| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রফিক ও রিতা…’ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ ২০২৬ – শিক্ষণ ও স্মৃতি, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

রফিক ও রিতা ভাই-বোন। রফিকের বয়স ১৪ বছর। তার কণ্ঠস্বরের হঠাৎ পরিবর্তন আসায় সে অন্যদের সাথে কথা বলতে লজ্জা পায়। রফিকের ছোট বোন রিতার বয়স ১২ বছর। রিতা প্রায়ই একা মন খারাপ করে বসে থাকে। খেতে চায় না। সবসময় বিষণ্ণ থাকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
শিক্ষণ হলো সেই প্রক্রিয়া যার সাহায্যে আমরা আচরণের মধ্যে 'এমন পরিবর্তন আনতে পারি য্য পরিবেশের সঙ্গে আমাদের সম্বন্দ্বের উন্নতি সাধন করে।
শিক্ষণ ও কর্মসম্পাদন দুটি আলাদা বিষয় হলেও এরা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। অভ্যাস ও অনুশীলনের ফলে আচরণের ধারার তুলনামূলক দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনই হলো শিক্ষণ। অর্থাৎ বার বার অনুশীলনের ফলে আচরণের যে পরিবর্তন হয় সেই পরিবর্তনই হলো শিক্ষণের সূচক। অপরদিকে আচরণের এ পরিবর্তন পরিমাপ করা যায় কর্মসম্পাদনের মাধ্যমে। কর্মসম্পাদন হচ্ছে কোনো ব্যক্তি একটি বিশেষ মুহূর্তে যা করে। অর্থাৎ, শিক্ষণ হলো কি না অথবা কতটুকু শিক্ষণ হলো তা পরিমাপ করা হয় কর্মসম্পাদনের সাহায্যে।
কুকুরের ঘন্টাধ্বনির প্রতি লালা নিঃসরণের পদ্ধতিটি হলো চিরায়ত সাপেক্ষকরণ। নিচে পদ্ধতিটি বর্ণনা করা হলো-
প্রখ্যাত রাশিয়ান শরীরবিদ আইভ্যান প্যাভলভ সর্বপ্রথম সাপেক্ষীকরণ বা সাপেক্ষ প্রতিবর্তী ক্রিয়া ধারণাটি প্রচলিত করেন। তার এই মৌলিক গবেষণার জন্য তিনি ১৯০৪ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন।
সাপেক্ষ প্রতিবর্তী ক্রিয়ার পরীক্ষণে প্যাভলভ একটি যান্ত্রিক উপায়ের উদ্ভাবন করেন। এ পদ্ধতিতে যন্ত্রের সাহায্যে একটি কুকুরের মুখে খাদ্য দেয়া যেত এবং কুকুরের মুখ নিঃসৃত লালা এর পরিমাণ পরিমাপ করা যেত। কুকুরের মুখে মাংসের টুকরা দিলে লালা নিঃসরণ হয় এটি ছিল একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তিনি কুকুরের মুখে মাংসের টুকরা দেবার পূর্ব মুহূর্তে একটি ঘন্টা বাজাবার ব্যবস্থা করেছিলেন। ঘন্টা শুনে কুকুরটি কান খাড়া করে দাঁড়াতো কিন্তু লালা ফেলত না। ঘন্টা দেয়ার কয়েক সেকেন্ড পরে মাংসের টুকরা দেয়া হয়। এভাবে কয়েকবার প্রচেষ্টার পর প্যাভলভ শুধু ঘণ্টা দিলেন কিন্তু মাংসের টুকরা দিলেন না। দেখা গেল শুধু ঘন্টা ধ্বনিতে কুকুর লালা ফেলছে। ঘন্টাধ্বনির মাধ্যমে এভাবে লালা নিঃসরণকে প্যাভলভ সাপেক্ষ প্রতিবর্তী ক্রিয়া নামে আখ্যায়িত করেন।
"রিতা ও রফিকের আচরণ পরিবর্তনের কারণ এক হলেও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ভিন্ন”- উক্তিটি যথার্থ। ( বয়ঃসন্ধিকাল সময়টি ছেলে ও মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রে আসলেও তাদের বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন হয় ভিন্ন ধরনের। বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয় সন্তান উৎপাদনকারী ব্যবস্থা ও অন্যান্য যৌন অঙ্গের। মেয়েদের এ সময়ে ডিম্বকোষের বৃদ্ধি হয়। এ ডিম্বকোষে সন্তান উৎপাদনকারী ডিম্ব তৈরি হয়। মাধ্যমিক বা গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে আছে স্তন, গুপ্তলোম ও পেলভিসের ক্রমবর্ধমান প্রস্থ ও গভীরতা। পুরুষের মধ্যে সন্তান উৎপাদনকারী অঙ্গসমূহের মধ্যে আছে অণ্ডকোষ (যা শুক্রাণু তৈরি করে), পুংলিঙ্গ (যা দিয়ে শুক্রাণু বের হয়) এবং অন্যান্য আন্তসংযোগকারী অঙ্গসমূহ ও নালি। এরা শুক্রাণু সংগ্রহ করে এর মধ্যে তরল পদার্থের সংযোজন করে এবং অণ্ডকোষ থেকে তা পুংলিঙ্গে বহন করে নিয়ে আসে। গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আছে গুপ্তলোমের আবির্ভাব, মুখ ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গে লোমের উপস্থিতি ও কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন। গুপ্তলোমের আবির্ভাবের এক বৎসরের মধ্যে প্রথম বীর্যপাত দেখা দেয়। মেয়েদের মধ্যে ১০/১১ বৎসর বয়সে প্রথম স্তন উঠতে আরম্ভ করে। এটাকে প্রজনন ব্যবস্থা পরিবর্তনের একটা বহিঃপ্রকাশ বলে ধরে নেয়া হয়। প্রথম ঋতুর ২ বৎসর আগে স্তনের বৃদ্ধি হয়। মেয়েরা কোন বয়সে ঋতুবতী হয় তা সঠিকভাবে বলা যায় না। তবে মেয়েদের ঋতু শুরু হয় ১২/১৩ বছর বয়সে। ঋতুর বয়স ১১ থেকে ১৫ বৎসরের মধ্যে হলে ভাল হয়। অনেকে এর আগেও ঋতুবতী হতে পারে। উদ্দীপকে, রিতার খাবারের প্রতি অনীহা, বিষণ্ণ থাকা এবং রফিকের কন্ঠস্বরের পরিবর্তন হওয়া ছেলে ও মেয়েভেদে ভিন্ন ভিন্ন বয়ঃসন্ধিকালীন বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। সুতরাং, উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ছেলে ও মেয়ে ভেদে বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্যগুলো ভিন্নরকম হয়।