| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রেশমা ও সালমা…’ রাজশাহী বোর্ড ২০১৯ – আচরণের উপর পরিবেশের প্রভাব, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

রেশমা ও সালমা সহপাঠী। রেশমার গড়ন আকর্ষণীয়। রেশমা ব্রাজিল ফুটবল দলকে পছন্দ করে বলে সালমা তাকে খুব পছন্দ করে। অন্যদিকে শীলা ও সালমা একই সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করে বলে শীলা সালমার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৪
আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণ হলো ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে মেলামেশা, ভাব- বিনিময় বা সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে এক ধরনের আপেক্ষিক আকাঙ্খা।
পরিচিতিকে আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণের উপাদান বলা হয়, কারণ- কোনো ব্যক্তির সাথে পরিচয় কতটুকু তার উপর আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণের মাত্রা বিশেষভাবে নির্ভরশীল। কোনো ঘটনা বা বিষয় যদি বার বার দেখা দেয় অথবা অনেকবার আমাদের চোখের সামনে আসে তাহলে সেই ঘটনা বা বিষয়ের প্রতি আমাদের আকর্ষণ বেড়ে যেতে পারে। কোনো বন্ধু বা মানুষের ক্ষেত্রে এরকম হতে পারে। জায়ঙ্ক কতগুলো পরীক্ষণ করেন। কতগুলো শব্দ বার বার দেখান হয়। যে শব্দগুলো বেশি বার দেখান হয় সেগুলো তারা পছন্দ করে। আবার কতগুলো লোকের মুখমণ্ডলের ছবি পারীক্ষদের দেখান হয়। কিছু, ছবি বেশিবার (প্রায় ২৫ বার), আর কিছু ছবি কমবার (মাত্র দুবার) দেখান হয়। যে ছবিগুলো পারীক্ষদের বেশিবার দেখান হয়েছে, সে ছবিগুলোই তারা বেশি আকর্ষণীয় বলে উল্লেখ করেছে।
আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণের ক্ষেত্রে রেশমার মধ্যে যে উপাদানটি পরিলক্ষিত হয় তা হলো দৈহিক গড়ন। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণ নির্ণয়কারী উপাদানসমূহের মধ্যে চেহারা বা দৈহিক গড়ন অন্যতম প্রধান উপাদান। সাধারণত দৈহিক গড়ন ও চেহারা ব্যক্তির প্রতি প্রাথমিক আকর্ষণ সৃষ্টির ব্যাপারে একটি প্রাথমিক ধারণা তৈরি করে থাকে। আকর্ষণীয় মুখশ্রী ও অনুকূল দৈহিক গড়ন এর প্রতি অমরা সবসময়ই আগ্রহান্বিত। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন শরীর এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পোশাক সহজেই মনোযোগ আকর্ষণ করে থাকে। দৈহিক আকর্ষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির গাত্রবর্ণ গৌর বা ফর্সা রঙের প্রতি দুর্বলতা অধিকাংশ লোকের মধ্যে দেখা যায়। দৈহিক সৌন্দর্যের মধ্যে সুঠাম দেহের অধিকারী হলে ব্যক্তি সহজেই অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। আবার সুন্দর মুখশ্রীও অন্যকে আকর্ষণ করে। সাধারণত ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে বেশি শারীরিক আকর্ষণ বা চেহারা দ্বারা প্রভাবিত হয়। আবার মেয়েরা তাদের সঙ্গী উচ্চ পদমর্যাদা বিশিষ্ট, বুদ্ধিমান, সমগোত্রীয় এবং একই ধর্মাবলম্বী হলে তার প্রতি বেশি আকর্ষণ অনুভব করে। শারীরিক সৌন্দর্য্যের মধ্যে শারীরিক অবয়ব বা স্বাস্থ্যের বিষয়টিও এসে যায়। সুঠাম দেহের অধিকারী হলে ব্যক্তি সহজেই অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। এজন্য চিত্রকর্মে নারী পুরুষের হৃষ্টপুষ্ট ও সুঠাম দেহের অধিকারীদের দেখান হয়।
আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণের ক্ষেত্রে সালমা ও শীলার মধ্যে যে উপাদান দুটি বিদ্যমান তা হলো পরিচিতি ও নৈকট্য। নিচে উপাদান দুটি বিশ্লেষণ করা হলো-
পরিচিতি: কোনো ব্যক্তির সাথে পরিচয় কতটুকু তার উপর আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণের মাত্রা বিশেষভাবে নির্ভরশীল। কোন ঘটনা বা বিষয় যদি বার 'বার দেখা দেয় অথবা অনেক বার আমাদের চোখের সামনে আসে তাহলে সেই ঘটনা বা' বিষয়ের প্রতি আমাদের আকর্ষণ বেড়ে যেতে পারে। কোনো বস্তু বা মানুষের ক্ষেত্রে এরকম হতে পারে। জায়ঙ্ক (Zajonc, ১৯৬৮) কতগুলো পরীক্ষণ করেন। কতগুলো শব্দ বার বার দেখান হয়। যে শব্দগুলো বেশি বার দেখান হয় সেগুলো তারা পছন্দ করে। আবার কতগুলো লোকের মুখমন্ডলের ছবি পারীক্ষদের দেখান হয়। কিছু ছবি বেশি বার (প্রায় ২৫ বার), আর কিছু ছবি কমবার (মাত্র দু'বার) দেখানো হয়। যে ছবিগুলো পারীক্ষদের বেশিবার দেখান। হয়েছে, সে ছবিগুলোই তারা বেশি আকর্ষণীয় বলে উল্লেখ করেছে।
নৈকট্য: কাছাকাছি থাকলে আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণ বাড়ে। দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে আন্তঃক্রিয়ার মাত্রা বৃদ্ধি পেলে পারস্পরিক পছন্দের মাত্রাও বেড়ে যায়। একই সাথে পছন্দের মাত্রা বেড়ে গেলে একে অপরের সাথে ঘন ঘন সাক্ষাৎ করতে পছন্দ করে। দেখা গেছে যারা একই সিঁড়ি দিয়ে উঠা নামা করে বা একই কাপড় কাঁচার ঘর ব্যবহার করে তাদের মধ্যে অন্যদের চেয়ে বেশি বন্ধুত্ব দেখা যায়। একই সিঁড়ি দিয়ে উঠানামার কারণে তাদের মধ্যে দেখা সাক্ষাৎ এর সম্ভাবনা বেড়ে যায়, ফলে তারা একে অন্যকে বেশি জানতে পারে। আবার একই স্থানে কাপড় কাঁচতে আসার কারণে তাদের মধ্যে সামাজিক লেনদেনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এজন্য তাদের মধ্যে আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণ গড়ে উঠে।