফাতিমা একজন কৃতী ছাত্রী। সে 'বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র' আয়োজিত বই পড়া কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের মতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে লব্ধ শিক্ষা পূর্ণাঙ্গ নয় বলে ব্যাপকভাবে বই পড়া প্রয়োজন। কারণ যথার্থ শিক্ষিত হতে হলে মনের প্রসার দরকার, যা বই পড়ার মাধ্যমেই সম্ভব। নিজের পছন্দ অনুযায়ী বই পড়েই কেবল যথার্থ শিক্ষিত বা সুশিক্ষিত হয়ে ওঠা যায়। উদ্দীপকের ফাতিমা যেহেতু নিজের ইচ্ছায় পাঠ্যবইয়ের বাইরে অনেক বই পড়ে বই পড়া কর্মসূচিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তাই আমরা তাকে আলোচ্য প্রবন্ধের আলোকে সুশিক্ষিত বলতে পারি।
"উদ্দীপকের রাকিব স্যার যেন 'বই পড়া' প্রবন্ধে উল্লিখিত যথার্থ গুরুর সার্থক প্রতিনিধি"- মন্তব্যটি যথার্থ।
শিক্ষা হচ্ছে আনন্দের বিষয়। শিক্ষা আনন্দের সঙ্গে অর্জন করতে হয়। তাহলে অর্জিত জ্ঞান মানুষের কল্যাণে আসে। জোর করে চাপিয়ে দেওয়া বা মুখস্ত করা জ্ঞান আত্মিক ও মানসিক বিকাশের অন্তরায়।
'বই পড়া' প্রবন্ধে বলা হয়েছে শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না। ছাত্রকে তা অর্জন করতে হয়। শিক্ষক বা গুরু ছাত্রকে শিক্ষার পথ দেখিয়ে দিতে পারেন, তার কৌতূহল উদ্রেক করতে পারেন। একজন যথার্থ গুরু শিষ্যের আত্মাকে উদ্বোধিত করেন এবং তার অন্তর্নিহিত প্রচ্ছন্ন শক্তিকে ব্যক্ত করে তোলেন। সেই শক্তির বলে শিষ্য নিজের মন নিজে গড়ে তোলে। উদ্দীপকের রাকিব স্যার এমনই একজন শিক্ষক। তিনি ছাত্রদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্য বই পড়তে উৎসাহিত করেন। লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়তে এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে তাগিদ দেন। ফাতিমা তার উৎসাহে উদ্বুদ্ধ হয়ে সফল হয়।
'বই পড়া' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক একজন যথার্থ শিক্ষাগুরুর যেসব কর্মকান্ড ও বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন তার সব বৈশিষ্ট্য উদ্দীপকের রাকিব স্যারের মধ্যে বিদ্যমান। কেননা তিনি ফাতিমাকে উদ্বুদ্ধ করতে এবং তাকে বই পড়ে সুশিক্ষিত হওয়ার চেতনা জাগ্রত করতে সক্ষম হয়েছেন। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
