| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ রংপুর ক্যাডেট কলেজ ২০২৫ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন ধরনের নিঃসরণ কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুজালককে সাবমিউকোসাল প্লেক্সাস বা মেইসনার প্লেক্সাস বলা হয়।
সাপেক্ষ প্রতিবর্ত হলো এক ধরনের অর্জিত প্রতিবর্ত। শিখন বা শর্ত সাপেক্ষে এগুলো অর্জিত হয়। যেমন: পরিচিত টক খাবারের কথা শুনলেই মুখে লালা আসে কিন্তু অপরিচিত টক খাবার দেখলেও লালা আসে না।
উদ্দীপকের Z হলো বৃহদন্ত্র। নিচে বৃহদন্ত্রের কার্যাবলী বর্ণনা করা হলো-
ইলিয়াম থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত মোটা নলাকৃতির অংশ হলো বৃহদন্ত্র।বৃহদান্ত্রের দৈর্ঘ্য 1.5 মিটার। সিকাম, কোলন বৃহদন্ত্রের অংশ।কোলনের মধ্যে রয়েছে ঊর্ধ্বগামী, অনুপ্রস্থ, নিম্নগামী ও সিগময়েড কোলন।
খাদ্যের পরিপাক এবং পরিপাককৃত খাদ্য শোষণের পর যে অংশটুকু অপাচ্য থাকে বা শোষিত হয় না সেটি বৃহদন্ত্রে প্রবেশ করে। মানবদেহে বৃহদন্ত্রের ভুমিকা অনেক। যেমন:
১) ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়া:বৃহদন্ত্রের বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া মিথোজীবী হিসেবে বাস কর। এরা খাদ্যের অপাচ্য অংশের গাজন ও পচন ঘটায়।স্বল্পদৈর্ঘ্য ফ্যাটি এসিড ব্যাকটেরিয়া এবং কোলনের প্রাচীর-কোষে শক্তি জোগায় । এসব ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন K ও B12 এর ফলিক এসিড উৎপন্ন করে।
২) শোষণ: ক্ষুদ্রান্ত থেকে আসা পরিপাক বর্জ্যে অবস্থিত পানির প্রায় ৭০-৮০% অভিস্রবণ এর মাধ্যমে বৃহদন্ত্রের শোষিত হয়। দূ এছাড়াও কিছু পরিমাণ অজৈব লবণ, গ্লুকোজ, অ্যামিনো এসিড, ভিটামিন B, K বৃহদন্ত্রের শোষিত হয়।
৩) ক্ষরণ: গবলেট কোষ মিউকাস ক্ষরণ করে করে বৃহদান্ত্রের অভ্যন্তরভাগকে পিচ্ছিল রাখে।
৪) মল উৎপাদন: প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ গ্রাম তরল মন্ড বৃহদন্ত্রের প্রবেশ করে। এবং ১৩৫ গ্রাম আদ্র মল উৎপন্ন হয়ে দেহের বাইরে নিষ্ক্রান্ত হয়।
মানবদেহের ইত্যাদি ভূমিকা বৃহদান্ত্রে সম্পাদিত হয়।
উদ্দীপকে W হলো প্রোটিন বা আমিষ এবং Y হলো পৌষ্টিক নালি, যা মুখ থেকে মলাশয় পর্যন্ত বিস্তৃত। আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাক ও শোষণ পৌষ্টিক নালির মধ্যেই সম্পন্ন হয়। নিম্নে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো-
আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাক পাকস্থলিতে শুরু হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে শেষ হয়। মুখবিবরের লালারসে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম না থাকায় মুখবিবরে আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাক ঘটে না। বরং খাদ্য চিবানোর সময় লালারস মিশে খাদ্যকে পিচ্ছিল ও নরম করে। পাকস্থলিতে পাচকরসের পেপসিনোজেন নামক নিষ্ক্রিয় প্রোটিওলাইটিক জাইমোজেন HCI-এর উদ্দীপনায় সক্রিয় হয়ে পেপসিন নামক সক্রিয় উৎসেচকে পরিণত হয়। পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে জটিল আমিষকে আর্দ্র বিশ্লেষণ করে প্রোটিওজ ও পেপটোনে পরিণত করে। এ অপরিপাককৃত খাদ্য অম্লীয় কাইমে পরিণত হয় এবং ধীরে ধীরে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। ডিওডেনামের ক্ষারীয় মাধ্যমে এন্টারোকাইনেজ নামক উৎসেচকের প্রভাবে আন্ত্রিক রস ও অগ্ন্যাশয় রসের নিষ্ক্রিয় প্রোটিওলাইটিক জাইমোজেন ট্রিপসিনোজেন সক্রিয় এনজাইম ট্রিপসিনে পরিণত হয়। ট্রিপসিন প্রোটিওজ ও পেপটোন নামক আমিষকে ভেঙে অ্যামাইনো অ্যাসিড ও ডাইপেপটাইডে পরিণত করে। এরপর খাদ্য ইলিয়ামে প্রবেশ করে। ইলিয়ামে প্রায় পরিপাককৃত খাবার পৌছালে এর প্রাচীর থেকে এন্টেরোক্রিনিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। এর প্রভাবে ইলিয়ামের প্রাচীর থেকে নিঃসৃত ইরেপসিন নামক সক্রিয় প্রোটিওলাইটিক উৎসেচক ডাইপেপটাইড সমূহকে ভেঙে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে। ইলিয়ামের ভিলাইসমূহ কর্তৃক অ্যামিনো অ্যাসিড শোষিত হয়।
উপরোক্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমিষের পরিপাক ক্রিয়া সম্পন্ন হয়।