| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ রংপুর ক্যাডেট কলেজ ২০২৫ – নগ্নবীজী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
পুষ্পপুট হলো এমন একটি অবস্থা যখন ফুলের বৃতি ও দলকে আকৃতি ও বর্ণে পৃথক করা যায় না অর্থাৎ দেখতে একই রকম মনে হয়।
সাইকাস একটি নগ্নবীজী উদ্ভিদ। নগ্নবীজী উদ্ভিদে গর্ভাশয় থাকে না, ডিম্বকগুলো মেগাস্পোরোফিলের উপর নগ্ন অবস্থায় থাকে এবং নিষেকের পর তা ফলহীন নগ্নবীজে পরিণত হয়। এই বীজ অঙ্কুরিত হয়ে নতুন Cycas উদ্ভিদ তৈরি হয়। তাই নগ্নবীজী উদ্ভিদে অর্থাৎ সাইকাস উদ্ভিদে ফল হয় না।
উদ্দীপকে বর্ণিত সংকেতটি হলো Malvaceae গোত্রের অন্তর্ভুক্ত জবা (Hibiscus rosa-sinensis) ফুলের।
জবা ফুলের পুষ্প সংকেত:
উপবৃতিতে উপবৃত্যংশ ৫টি, মুক্ত, বৃতিতে বৃত্যংশ ৫টি, সুক্ত, পুংনলের সাথে মুক্ত, পুষ্পপত্রবিন্যাস টুইস্টেড, পুংস্তবকে পুংকেশর বহু, একগুচ্ছুক, সকল পুংদন্ড একক নলে যুক্ত, পরাগধানী মুক্ত, স্ত্রীস্তবকে গর্ভপত্র ৫টি, সংযুক্ত, গর্ভাশয় পাঁচ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট, অমরাবিন্যাস অক্ষীয়। বহুপ্রতিসম ও উভলিঙ্গ। মঞ্জুরীপত্র ও উপমঞ্জরী পত্র নেই। গর্ভাশয় অধিগর্ভ।
জবার ধারাবাহিক বৈশিষ্ট্য:
১) Malvaceae গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।
২) সাধারণত ফল সৃষ্টি হয়না।
৩) পুষ্প বিন্যাস একক নিয়ত।
৪) পাতা সরল, একান্তর, উপপত্রিক, বৃন্তক, ডিম্বাকার, বহুশিরাল জালিকা শিরাবিন্যাস যুক্ত।
৫) গুল্ম জাতীয় এবং কান্ড কাল।
৬) পরাগধানী এক প্রকোষ্ঠী এবং বৃক্কাকার।
৭) পরাগ রেনু বৃহৎ এবং কন্টকিত।
৮) গর্ভপাদ পুষ্প।
জবা ফুল এ সকল বৈশিষ্ট্যর অন্তর্গত।
উদ্দীপকের সংকেতগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী উদ্ভিদ গোত্রটি হলো Malvaceae। নিচে Malvaceae গোত্রের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকের B হলো মুক্তপার্শ্বীয় উপপত্র।এটি Malvaceae গোত্রের।
Malvaceae গোত্রের উদ্ভিদসমূহ অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা দেয়া হলো-
১। জবা : জবার অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক। ফুলের জন্য একে বাগানে লাগানো হয়। জবা ফুলের রস মাথায় মাখলে মাথা ঠাণ্ডা থাকে, চুল কালো ও লম্বা হয়। এর রস চুল পড়া বন্ধ করে, নতুন চুল জন্মায় ও চুল উজ্জ্বল করে। জবাকুসুম তেলের এটি একটি উপাদান। জবার কলি সকালে কিছুদিন খেলে দুর্বলতা কেটে যায়। জবা ফুল রক্ত আমাশয় ও অর্শরোগেরও একটি ভালো ওষুধ। পূজার উপকরণ হিসেবেও জবা ফুল ব্যবহৃত হয়।
২। ঢেঁড়স : ঢেঁড়স-এর প্রধান ব্যবহার সবজি হিসেবে। এটি স্যুপ তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। এর ভেষজ গুরুত্বও আছে। কচি ঢেঁড়সে লৌহ থাকায় নিয়মিত খেলে শারীরিক দুর্বলতা সারে। এটি বহুমূত্র রোগেরও উপকার করে থাকে। ঢেঁড়স গাছ হতে ভালো আঁশ পাওয়া যায়।
৩। কার্পাস তুলা : এর বীজত্বক থেকে তুলা পাওয়া যায়। কার্পাস তুলার গুরুত্ব সুতা তৈরিতে। তুলা হতে সুতা হয়, সুতা হতে সুতি কাপড় তৈরি হয়। লেপ, তোষক তৈরিতেও কার্পাস তুলা ব্যবহার করা হয়। তুলা বীজ হতে ভোজ্য তেল আহরণ করা হয় । এছাড়া তুলা জীবাণুমুক্ত করে শৈল্য চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।
৪। কেনাফ : কেনাফ-এর বাকল থেকে পাট জাতীয় আঁশ পাওয়া যায়। প্রভৃতি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কাছে এর বাকল থেকে পাঠ দশ পাওয়া যায়। এ আঁশ পাটের মতোই দড়ি, ব্যাগ, চট প্রভৃতি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
৫। মেস্তা : এর আঁশ দিয়ে চট, দড়ি ইত্যাদি প্রস্তুত করা হয়। ফল টক হিসেবে খাওয়া হয়।
৬। স্থলপদ্ম : এই উদ্ভিদ ও এর ফুল বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
৭। মরিচ ফুল : এটি শোভাবর্ধনকারী একটি উদ্ভিদ। এটি 'লঙ্কা জবা' নামেও পরিচিত।
৮। ইন্ডিয়ান টিউলিপ : এর কাঠ দিয়ে খেলনা, পেন্সিল ও কৃষি কাজের উপকরণ তৈরি হয়।
সুতরাং বলা যায়,এ গোত্রের উদ্ভিদসমূহ অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।