| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রেবার মামা সিলেটের…’ অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয় ২০২৫ – কৃষি, ভূগোল, ভূগোল ২য় পত্র (এইচএসসি)

রেবার মামা সিলেটের চা বাগানে চাকরি করেন। রেবার বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। সে সিলেটে মামার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে দেখল সেখানকার উৎপাদিত ফসলের সাথে তার এলাকায় উৎপাদিত ফসলের অনেক পার্থক্য রয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৪
যে সকল ফসল বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বা অর্থ উপার্জনের জন্য চাষাবাদ করা হয় তাকে অর্থকরী ফসল বলে।
বাংলাদেশের যেসব ফসল বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বা অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে চাষ করা হয়, তাকে বাংলাদেশের অর্থকরী ফসল বলে।
যেমন- পাট, চা, আলু, তুলা, তামাক প্রভৃতি।
উক্ত ফসলগুলো চাষ করে দেশ-বিদেশে রপ্তানি করে অর্থ উপার্জন করা হয় বলে এগুলোকে অর্থকরী ফসল বলা হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত রেবার বাড়ি ফরিদপুরে। উক্ত এলাকায় অর্থকরী ফসল হিসেবে পাট ও আখ চাষ করা হয়। নিম্নে এ সম্পর্কে বর্ণনা করা
হলো-
বাংলাদেশে পাট চাষের জন্য উপযোগী অবস্থাগুলো হলো- (১) উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের ফসল (২) পাট চাষের জন্য অধিক তাপমাত্রা অর্থাৎ ২০°-৩৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন। পাট চাষের জন্য ১৫০-২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন। নদী অববাহিকায় পলিযুক্ত দোআঁশ মাটি পাট চাষের জন্য বিশেষ সহায়ক।
অন্যদিকে আখ চাষের জন্য ১৯° ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা অধিক উপযোগী। আখচাষের জন্য কমপক্ষে ১০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। বেলে দোআঁশ ও কর্দমময় দোআঁশ মাটিতে আখ চাষ ভালো হয়। বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলা পদ্মা, মেঘনা নদীর পাশে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার মৃত্তিকা পলিযুক্ত দোআঁশ এবং তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে ২০-৩৫° এর মধ্যে থাকায় এ অঞ্চলগুলোতে পাট ও আখ চাষের অনুকূলে। যে কারণ এ অঞ্চলে উক্ত অর্থকরী ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে বর্ণিত রেবার এলাকায় উৎপাদিত ফসল হলো- পাট ও আখ। অন্যদিকে তার মামার বাড়ি সিলেট সেখানে উৎপাদিত ফসল হলো চা। দুই অঞ্চলে দুই ধরনের ফসল উৎপাদন করা হয়। এদের চাষাবাদ পদ্ধতিও ভিন্ন হয়ে থাকে। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
পাট চাষ পদ্ধতি: এটি চাষ করা খুবই সহজ। জমি চাষ করে বীজ বপন করে পাট চাষ করা হয়। এরপর তা বড় হলে কেটে পানিতে ভিজিয়ে আঁশ ছড়ানো হয় এবং তা রৌদ্রে শুকাতে হয়।
আখ চাষ পদ্ধতি: প্রথমে আখের কান্ড থেকে যে গিট রয়েছে সেখান থেকে যে মোথা বা কুশি বের হয় তা সংগ্রহ করে সেগুলো সমতল জমিতে নালা করে তা রোপণ করা হয়। এরপর মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। এভাবে চারা গাছ বের হয়ে কয়েক মাস পর বড় আকারের কান্ড বের হয়।
চা চাষ পদ্ধতি: প্রথমে পাহাড়ের ঢালু জমি পরিষ্কার করা হয়। এর চারা পৃথক বীজতলায় তৈরি করা হয়। চা উষ্ণ ও আর্দ্র অধিক উচ্চতার জলবায়ুতে চাষ করা হয়। চারাগুলো যখন ২০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ হয়, তখন সেগুলো চা-বাগানে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হয়। একপর্যায়ে সেটি অনেক বড় হয়ে পাতায় ভরে যায়। পরবর্তীতে সেই পাতাগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর সংগ্রহ করা হয়। এভাবে একটি চা গাছ থেকে বহু বছর চায়ের পাতা সংগ্রহ করা যেতে পারে।
সুতরাং বলা যয় যে, দুটি অঞ্চলের ফসলের মধ্যে ভূপ্রকৃতিগত এবং বপন, সংগ্রহ করার পদ্ধতির মধ্যে বেশ পার্থক্য বিদ্যমান।