| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রান্না করার সময়…’ যশোর বোর্ড ২০১৯ – প্রাণীর আচরণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

রান্না করার সময় আগুনে হাত পড়ায় সীমা তার হাত দ্রুত সরিয়ে
নিল। তার বোন রীমা বিজ্ঞানের ছাত্রী। ঘটনা লক্ষ করে বলল,
“এটাও এক ধরনের আচরণ। এরূপ আচরণের আরও ঘটনা
আমাদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। যেমন- পায়ে কাঁটা বিদ্ধ হলে
অতি ক্ষিপ্রতার সাথে পা সরিয়ে নেয়া, চোখে কিছু পড়লে
আপনা-আপনি চোখ বন্ধ হয়ে যাওয়া, ইত্যাদি।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১২
উদ্দীপকের উৎসের সাথে সম্পর্ক রেখে দেহ অক্ষের অবস্থানগত পরিবর্তনই ট্যাক্সিস
কোন জীবের জীবনে যে গুন বা বৈশিষ্ট্য অর্জন করে তা পরবর্তী বংশধর এর মধ্যে সঞ্চারিত হয়। একে ল্যামার্কের মতবাদ বলা হয়। তার মতবাদ অর্জিত গুণের উত্তরাধিকার সূত্র নামে পরিচিত। এটি ল্যামার্কিজম নামেও পরিচিত।
বিজ্ঞানী ল্যামার্কের সূত্রগুলো অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার মতবাদ নামে অভিহিত । এই নিয়ে ববিজ্ঞানী ল্যামার্ক চারটি সূত্র প্রদান করেন।
১)বৃদ্ধি
২)পরিবেশের প্রভাব এবং জীবের সক্রিয় প্রচেষ্টা ও আঙ্গিক পরিবর্তন
৩)ব্যবহার ও অব্যবহার
৪)অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার।
উদ্দীপকে উল্লেখিত আচরণ হল প্রতিবর্ত ক্রিয়া। নিম্নে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার সাথে সামাজিক আচরণের তুলনা করা হলো -
১)একই প্রজাতিভুক্ত কিছু সংখ্যক প্রাণীর বাহি্যক ও অভ্যন্তরীণ কারণে বিশেষ শৃঙ্খলার সাথে একত্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করা এবং তাদের মধ্যকার পারস্পরিক ক্রিয়া-কলাপকে সামাজিক আচরণ বলে। অপরদিকে কোন উদ্দীপকের প্রভাবে মস্তিষ্কে নির্দেশ ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে পেশি বা কোন অঙ্গে যেঅনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় তাকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।
২) প্রতিবর্ত ক্রিয়া অনৈচ্ছিক স্বয়ংক্রিয় এবং সহজাত বা জন্মগত। সামাজিক আচরণ সাধারণত অর্জিত ।
৩) সামাজিক আচরণ শেখা সময় সাপেক্ষ। কিন্তু প্রতিবর্ত ক্রিয়া খুব দ্রুত গতিতে বা স্বল্প সময়ে সম্পন্ন হয়।
৪) সামাজিক আচরণে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত সদস্যদের নিয়ে একটি নির্দিষ্ট সংগঠন তৈরি হয় যাতে সুস্পষ্ট শ্রমের বন্টন থাকে। অপরদিকে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার পেছনে কোন পূর্ব পরিকল্পনা থাকে না, লক্ষ বা পরিনাম চিন্তার দ্বারাও এটি পরিচালিত হয় না।
৫) সামাজিক আচরণে সর্বক্ষেত্রে সামাজিক দলের মধ্যে কোন না কোন সদস্যের আত্মত্যাগের ঘটনা অবশ্যম্ভি। এটি পরার্থতা বা আল্ট্রুইজম নামে পরিচিত। অপরদিকে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার স্নায়ুর উদ্দীপনা যে পথে সংঘটিত হয় তা প্রতিবর্ত চক্র নামে পরিচিত।
উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা প্রতিবর্ত ক্রিয়া এবং সামাজিক আচরণের বৈশিষ্ট্য বা আচরণ সম্পর্কে জানা যায়।
উদ্দীপকের রিমার লক্ষ্য করা আচরণগুলো হলো প্রতিবর্ত ক্রিয়া ।
কোন উদ্দীপকের প্রভাবে মস্তিষ্কের নির্দেশ ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে পেশি বা কোন অঙ্গতে অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় তাকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে। প্রতিবর্ত ক্রিয়া সুষুম্না কান্ডের নিয়ন্ত্রণে প্রতিবর্ত চক্র নামক এক বিশেষ সংক্ষিপ্ত স্নায়ুপথ দিয়ে ঘটে থাকে।
প্রতিবর্ত ক্রিয়ার স্নায়ুর উদ্দীপনা যে পথে সংঘটিত হয় তাকে প্রতিবর্ত চক্রবর্তী বলে ।
উদ্দীপকে রিমার লক্ষ্য করা আচরণগুলো হল -পায়ে কাটাবিদ্ধ হলে অতি ক্ষিপ্রতার সাথে পা সরিয়ে নেয়া, চোখে কিছু পড়লে আপনা আপনি চোখ বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এগুলো সবই প্রতিবর্ত ক্রিয়া বা প্রতিবর্ত চক্রের অন্তর্ভুক্ত। এই ক্রিয়া পাঁচটি অংশ নিয়ে গঠিত। যেখানে একটি গ্রাহক থকে যা সংবেদি উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। একটি অন্তরবাহী পথ থাকে যা সংবেদী স্নায়ু যা গ্রাহক অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বহন করে। এছাড়াও রয়েছে একটি কেন্দ্, বহিরবাহি পথ, এবং প্রভাবিত অঙ্গ। ত্বক এখানে গ্রাহক বা রিসেপ্টর অঙ্গ হিসেবে কাজ করে । তাই ত্বকে গরম বা ঠান্ডা কিছু পড়লে সাথে সাথে সে অঙ্গ নিরাপদ স্থানে সরে যায়। এখানে ত্বকে অবস্থিত নিউরনের ডেনড্রাইটসমূহ ব্যথার অনুভূতির উদ্দীপনা গ্রহণ করে। এভাবে ইত্যাদি উপায়ে প্রতিবর্ত ক্রিয়া সংগঠন হয়। প্রতিবর্ত ক্রিয়া দুই প্রকার সহজাত এবং অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া।
এই সহযাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া আবার তিন প্রকার ।
১)উপরিগত প্রতিবর্ত
২)গভীর প্রতিবর্ত
৩)ভিসেরাল প্রতিবর্ত।
রিমার লক্ষ্য করা আচরণগুলো হল সহজাত বা আনকন্ডিশন রিফ্লেক্স বা প্রতিবর্ত ক্রিয়ার উপরিগত প্রতিবর্ত যেখানে উদ্দীপনা ত্বক থেকে গৃহীত হয়।