| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রফিক সাহেব আত্মীয়-বান্ধব…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

রফিক সাহেব আত্মীয়-বান্ধব মানুষ। শহরে তাঁর একটি বাসা আছে। তাঁর চাচাত ভাই বাদশা মিয়া গরিব মানুষ। তাই বাদশা মিয়াকে রফিক সাহেব বিনা ভাড়ায় তাঁর বাসায় থাকতে দেন। কিন্তু দুই বছর পেরোতে না পেরোতেই বাদশা মিয়া তার জ্যাঠাত ভাইয়ের বাসাটিকে নিজের বাসা বলে দাবি করে। ফলে দুই ভাইয়ের মধ্যে শুরু হয় চরম দ্বন্দ্ব। একদিন বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে বাদশা মিয়া তার জ্যাঠাত ভাই রফিক সাহেবের মাথায় রামদা দিয়ে কোপ মারে। এতে রফিক সাহেব ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
"আমাদের অদৃষ্ট মেঘমুক্ত থাকবে না শেঠজি।"- উক্তিটি মিরজাফরের।
"আমার সারা অস্তিত্বজুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়"- কথাটি দ্বারা নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর বিরুদ্ধে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর বর্তমান অবস্থা বোঝাতে চেয়েছেন।
বাংলার মসনদে আরোহণের পর থেকেই নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য প্রাসাদ ষড়যন্ত্র শুরু করেন সিরাজের খালা ঘসেটি বেগম। নবাব মসনদে বসার পর থেকেই ঘসেটি বেগমের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ বিরাজমান ছিল, নবাব তা বুঝতে পারতেন। মিরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভের সঙ্গে ঘসেটি বেগম সিরাজের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ওদিকে দেশের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ইংরেজদের সঙ্গে সিরাজের দ্বন্দ্বও দিন দিন বেড়েই চলছিল। সিরাজ তাঁর বর্তমান অবস্থা বোঝাতেই স্ত্রী লুৎফুন্নেসার কাছে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
উদ্দীপকের বাদশা মিয়ার আচরণ 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগম চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
মানুষের জীবনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত হলো তার আত্মীয়স্বজন। কিন্তু সেই আত্মীয়স্বজনকেই দেখা যায় মাঝে মাঝে বিশ্বাসঘাতকতা করতে। কারও আপন মানুষ যদি বিশ্বাসঘাতক হয় তাহলে তার জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের এমনই এক বিশ্বাসঘাতক চরিত্র হলো ঘসেটি বেগম। ঘসেটি বেগম ছিলেন সিরাজের খালা। সিরাজ তাকে মায়ের মতোই ভালোবাসতেন আর শ্রদ্ধা করতেন। কিন্তু ঘসেটি বেগম সিরাজের প্রতি ছিলেন হিংসাত্মক। রাজ্যের মোহে পড়ে তিনি আপন বোনের ছেলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন। সিরাজের পতনের জন্য তিনি অন্যদের সঙ্গে হাত মেলান। নিজের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেন। উদ্দীপকের বাদশা মিয়ার চরিত্রেও এমন রূপ পরিলক্ষিত হয়। সে সম্পদের মোহে পড়ে নিজ আত্মীয় রফিক সাহেবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং শেষ পর্যন্ত তার জীবননাশের কারণ হয়, যা আসলে ঘসেটি চরিত্রের অন্যরূপ। এভাবে উদ্দীপকের বাদশা মিয়ার আচরণ 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগম চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকের রফিক সাহেব ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজের পরিণতি এক হলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষ বরাবরই স্বার্থান্বেষী জীব। স্বার্থের জন্য তারা অনেক সময় গর্হিত কাজে শামিল হয়। এই স্বার্থ বিভিন্ন ধরনের হয়। কখনো তা ক্ষুদ্র স্বার্থ আবার কখনো তা বৃহৎ স্বার্থ। যে স্বার্থের কারণেই হোক না কেন, গর্হিত কাজে শামিল হওয়া সমীচীন নয়।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজ এমনই এক স্বার্থপরতার নির্মম বলি হওয়া চরিত্র। তিনি ছিলেন বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাব। তাঁর এই নবাবি তাঁর আপন খালা ঘসেটি বেগম সহ্য করতে পারেননি। হিংসার বশবর্তী হয়ে তিনি রাজ্যের অন্যদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সিরাজের বিরুদ্ধে কূটকৌশল রচনা করেন। তারা রাজ্য লাভের নেশায় এত বেশি বুঁদ হয়েছিলেন যে নিজেদের রাজ্যকে ইংরেজদের হাতে তুলে দিতেও পিছপা হননি। ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বিশ্বস্ত ব্যক্তি দ্বারা সিরাজের নিহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলার আকাশ থেকে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়। উদ্দীপকের রফিক সাহেবের পরিণতিও, সিরাজের মতো। তিনিও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার। তবে রফিক সাহেবের এমন পরিণতির' পর শুধু তার নিজস্ব সম্পদ পরহস্তগত হয়, কিন্তু সিরাজের এমন পরিণতির ফলে পুরো দেশ অন্যের অধীনে চলে যায়।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেশপ্রেমিক নবাব সিরাজউদ্দৌলা দেশের স্বার্থে সবাইকে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে ইংরেজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য শপথ করান। তা সত্ত্বেও প্রধান রাজ-অমাত্য মিরজাফর বিশ্বাসঘাতকতা করেন। ফলে নবাব পলাশির যুদ্ধে পরাজিত, বন্দি এবং পরে নির্মমভাবে নিহত হন। নবাব সিরাজের এমন পরিণতির পেছনে ব্যক্তিস্বার্থের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বার্থও ছিল। তবে রফিক সাহেবের করুণ পরিণতির জন্য শুধু ব্যক্তিস্বার্থ ছিল প্রধান কারণ। এই বিবেচনায় তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রফিক সাহেব ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজের পরিণতি এক হলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।