| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রাস্তায় বসে ছোট্ট…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

রাস্তায় বসে ছোট্ট শিশু আমিনকে কাঁদতে দেখে তাকে বাড়িতে নিয়ে এলেন প্রফেসর মধুসূদন
রায়। পরম মমতায়, সন্তান স্নেহে বড় করে তোলেন তাকে। শিক্ষা-দীক্ষা, ধন-সম্পদ কোনো
কিছুরই অভাব রাখেননি তিনি। কিন্তু একদিন আমিনই ষড়যন্ত্র করে মধুসূদন বাবুর সমস্ত সম্পত্তি
জোর করে দখল করে নিয়ে বাড়ি থেকে সস্ত্রীক মধুসূদন বাবুকে বের করে দিল। সম্পদের প্রতি
প্রচন্ড লোভের কাছে পরাজিত হয় মধুসূদন বাবুর দীর্ঘদিনের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
‘সিরাজউদৌলা' নাটকের প্রথম সংলাপটি ক্যাপ্টেন ক্লেটনের।
আলোচ্য উক্তিটি সিরাজউদ্দৌলাকে উদ্দেশে করে মিরজাফর বলেছিল ।
সিরাজউদ্দৌলা মিরজাফর তার অন্যান্য অমাত্যবর্গের পরামর্শে ইংরেজদের লবণের ইজারাদারি দিয়েছিল। এই লবণ ব্যাবসার নামে ইংরেজরা এদেশের নিরীহ প্রজাদের ওপর জুলুম ও নিপীড়ন শুরু করে। তাছাড়া কলকাতায় ওয়াটস এবং ক্লাইভ আলিনগরের সন্ধি খেলাপ করে ফরাসি অধিকৃত চন্দননগর আক্রমণ করে। এতে ইংরেজ এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতি নবাব বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেন। তাঁর দরবারের অমাত্যবর্গের প্রতিও তাঁর আস্থা রাখতে সন্দেহ হয়। তখন নবাবকে আশ্বস্থ করতে দেশের মঙ্গলের উদ্দেশ্যে মিরজাফর কোরান শরিফ নিয়ে ওয়াদা করে এবং আলোচ্য উক্তিটি করে।
উদ্দীপকের আশ্রয়দাতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার দিকটি ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
মিরজাফর আলি খান পারস্য (ইরান) থেকে নিঃস্ব অবস্থায় ভারতবর্ষে আসেন। উচ্চ বংশীয় যুবক হওয়ায় নবাব আলিবর্দি খান তাকে আশ্রয় দেন এবং স্নেহ করেন। পরবর্তীকালে বৈমাত্রেয় ভগ্নি শাহ খানমের সঙ্গে মিরজাফরের বিয়ে দেন এবং তাঁকে সরকারের উচ্চ পদে নিযুক্ত করেন। তিনি কূটকৌশল ও চাতুর্যের মাধ্যমে নবাবের অত্যন্ত প্রিয় পাত্র হয়েছিলেন এবং সেনাপতি ও বকশির পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর মেধা, বুদ্ধি ও কৌশলের মূলে ছিল ক্ষমতা লিপ্সা। ফলে আলিবর্দিকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র থেকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মূল নায়ক তিনি
উদ্দীপকের আমিন প্রফেসর মধুসূদন রায়ের আশ্রয়ে বড়ো হয় । প্রফেসর সাহেব তাকে পরম যত্ন ও মমতায় বড়ো করেন। শিক্ষা-দীক্ষা ও ধন- সম্পদ কোনো কিছুর অভাব ছিল না আমিনের। কিন্তু আমিন একদিন ষড়যন্ত্র করে মধূসুদন বাবু ও তার পরিবারকে বের করে দিয়ে তার সকল সম্পত্তি জোর করে দখল করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের আশ্রয়দাতার সাথে বিশ্বাসঘাতকতার দিকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফরের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।
“উদ্দীপকের আমিন ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগম একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ"—মন্ত্রব্যটি যথার্থ ।
সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগম নবাব আলিবর্দি খানের জ্যেষ্ঠ কন্যা এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার খালা। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সরিয়ে যারা অর্থ ও ক্ষমতা প্রাপ্তির ষড়যন্ত্র করেছিল তাদের সঙ্গে ঘসেটি বেগমও ছিল। রাজকার্য পরিচালনার লোভে সিরাজউদ্দৌলার ভাই একরামউদ্দৌলাকে পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করলেও সে অকালে মৃত্যুবরণ করেছিল। আর যে ব্যক্তির সঙ্গে ঘসেটি বেগমের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল সেই হোসেন কুলি খাঁকে সিরাজউদ্দৌলা আলিবর্দি খানের নির্দেশে হত্যা করেন । তাই সিরাজের প্রতি আক্রোশ থেকে ঘসেটি বেগম তাঁর ধ্বংস কামনা করে এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় ।
উদ্দীপকের আশ্রয়হীন আমিনকে প্রফেসর মধুসূদন রায় আশ্রয় দেন । তারপর নিজের সন্তানের মতো পরম যত্নে বড়ো করে তোলেন। কিন্তু আমিন লোভের বশবর্তী হয়ে প্রফেসর সাহেবের সাথেই বিশ্বাসঘাতকতা করে। স্বপরিবারে মধুসূদন বাবুকে বাড়ি ছাড়া করে তার সকল সম্পত্তি দখল করে।
উদ্দীপকের আমিন তার আশ্রয়দাতা মধুসূদন বাবুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে স্বার্থের বশবর্তী হয়ে। অথচ এই মানুষটিই তাকে রাস্তা থেকে তুলে এনে সন্তানের মতো লালনপালন করে ছিলেন। অন্যদিকে নিজের স্বার্থের অন্তরায় হওয়ায় ঘসেটি বেগম সিরাজউদ্দৌলার খালা হয়েও তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন। যদিও ঘসেটি বেগম নবাব পরিবারের আশ্রিত নন, পরিবারের একজন । তবুও তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশ এবং স্বার্থসন্ধানী চন্তা-চেতনা থেকে - নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন। তাই, স্বার্থসন্ধানী মানসিকতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার দিক থেকে উদ্দীপকের মামিন ও ঘসেটি বেগম একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।