| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ রংপুর ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – অণুজীব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
হরমোন প্রয়োগে বীজহীন ফল উৎপাদন প্রক্রিয়াকে পার্থেনোকার্পি বলে।
মাটিতে প্রচুর পানি থাকলে এবং আবহাওয়া আর্দ্র থাকলে অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়ার জন্য উদ্ভিদদেহে পানি পত্ররন্ধ্র বা হাইডাথোডের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারা ও শীর্ষে তরল আকারে পানি নির্মোচনের যে বিশেষ ধরনের রন্দ্র থাকে তাকে পানি পত্ররন্দ্র বা হাইডাথোড বলে। হাইডাথোড দিয়ে পানি বের হওয়াকে নির্গমন বা চোয়ানো বা গাটেশন বলে। এ শীর্ষে রক্ষীকোষ দ্বারা পরিবেষ্টিত একটি রন্ধ্র থাকে, রন্দ্রের নিচে একটি পত্ররন্দ্রীয় গহ্বর ও গহ্বরের নিচে এপিথেলিয়াম নামক অনেকগুলো অসংলগ্ন কোষ থাকে। এপিথেম বা এপিথেলিয়াম এর নিচে থাকে ট্রাকিডের শেষ প্রান্ত। মূলজ চাপে পানি ট্রাকিডের শেষ প্রান্ত দিয়ে এপিথেম এ জমা থাকে। কচুরিপানা, ঘাস, টমেটো, কচু, প্রিমুলা ইত্যাদি উদ্ভিদে হাইডাথোড দেখা যায়।
উদ্দীপকের "S" রোগটি হচ্ছে ডেঙ্গু জ্বর। নিচে এর প্রকারভেদ এবং চিকিৎসা বিশ্লেষণ করা হলো:
ডেঙ্গু জ্বর একটি ভাইরাসঘটিত রোগ। এ ভাইরাসের জীবাণুর নাম ফ্ল্যাভি ভাইরাস। ডেঙ্গু জ্বরকে তিনভাগে ভাগ করা হয়। যথা:
i. সাধারণ ডেঙ্গু জ্বর :
১. জ্বর 103—105 ফারেনহাইট হয়ে থাকে।
২. তীব্র মাথা ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেট ব্যথা, কপাল ব্যথা ও গলা ব্যথাসহ শরীরের বিভিন্ন মাংসপেশি, পিঠ, কোমর, ঘাড়, হাড়ের জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা হয়।
৩. মেরুদণ্ডে ব্যথাসহ কোমরে ব্যথা এ রোগের বিশেষ লক্ষণ।
৪. শরীরে লালচে রঙের র্যাশ দেখা দেয়, বমি বমি ভাব ও খাবারে অরুচি হয়।
ii. হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর : সাধারণ ডেঙ্গু জ্বরের জটিলতা থেকে হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর দেখা যায়।
১. রোগীর নাক, মুখ, দাঁতের মাড়ি ও ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ দেখা যায়।
২. পায়খানার সাথে রক্ত যেতে পারে, রক্ত বমি হতে পারে। চোখের কোণে রক্ত জমাট হতে পারে।
৩. রক্তে প্লেটলেট হ্রাস পায়, সঠিক চিকিৎসা না হলে মৃত্যু ঘটতে পারে।
iii. ডেঙ্গু শক সিনড্রোম :
১. হেমোকনসেনট্রেশন ঘটতে দেখা যায়।
চিকিৎসা :
১. রোগীকে এসপিরিন জাতীয় ঔষধ দেয়া যাবে না।
২. ব্যথা ও জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে।
৩. প্লেটিলেট ট্রান্সফিউশনের প্রয়োজন হয়।
৪. রোগীকে প্রচুর পানি, ফলের রস ও তরল খাবার দিতে হবে।
উদ্দীপকের R ও S যথাক্রমে ম্যালেরিয়া এবং ডেঙ্গু জ্বর। ম্যালেরিয়া হয় ম্যালেরিয়া পরজীবীর কারণে এবং ডেঙ্গু হয় ফ্ল্যাভি ভাইরাস এর কারণে। উভয় রোগের জীবাণু আলাদা হলেও এরা উভয়ই মশকীবাহিত রোগ। তাই এদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা একইরকম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. মশকীয় প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস : ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশকী ময়লা পানিতে জন্মায় না। বাড়ির আশেপাশে বিভিন্ন কন্টেইনারে সঞ্চিত পরিষ্কার পানিতে জন্মায়। তাই পানির এসব উৎস ধ্বংস করতে হবে। অপরদিকে ম্যালেরিয়ার বাহক মশকী বদ্ধ পচা পানিতে ডিম পাড়ে। তাই বাড়ির আশেপাশের পরিত্যক্ত ডোবা, নালা পরিষ্কার রাখা এবং পানি জমতে না দেয়া, ঝোপঝাড়, জঙ্গল কেটে ফেলার মাধ্যমে প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করা সম্ভব।
২. লার্ভা ও পিউপা ধ্বংস করা : পানিতে কেরোসিন বা পেট্রোল জাতীয় পদার্থ ছিটিয়ে দিলে অক্সিজেনের অভাবে ম্যালেরিয়া মশকীর লার্ভা মারা যায়। পানিতে জুভেনাইল হরমোন ছিটিয়ে দিলে লার্ভাগুলোর রূপান্তর ব্যাহত হয়। অপরদিকে পতঙ্গনাশক স্পে দিয়ে ডেঙ্গু মশকীর লার্ভা ও পূর্ণাঙ্গ দশা প্রতিরোধ করা যায়।
৩. কীটনাশক ব্যবহার : অধিকাংশ শহরে মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য কীটনাশক ব্যবহার করা হয়।
৪. মশকীর দংশন হতে আত্মরক্ষা : উভয় মশকীর দংশন হতে আত্মরক্ষার জন্য মশারী, স্প্রে, কয়েল ব্যবহার করা, ঘরের দরজাজানালায় মশকীরোধী ঘন তার ব্যবহার করা হয়।
তাই বলা যায় যে, উভয় রোগের কারণ ভিন্ন হলেও প্রতিরোধ ব্যবস্থা একই।