| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রায়হান কংকালতন্ত্র পড়ার…’ যশোর বোর্ড ২০২৩ – চলন ও অঙগচালনা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

রায়হান কংকালতন্ত্র পড়ার সময় আদর্শ কশেরুকা সম্পর্কে জানতে পারল। সে আরো জানতে পারলো এক ধরণের বিশেষ পেশি কংকালের সাথে সংযুক্ত থেকে চলনে ভুমিকা রাখে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৭
প্রতিটি নিরেট অস্থি অসংখ্য অস্থি একক নিয়ে গঠিত। নিরেট অস্থি গঠনকারী এরূপ একক গুলোকে হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র বলে।
নিরেট অস্থি ও স্পঞ্জি অস্থির দুটি পার্থক্য হলো:
উদ্দীপকে উল্লিখিত রায়হান কঙকালতন্ত্র পড়ার সময় যে কশেরুকা সম্পর্কে জানতে পারল তা হলো আদর্শ কশেরুকা ৷ এটি মানবদেহের মেরুদণ্ডে ৩৩টি অনিয়ত আকৃতির কশেরুকা নিয়ে গঠিত।এদের মধ্যে মধ্য-বক্ষদেশীয় কশেরুকা অর্থাৎ ৫ম-৮ম বক্ষদেশীয় কশেরুকা গঠনগতভাবে আদর্শ। এককটি আদর্শ কশেরুকায় নিম্নলিখিত অংশগুলো দেখা যায়-
১. সেন্ট্রাম: এটি কশেরুকার বৃহত্তম ও সম্মুখস্থ স্থূল অংশ। এটি শক্ত পুরু ও স্পঞ্জি অস্থিতে গঠিত।
২. আর্চ: এটি কশেরুকা-দেহের পৃষ্ঠতলে অবস্থিত রিংয়ের মতো গঠন। আর্চ নিমোক্ত অংশগুলো ধারণ করে-
পেডিকল: কশেরুকা দেহের উভয় পশ্চাৎ-পার্শ্ব থেকে উথিত ও পিছনে বর্ধিত খাটো শক্ত গঠন।
ট্রান্সভার্স প্রসেস: উভয় পাশে পেডিকল ও ল্যামিনার সংযোগস্থল থেকে উথিত পার্শ্বীয় প্রবর্ধন৷
ল্যামিনা: উভয় পাশে ট্রান্সভার্স ও স্পাইনাস প্রসেসের মাঝখানে অবস্থিত প্লেটের মতো অস্থি।
আর্টিকুলার প্রসেস: উভয় পাশে ল্যামিনা ও পেডিকলের সংযোগস্থল থেকে উদগত একটি সুপিরিয়র ও ইনফিরিয়র আর্টিকুলার প্রসেস ৷
স্পাইনাস প্রসেস: দুই ল্যামিনির সংযোগস্থলের একটি প্রবর্ধন। উপরিউক্ত এই সবগুলো গঠন মধ্যবক্ষের কশেরুকাগুলোতে দেখা যায়। তাই এ কশেরুকাগুলোকে আদর্শ কশেরুকা বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ ধরনের পেশি বলতে কঙ্কাল পেশিকে বুঝানো হয়েছে, কঙ্কালের সাথে যুক্ত থেকে এ পেশি চলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
কঙ্কালতন্ত্র দেহের অবয়বের কাঠামো। কাঠামোর উপর আচ্ছাদন হিসেবে থাকে ঐচ্ছিক পেশি বা কঙকাল পেশি। এ কারণে মানুষ দেহের কোনো অঙ্গকে যথেচ্ছ আন্দোলিত করতে পারে। মানুষের দেহ সঞ্চালন মূলত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। যার উদ্দীপনায় মানবদেহের নির্দিষ্ট, অঙ্গ সঞ্চালিত হয়। যেমন- কনুই বাকা করতে হলে ইচ্ছাধীন স্নায়ুর তাড়নায় বাইসেপস পেশি সংকুচিত হয় এবং ট্রাইসেপস পেশি শিথিল হয়ে প্রসারিত হয়। ফলে রেডিয়াস ও আলনাকে টেনে বাকা করে। কনুই সোজা করতে হলে ঠিক তার বিপরীত কার্যক্রমটি ঘটে। এভাবে বাইসেপস ও ট্রাইসেপস পেশির সংকাচন ও শ্রথ হওয়ার মাধ্যমে, আমরা কনুই বাকানো বা সোজা করতে পারি। আবার মানবদেহের উরুর গ্লটিয়েস, হাঁটুর কোয়াড্রিসেপস ফিমরিস, পায়ের তলার সোলিয়াস এবং কাধের ট্রাপিজিয়াস পেশি শিথিল হয়ে দেহকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়। হাটুর গ্যাস্ট্রকনেমিয়াস ও পায়ের তলার সোলিয়াস পেশির সংকোচনে পায়ের গোড়ালি মাটি থেকে উঠে আসে। হাটুর হ্যামস্ট্রিং ও গ্যাস্ট্রকনেমিয়াস পেশির সংকোচনে হাটু ভাজ হয়ে পা মাটি ছেড়ে চলে আসে। উরুর ইলিওসোয়াস ও রেক্টাস ফিমোরিস পেশির সংকোচনে শ্রোণি ভাজ হয় । উরুর পিরিফর্মিস পেশি ফিমারকে ঘুরায়। এভাবে পেশিতন্ত্র ও কঙ্কালতন্ত্রের সম্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গাণু যেমন- হাত ও পা এর সঞ্চালন হয়ে থাকে।