| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রাসায়নিক বিক্রিয়াটি লক্ষ…’ ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ ২০২৫ – উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

রাসায়নিক বিক্রিয়াটি লক্ষ কর এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
আত্তীকরণের মাধ্যমে শর্করা প্রস্তুত করতে ATP ও এর শক্তি ব্যবহৃত হয় বলে ATP ও কে আত্তীকরণ শক্তি বলে।
যে পর্যায়ক্রমিক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজ বিভিন্ন প্রকার এনজাইমের কার্যকারিতায় ভেঙে দুই অণু পাইরুভিক এসিডে পরিণত হয় তাকে গ্লাইকোলাইসিস বলে। জার্মান বিজ্ঞানী Gustave George Embden, OTTO Meyerhof এবং Jakob Karol Parnas কর্তৃক গ্লাইকোলাইসিসের বিক্রিয়াগুলো আবিষ্কৃত হয়েছিল। এজন্য তাদের নামানুসারে গ্লাইকোলাইসিসকে সংক্ষেপে EMP পথ বলা হয়। অন্যদিকে গ্লাইকোলাইসিস সংগঠনের স্থান কোষের সাইটোপ্লাজম, যে কারণে একে সাইটোপ্লাজমিক শ্বসন বলা হয়।
উপরের বিক্রিয়াটি দ্বারা সবাত শ্বসনকে বুঝানো হয়েছে। অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে শ্বসন ঘটলে সেক্ষেত্রে অবাত শ্বসন ঘটে থাকে। নিচের তা ব্যাখ্যা করা হলো-
জীবন্ত উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষে অক্সিজেনের অনুপস্থিতে স্বল্প সময়ের জন্য অবাত শ্বসন চলতে পারে। অবাত শ্বসন কোষের সাইটোপ্লাজম এ সংঘটিত হয়।
অবাত শ্বসনকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। যথা (১) গ্লাইকোলাইসিস পর্যায় ও (২) পাইরুভিক অ্যাসিডের অসম্পূর্ণ জারণ পর্যায়।
(১) গ্লাইকোলাইসিস পর্যায়: অবাত শ্বসনের এ পর্যায়টি সবাত শ্বসনের গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ অনুরূপ। এখানে ১ অণু গ্লুকোজ ভেঙ্গে দু অণু পাইরুভিক অ্যাসিড তৈরি হয়।
(২) পাইরুভিক অ্যাসিডের অসম্পূর্ণ জারণ: এ প্রক্রিয়ায় পাইরুভিক অ্যাসিড জারিত হয়ে প্রধানত ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করে। এ বিক্রিয়ায় এক অণু রুপান্তরিত হয়।
পাইরুভিক অ্যাসিড ডিহাইড্রোজিনেজল্যাকটিকঅ্যাসিড ল্যাকটিক অ্যাসিড
উপরের বিক্রিয়াটি দ্বারা সবাত শ্বসন তথা শ্বসন প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে। শ্বসন প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন শক্তি দিয়ে উদ্ভিদ ও প্রাণীর সবধরনের ক্রিয়া- বিক্রিয়া ও কাজকর্ম পরিচালিত হয়। উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে ২৪ ঘণ্টাই এ প্রক্রিয়া চলে। শ্বসনে নির্গত জীবের প্রধান খাদ্য শর্করা উৎপন্নের জন্য উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। এ প্রক্রিয়া উদ্ভিদের খনিজ লবণ পরিশোষণে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও অন্যান্য জৈবিক প্রক্রিয়া চালু রাখে। উদ্ভিদ ও প্রাণীর কোষ বিভাজনের প্রয়োজনীয় শক্তি ও কিছু আনুষঙ্গিক পদার্থ শ্বসন প্রক্রিয়া থেকে আসে। তাই এ প্রক্রিয়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর দৈহিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। এ প্রক্রিয়া বিভিন্ন উপক্ষার ও জৈব এসিড সৃষ্টিতে সহায়তা করার মাধ্যমে জীবনের অন্যান্য জৈবিক কাজেও সহায়তা করে। কিছু ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনের উপস্থিতিতে বাঁচতে পারে না। এদের শক্তি উৎপাদনের একমাত্র উপায় হলো অবাত শ্বসন। তাছাড়া উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য যে শক্তির প্রয়োজন তা শ্বসন প্রক্রিয়া থেকেই আসে। শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন সালোকসংশ্লেষণে অংশ নিয়ে খাদ্য তৈরির পাশাপাশি উৎপন্ন করে। এই প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য আবশ্যক। এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রক্রিয়াটি পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখে, যা সকল জীবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই উপরিউক্ত বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় জীবের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।