| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রমজান ও হালিমার…’ রাজশাহী বোর্ড ২০১৮ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

রমজান ও হালিমার দশ বছরের সংসার। বিয়ের পর থেকে অনেক চেষ্টার পরও তাদের কোনো সন্তান হয় না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তারা অনেক দূরের এক গ্রামে কেরামত নামক কবিরাজের সন্ধান পায়। সন্তান লাভের আশায় ব্যাকুল রমজান দ্রুত হালিমাকে সেখানে নিয়ে যায়। কবিরাজ কেরামত অনেকক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে বলে, “পেটে বেড়ি পড়ে বইলাই তো স্ত্রীলোকের সন্তানাদি হয় না; কারও পড়ে সাত প্যাঁচ, কারো চৌদ্দ।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
মজিদ হাসুনির মাকে শাড়ি কিনে দিয়েছিল।
প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমার মাতৃহৃদয় বিচলিত হয়ে ওঠার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমা তাকে ভক্তি ও শ্রদ্ধা করে। কিন্তু মজিদ তার অল্পবয়সি দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলার ওপর নিজের প্রভাব বিস্তারের জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে। এজন্য সে দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকার রাতে জমিলাকে মাজারে বেঁধে রেখে আসে। মজিদ যখন জমিলাকে ঝড়বৃষ্টির রাতে একা মাজারে বেঁধে রেখে আসে, তখন রহিমা জমিলার কথা ভেবে বিচলিত হয়ে ওঠে। জমিলার জন্য রহিমার মানসিক পরিবর্তন লক্ষ করে মজিদ তার মনোযোগ অন্যদিকে সরাতে চায়। তাই সে শিলাবৃষ্টির প্রসঙ্গ তুলে ধানের ক্ষতি হওয়ার কথা বলে। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে স্বামীভক্ত রহিমা প্রতিবাদী ভাষায় মজিদকে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে। রহিমার এই উক্তির দ্বারা তার মাতৃহৃদয়ে কমবয়সি জমিলার জন্য শঙ্কা ও সন্তানবাৎসল্যসুলভ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের রমজান ও 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর চরিত্রে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য দুই-ই বিদ্যমান।
'লালসালু' উপন্যাসে খালেক ব্যাপারীর স্বামীভক্ত ও ধর্মভীরু স্ত্রী আমেনা। সতেরো বছর সংসার করার পরও সে নিঃসন্তান। এছাড়া খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রী তানু বিবির বছর বছর সন্তান জন্ম দেওয়ার বিষয়টি তার মাঝে হতাশা তৈরি করে। তাই সন্তান লাভের আশায় আমেনা বিবি আউয়ালপুরে আগত পিরের কাছ থেকে পানি পড়া খেতে চায়। কিন্তু গ্রামের ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী মজিদ খালেক ব্যাপারীকে সন্তান না হওয়ার কারণ হিসেবে পেটে বেড়ি পড়ার কথা বলে। আমেনা বিবির চিকিৎসার জন্য তাই সে মজিদের শরণাপন্ন হয়।
উদ্দীপকের রমজান ও হালিমা দশ বছর সংসার করার পরও তাদের কোনো সন্তান হয় না। অনেক খুঁজে কেরামত কবিরাজের সন্ধান পেলে রমজান তার স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়। ভণ্ড কেরামত কবিরাজ সন্তান না হওয়ার জন্য পেটে বেড়ি পড়াকে দায়ী করে। একইভাবে উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীও মজিদের কথায় তার স্ত্রীর পেটের বেড়ি পরীক্ষা করতে চায়। অর্থাৎ কুসংস্কারে বিশ্বাসের দিক থেকে আলোচ্য উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর সাথে উদ্দীপকের রমজানের সাদৃশ্য রয়েছে। তবে উপন্যাসে বেড়ি খোঁজার জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থার উল্লেখ থাকলেও উদ্দীপকে সে বিষয়ে কোনো আলোচনা নেই। মূলত 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর পরনির্ভরশীল মনোভাব ও উদ্দীপকের রমজানের নিজের ইচ্ছায় বউকে কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়ার দিক দিয়ে তাদের মধ্যে বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
'লালসালু' উপন্যাসে ভণ্ডপির মজিদ চরিত্রের চাতুর্য ও কপটতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
আলোচ্য উপন্যাসের মজিদ ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় মহব্বতনগর গ্রামে এসে প্রবেশ করে। এখানে এসে অজ্ঞাত এক কবরকে সে মোদাচ্ছের পিরের মাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। এই মাজারটিকে কেন্দ্র করে তার ধর্মব্যাবসা শুরু হয়। কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ দূর থেকে তার কাছে আসে পানিপড়া, তাবিজ-কবচ ইত্যাদি সংগ্রহের জন্য। তারা মাজারে মানত করে নানান জিনিস দান-সদকা দেয়।
উদ্দীপকের কেরামত কবিরাজ গ্রামের মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। সহজ-সরল মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে তার কাছে আসে কবিরাজি চিকিৎসা নেওয়ার জন্য। কেরামতও মানুষের সরলতা ও অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে তাদের ঠকিয়ে নিজের ব্যাবসার সমৃদ্ধি ঘটায়।
'লালসালু' উপন্যাসের ভন্ড মজিদ ও উদ্দীপকের কেরামত দুজনই ধর্মকে পুঁজি করে তাদের ব্যাবসা পরিচালনা করে। সহজ-সরল ও কুসংস্কারে বিশ্বাসী মানুষকে ঠকানোই মূলত তাদের পেশা। এ কারণেই মজিদ মাজার প্রতিষ্ঠা করে লোকজনের কাছ থেকে দান গ্রহণ করে এবং তাদের চিকিৎসার জন্য পানিপড়া দেয়। নানা অলৌকিক ঘটনা বর্ণনা করে সে সবার বিশ্বস্ত হয়ে ওঠে। আবার, খালেক ব্যাপারীর বউয়ের সন্তান না হওয়ার জন্য পেটে বেড়ি পড়ার কথা বলে সে। একইভাবে উদ্দীপকের কেরামত কবিরাজও মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে তাদেরকে ঠকায়। এভাবে মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করেই উদ্দীপকের কেরামত ও মজিদ উভয়েই নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। সে বিবেচনায় বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।