A. Nayanㅤ
A. Nayan
15 Oct 2026 (2 weeks ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হৈমন্তী’…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২২ – অপরিচিতা, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)


📘 ক্লাস ১১শ–১২শ🎓 গ্রুপ সাধারণ📚 বই বাংলা📖 বিষয় ১ম পত্র📂 বিভাগ গদ্য🧩 অধ্যায় ৫ম অধ্যায় — অপরিচিতা🔢 সৃজনশীল নং ১২🏫 বোর্ড দিনাজপুর বোর্ড📅 সাল ২০২২⭐ গুরুত্ব ★★★★★
🔊 স্মার্ট বাংলা Text Readerসম্পূর্ণ বাক্য highlight · প্রশ্নের পর উত্তর · সরাসরি seek
০%
ভয়েস লোড হচ্ছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হৈমন্তী’ গল্পে যৌতুকের বলি হৈমন্তী। মানসিক নির্যাতনে জর্জরিত হয়ে সে পিতা গৌরীশংকর বাবুকে খবর পাঠায় স্বামিগৃহ হতে তাকে পিত্রালয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। গৌরীশংকর বাবু মেয়ের বাড়িতে এসে মেয়ের কষ্ট বুঝতে পারেন। কিন্তু ধনী বেয়াই-এর বিরুদ্ধে প্রতিকার করতে না পেরে নীরবে চোখের জল ফেলতে ফেলতে বিদায় নেন। আর চরম পরিণতির দিকে এগিয়ে যায় হৈমন্তী।

✦ PREMIUM STUDY EXPERIENCE

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

১ম পত্র · অধ্যায় ৫

✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

'অপরিচিতা' গল্পের খাদযুক্ত গহনাটির নাম এয়ারিং।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

অনুপমদের পরিবারে ব্যাপক প্রভাব বিস্তারের কারণে অনুপমের মামাকে উদ্দেশ করে কথাটি বলা হয়েছে। 

‘অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের আসল অভিভাবক তার মামা। অনুপমের জীবনের সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই মামার ভূমিকাই প্রধান। তিনি অনুপমের চেয়ে মাত্র ছয় বছরের বড়ো। অথচ সংসারে তাঁর মতামত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফল্গু একটি নদীর নাম। যার ওপরের অংশে বালির আস্তরণ কিন্তু ভেতরে জলস্রোত প্রবাহিত। অনুপমের মামার সর্বেসর্বা । হয়ে সমস্ত দায়দায়িত্ব পালনের বিষয়টিকে এ নদীর সাথে তুলনা করা হয়েছে। অনুপমের মামা যেন ফল্গু নদীর বালির মতো তাদের সংসারটাকে নিজের অন্তরের মধ্যে শুষে নিয়েছেন'। আর এ বিষয়টি বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

হৈমন্তীর চরম পরিণতি আর ‘অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যাওয়ার মধ্যে যৌতুক প্রথার করাল গ্রাসের দিকটির সম্পর্ক বিদ্যমান ।

‘অপরিচিতা' গল্পের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কল্যাণী । কল্যাণী শিক্ষিত-মার্জিত ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। কল্যাণীর সাথে অনুপমের বিয়ে ঠিক হয়। কিন্তু অনুপমের মামা অর্থলিপ্স হওয়ায় বিয়ের দিন কল্যাণীর বাবাকে অসম্মান করে। পণের জিনিস বুঝে নিতে গিয়ে অনুপমের মামা কল্যাণী ও তার বাবাকে অসম্মান করে। এই জন্য প্রবল ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কল্যাণীর বাবা কল্যাণীকে বিয়ে না দিয়ে পাত্রপক্ষকে ফিরিয়ে দেন। কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ বাবুর কাছে সম্মান ও মর্যাদা অনেক মূল্যবান। সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সম্মান বা মর্যাদা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে সম্মান মর্যাদা নেই সেখানে সম্পর্ক হতে পারে না । তাই শম্ভুনাথ বাবু কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে দেন ।

উদ্দীপকের হৈমন্তীর জীবনের চরম পরিণতিও যৌতুক প্রথার জন্য হয়েছিল। হৈমন্তীর শ্বশুর-শাশুড়ি যৌতুকের লোভে ছেলেকে হৈমন্তীর সাথে বিয়ে দেয়। হৈমন্তীর বাবা তার শ্বশুর-শাশুড়িকে নির্দিষ্ট সময়ে যৌতুকের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় হৈমন্তীর ওপর নির্মম নির্যাতন নেমে আসে। শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। ফলে মনের দিক থেকে কষ্ট পেতে পেতে তার অন্তর শুকিয়ে রোগগ্রস্ত হয়ে যায়। তাই বলা যায় হৈমন্তীর করুণ পরিণতি ও কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যাওয়া একই সূত্রে গাঁথা অর্থাৎ উভয়ই যৌতুক প্রথার শিকার ।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

উদ্দীপকের হৈমন্তী যৌতুকের বলি হলেও ‘অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণী তার বাবা শম্ভুনাথ সেনের উপস্থিত বুদ্ধির কারণে যৌতুকের বলি না হওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ । 

‘অপরিচিতা' গল্পে যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী দিক তুলে ধরা হয়েছে। যৌতুক প্রথা সমাজে একটি ব্যাধির মতো। তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় যৌতুক প্রথা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। ‘অপরিচিতা' গল্পে আমরা সেই চিত্র দেখতে পাই। কল্যাণী শিক্ষিত-মার্জিত হওয়া সত্ত্বেও অনেক উপঢৌকনের মাধ্যমে বিয়ে ঠিক হয়।বিয়ের সময় পাত্রের মামা সেই উপঢৌকন আসল না নকল তা যাচাই করে দেখতে চান। একটি মেয়ের জন্য এবং তার পরিবারের জন্য এই অমর্যাদা ও অসম্মান অনেক বেদনার । এজন্য কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ বাবু মেয়ের লগ্নভ্রষ্ট হওয়ার ভয় উপেক্ষা করে অনুপমের সাথে বিবাহ ভেঙে দেন। ফলে কল্যাণী ভারতবর্ষে জেঁকে বসা পণপ্রথার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সচেতন করার ও নারী সমাজকে জাগ্রত করার মহান দায়িত্ব গ্রহণ করে। 

উদ্দীপকের হৈমন্তীর বাবা মেয়েকে পণপ্রথার নির্মম বলি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি। হৈমন্তীর শ্বশুর বাড়ির লোকদের অর্থলোভী মানসিকতার কারণে হৈমন্তীকে তিলে তিলে নিঃশেষ হয়ে যেতে হয়। হৈমন্তীর বাবার অর্থনৈতিক দুর্বলতা সম্পর্কে জানতে পারলে হৈমন্তীর ওপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। হৈমন্তীর ওপর চলা নির্যাতনের কথা তার বাবা অনুমান করতে পারলেও নিজের দুর্বলতার কারণে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেননি। তাই হৈমন্তীর জীবনে করুণ পরিণতি নেমে আসে।

উদ্দীপক ও 'অপরিচিতা' গল্পের আলোকে বলা যায়, কল্যাণীর বাবার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে হৈমন্তীর জীবনে করুণ পরিণতি হতো না। কল্যাণীর বাবা ছিলেন ব্যক্তিত্ববান মানুষ। তিনি অসম্মান ও অমর্যাদাকে মেনে নিতে পারেননি । সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাস, পারস্পরিক মর্যাদাবোধ অনেক মূল্যবান । সেই মর্যাদা না থাকলে আত্মীয়তার কোনো অর্থ নেই। কিন্তু উদ্দীপকের হৈমন্তীর বাবা ছিলেন নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। হৈমন্তীর দুঃখ-যন্ত্রণা বুঝতে পারলেও তিনি যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে বরং তার নিজের দুর্বলতাই মেয়ের দুঃখ-কষ্টের কারণ বলে মনে করেন। তাই হৈমন্তীর জীবনে নেমে আসে করুণ পরিণতি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের গৌরীশংকর বাবুর ভূমিকা যদি শম্ভুনাথ বাবুর মতো যৌতুক প্রথার বিরোধী হতো, তাহলে হৈমন্তীকে অকালে চলে যেতে হতো না ।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
0 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হৈমন্তী’…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২২ – অপরিচিতা, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)”