| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ রংপুর ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
কোষের অভ্যন্তরে সংঘটিত পরিপাকই হলো অন্তঃকোষীয় পরিপাক।
Hydra-র দেহের কেন্দ্রস্থলে অন্তঃত্বকের কোষ দ্বারা পরিবেষ্টিত নলাকার গহ্বরকে বলা হয় সিলেন্টেরন। একে গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহ্বর বলা হয় কারণ, এ গহ্বরে Hydra-র পরিপাক, শোষণ, আত্তীকরণ, রেচন কাজ সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি বহিঃকোষীয় পরিপাকও সম্পন্ন হয়।
উদ্দীপক-১ অনুযায়ী জীব সম্প্রদায়-১-এ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর (যেমন- বৃত্ত, চতুর্ভুজ ও তারকা চিহ্ন) সংখ্যা ও বৈচিত্র্য জীব সম্প্রদায়-২ অপেক্ষা বেশি দেখা যাচ্ছে। একটি প্রাকৃতিক পরিবেশে কোন সম্প্রদায়টি ভালোভাবে মানিয়ে নিতে সক্ষম তা জীববৈচিত্র্যের ধারণা ব্যবহার করে নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
জীব সম্প্রদায়-১-এর মতো উচ্চ জিনগত বৈচিত্র্য কোনো জনগোষ্ঠীর মানসিক চাপ, রোগ ও প্রতিকূল পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায়। পরিবেশগত কোনো পরিবর্তন বা দুর্যোগ দেখা দিলে এই জিনগত বৈচিত্র্যের কারণেই কিছু সদস্য যোগ্যতম হিসেবে টিকে থাকতে পারে। অন্যদিকে, জীব সম্প্রদায়-২-এ বৈচিত্র্য কম হওয়ায় তারা রোগ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বিরূপ পরিস্থিতিতে সহজেই 'বিলুপ্তির ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। তাছাড়া, একটি স্থিতিশীল বাস্তুতন্ত্রের জন্য প্রজাতির সমৃদ্ধি এবং সমতা উভয়ই, প্রয়োজন। চিত্র অনুযায়ী, জীব সম্প্রদায়-১-এ প্রজাতির সংখ্যা বা সমৃদ্ধি বেশি থাকায় তারা লভ্য প্রাকৃতিক সম্পদগুলো আরও দক্ষতার সাথে ব্যবহার করতে পারবে। সমৃদ্ধ বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়গুলো খরা বা ঝড়-তুফানের মতো পরিবেশগত চাপ সহ্য করতে বেশি শক্তিশালী হয়। সুতরাং, অধিক জিনগত ও প্রজাতিগত বৈচিত্র্য থাকার কারণে জীব সম্প্রদায়-১ একটি টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পারবে এবং প্রতিকূলতায় টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করবে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের-১ এ বর্ণিত জীব সম্প্রদায়-১ প্রাকৃতিক পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে বেশি সক্ষম হবে। মূলত জিনগত ও প্রজাতিগত বৈচিত্র্যের কারণেই এই সম্প্রদায়টি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার ক্ষেত্রে বেশি সুবিধা পাবে।
উদ্দীপক-২ এর ক্ষেত্রে দেখা যায় যে A, B, C, D এবং E দ্বারা ভার্টিব্রাটা উপপর্বের শ্রেণিগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের সংখ্যার ভিত্তিতে উদ্দীপকের শ্রেণিগুলো হলো মৎস্য (A), উভচর (B), সরীসৃপ (C), পাখি (D) এবং স্তন্যপায়ী (E)। নিচে এদের মধ্যে শ্রেণিভিত্তিক তুলনা স্থাপন করা হলো-
হৃৎপিন্ডের গঠন: মৎস্য শ্রেণির হৃৎপিণ্ড সবচেয়ে সরল এবং ২ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট। উভচরদের ক্ষেত্রে এটি ৩ প্রকোষ্ঠ এবং সরীসৃপদের ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ ৪ প্রকোষ্ঠে রূপান্তরিত হয়। পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ড সবচেয়ে উন্নত এবং সম্পূর্ণ ৪ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
রক্তের তাপমাত্রা: মৎস্য, উভচর ও সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণীরা সবাই শীতল 'রক্ত বিশিষ্ট। তবে বিবর্তনের ধারায় পাখি ও স্তন্যপায়ীরা উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট হয়ে থাকে।
স্নায়ুর বিন্যাস: করোটিক স্নায়ুর ক্ষেত্রে মৎস্য ও উভচরদের ১০ জোড়া করোটিক স্নায়ু থাকলেও সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ীদের ১২ জোড়া করোটিক স্নায়ু থাকে।
ত্বক: মৎস্য ও উভচরদের ত্বক ভেজা ও গ্রন্থিময় থাকে। বিপরীতে সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ীদের ত্বক শুষ্ক হয়। এদের বহিঃত্বকে যথাক্রমে আঁইশ, পালক এবং লোমের আবরণ দেখা যায়।
শ্বাসযন্ত্র: কেবল মৎস্য শ্রেণির প্রাণীরা ফুলকার সাহায্যে শ্বাস নেয়, অপরদিকে বাকি সব শ্রেণির প্রাণীরা ফুসফুস ব্যবহার করে।
প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি: স্তন্যপায়ী ব্যতীত অন্য সব শ্রেণির প্রাণীরা ডিম পাড়ার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। তবে স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সরাসরি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা প্রসব করে। নিষেকের ক্ষেত্রে মৎস্য ও উভচরদের বহিঃনিষেক ঘটে, কিন্তু সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ী শ্রেণিতে অন্তঃনিষেক সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ, উদ্দীপক-২ এর প্রাণীগুলোর শারীরতাত্ত্বিক ভিন্নতা থাকায় এদের একেকটি পৃথক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।